বিশ্বকাপের মঞ্চে লিওনেল মেসি মানেই নতুন কোনো মহাকাব্য। কানসাস সিটির মাঠে আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিয়ে শিরোপা ধরে রাখার মিশন দুর্দান্তভাবে শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। আর এই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডে ভাগ বসিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী এই কিংবদন্তি। তবে আলজেরিয়ার কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ মনে করেন, মেসির এই ইতিহাস গড়ার পথটা সহজ করে দিয়েছে তার নিজের দলের রক্ষণভাগের মারাত্মক সব ভুল। আবার আর্জেন্টাইন অধিনায়কের প্রশংসা করতেও ভোলেননি তিনি।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে শিষ্যদের কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে পেতকোভিচ বলেন, “মেসির ক্লাস চিরস্থায়ী। কারণ, আমরা এখানে সাধারণ কোনো খেলোয়াড়কে নিয়ে কথা বলছি না। আমরা এমন একজন ফুটবলারকে নিয়ে কথা বলছি, যিনি ক্যারিয়ারে সাত বা আটবার ব্যালন ডি’অর জিতেছেন।” প্রতিপক্ষের প্রশংসা করলেও নিজের দলের ওপর ক্ষোভ লুকাতে পারেননি তিনি। আলজেরিয়ান কোচ আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যবশত, প্রথম ও দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রে আমরাই তাকে সুযোগ তৈরি করে দিয়েছি এবং তার জন্য গোল করাটা সহজ করে দিয়েছি।’
আলজেরিয়ান গোলকিপার ও জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদানের ভুলে ম্যাচের শুরুর ধাক্কা সামলাতে পারেনি উত্তর আফ্রিকার দলটি। এরপর মেসির দ্বিতীয় গোলের ক্ষেত্রেও জিদানের হাত থেকে ফস্কে যাওয়া বল জালে জড়ায়। ৭৬তম মিনিটে নিকো গঞ্জালেসের পাস থেকে বুলেট গতির শটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন এলএমটেন।
পেতকোভিচ বলেন, ‘আর্জেন্টিনা আজ ১০টি শট নিয়েছে, যার মধ্যে ৭টিই ছিল মেসির। দলের সবাই তার জন্য খেলে। তবে আমাদের নিজেদেরই দোষ দিতে হবে, এই ভুল থেকে শিক্ষা নিতে হবে।’
এই হারের ধাক্কা ভুলে আগামী ২২শে জুন জর্ডান এবং তার পাঁচ দিন পর অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে গ্রুপ ‘জে’-এর বাকি ম্যাচগুলোতে ঘুরে দাঁড়াতে মরিয়া আলজেরিয়া। দলের প্রতি বিশ্বাস রেখে পেতকোভিচ বলেন, ‘তিনটি গোল খেয়েছি বলে আমাদের ভেঙে পড়লে চলবে না। পরের ম্যাচগুলোতে আমাদের ভিন্ন রণকৌশল থাকবে এবং দলের সেই আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনতে হবে।’
