জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী এলাকায় পুলিশ কর্মকর্তার ছেলে ইমাম হাসানকে (তাইম) হত্যার ঘটনায় করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে সূচনা বক্তব্যসহ সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন ধার্য করা হয়েছে।
রোববার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এ মামলায় মোট আসামি ১১ জন। এদের মধ্যে গ্রেপ্তার দুই আসামিকে আজ সকালে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন-যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন ওসি আবুল হাসান ও সাবেক এসআই শাহাদাত আলী।
এছাড়া পলাতক আসামিরা হলেন-ডিএমপির তৎকালীন কমিশনার হাবিবুর রহমান, যুগ্ম কমিশনার সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, ওয়ারি জোনের সাবেক ডিসি ইকবাল হোসাইন, এডিসি শাকিল মোহাম্মদ শামীম, ডেমরা জোনের তৎকালীন এডিসি মো. মাসুদুর রহমান মনির, তৎকালীন সহকারী পুলিশ কমিশনার নাহিদ ফেরদৌস, যাত্রাবাড়ী থানার তৎকালীন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) জাকির হোসেন, পুলিশ পরিদর্শক (অপারেশন) ওহিদুল হক মামুন ও এসআই (নিরস্ত্র) সাজ্জাদ উজ জামান।
এদিন গ্রেপ্তার আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ পড়ে শোনান ট্রাইব্যুনাল। অভিযোগ পড়া শেষে কাঠগড়ায় থাকা আবুল হাসান ও শাহাদাত আলীকে দোষ স্বীকার করবেন কি না জিজ্ঞেস করেন বিচারক শাহরিয়ার কবির। এ সময় আসামিরা দাঁড়িয়ে নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন। পরে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া সূচনা বক্তব্যের জন্য আগামী ২৯ মার্চ দিন নির্ধারণ করা হয়।
মামলায় আবুল হাসানসহ প্রথম আসামির বিরুদ্ধে হত্যা, কমান্ড রেসপনসিবিলিটিসহ ৩টি অভিযোগ আনা হয়। ৮-১০ নম্বর আসামির বিরুদ্ধে আনা হয় দুটি অভিযোগ। এছাড়া শাহাদাত আলী নামের আরেক আসামির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক কারণে নিপীড়নের অভিযোগ আনা হয়। এতে বলা হয়, তিনি মিথ্যা সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন। এতে জুলাই আন্দোলনকারীদের নামে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয়।
ট্রাইব্যুনালে প্রসিকিউশনের পক্ষে ছিলেন প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম, প্রসিকিউটর গাজী এমএইচ তামিম, ফারুক আহাম্মদ, আবদুস সোবহান তরফদারসহ অন্যরা। অন্যদিকে গ্রেপ্তার দুজনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আবুল হাসান। এছাড়া পলাতক ৯ জনের পক্ষে ছিলেন স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী এম হাসান ইমাম ও লোকমান হাওলাদার।
এর আগে, গত ২৮ জানুয়ারি প্রাইমা ফেসি গ্রাউন্ড বিবেচনায় ১১ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদন করে প্রসিকিউশন। গত বছরের ২৪ ডিসেম্বর তাদের বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের জমা দেয়া আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়, জুলাই অভ্যুত্থান চলাকালীন ২০২৪ সালের ২০ জুলাই যাত্রাবাড়ীর কাজলা এলাকায় হাবিব-সুদীপসহ ডিএমপির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে খুব কাছ থেকে গুলি চালিয়ে নির্মমভাবে তাইমকে হত্যা করা হয়। বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার বন্ধু রাহাতকেও গুলি চালায় পুলিশ। এসব ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে হত্যার নির্দেশ, উসকানি-প্ররোচনাসহ মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ।
উল্লেখ্য, রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইনসের উপপরিদর্শক মো. ময়নাল হোসেন ভূঁইয়ার ছেলে ইমাম হাসান। সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনকে কেন্দ্র করে পুলিশের গুলিতে ২০২৪ সালের ২০ জুলাই ইমাম হাসান যাত্রাবাড়ীর কাজলা পদচারী–সেতুর কাছে মারা যান। ইমাম নারায়ণগঞ্জের সরকারি আদমজী নগর এমডব্লিউ কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন।
যাত্রাবাড়ীতে ইমাম হাসান হত্যা
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুরসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ
স্টাফ রিপোর্টার
অনলাইন
৩ মাস আগে
২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬, ১২ঃ৩৮ (অপরাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
