আজকের পত্রিকা
দৈনিক আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘ঢাকা-দিল্লি বরফ গলছে’। খবরে বলা হয়, দেড় বছরের অস্বস্তিকর দূরত্বের পর বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক আবার স্বাভাবিকতার পথে এগোচ্ছে—এমনই ইঙ্গিত মিলছে দুই দেশের কূটনৈতিক তৎপরতায়। স্থবিরতার এই সময়টিকে ‘জমে থাকা বরফ’-এর সঙ্গে তুলনা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁরা বলছেন, সম্পর্কের সেই বরফ আবার গলতে শুরু করেছে, তবে তা ধীরে এবং নিয়ন্ত্রিতভাবে।
বাংলাদেশ-ভারত সস্পর্ক নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেছেন, ‘ভারত আগেই বলেছিল, তারা কেবল নির্বাচিত সরকারের সঙ্গেই সম্পর্ক করবে। সেটাই হয়তো এখন একটু একটু কিছু করে শুরু হয়েছে।’
প্রতিবেশী দুই দেশের সম্পর্ক ভয়ানক টানাপোড়েনের মধ্যে পড়ে বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থানের পর। অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে ভারতে আশ্রয় নেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেড় যুগের এক বিশেষে প্রেক্ষাপটের পর এই রাজনৈতিক পটপরিবর্তন এবং তার সঙ্গে শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়া নিয়ে দিল্লির অবস্থানে বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। ভারতও তার দিক থেকে নিজেদের মতো করে প্রতিক্রিয়া দেখাতে থাকে। সব মিলিয়ে সীমান্তে হত্যাকাণ্ড, তিস্তা চুক্তি ঝুলে থাকা, বাণিজ্যে ভারসাম্যহীনতা ও ভিসা জটিলতায় জন-অসন্তোষ বেড়ে যায় বহুগুণ।
অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্রনীতির অগ্রাধিকার ও আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে চীন-ভারত প্রতিযোগিতাও সম্পর্ককে প্রভাবিত করে। এর সঙ্গে গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দুই দেশেই উত্তেজনা বাড়ায়। ফলে দীর্ঘদিনের সহযোগিতা ও কৌশলগত অংশীদারত্ব থাকলেও আস্থার সংকট স্পষ্ট হয়ে ওঠে এবং সম্পর্কের উষ্ণতা কমে যায়। সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রশ্নে ভারতের দিক থেকে বারবার বলা হচ্ছিল, বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের অপেক্ষায় আছে তারা।
দেশে নির্বাচনের পর গত সপ্তাহে দায়িত্ব নিয়েছে নতুন সরকার। শপথ নেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যে নতুন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমাদের পররাষ্ট্রনীতি সব দেশের সঙ্গে সমমর্যাদা নিয়ে। সব দেশের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক থাকবে, বন্ধুত্ব থাকবে; কিন্তু সেটা হবে সমতার ভিত্তিতে, পারস্পরিক মর্যাদার ভিত্তিতে।’
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জানতে চাইলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রদূত এম হুমায়ুন কবির আজকের পত্রিকাকে বলেন, ‘ভিসা ও রেল চলাচলের বিষয় এখন আলোচিত হচ্ছে। এটা সম্পর্ক উন্নতির ভালো লক্ষণ। তবে পুশ ইন, বর্ডার কিলিং বা পানিবণ্টনের মতো বিষয়গুলোর ওপরই নির্ভর করবে, সম্পর্কের উন্নতি কতটা হলো।’
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর নিরাপত্তা ও রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশে ভারতীয় মিশনগুলো ভিসা কার্যক্রম কঠোরভাবে সীমিত করে। এটা আরও প্রকট হয় গত ডিসেম্বরে ঢাকায় ইনকিলাব মঞ্চের নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যার পর উদ্ভূত পরিস্থিতিতে। ভারতের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ মিশনের সামনে বিক্ষোভ, এমনকি হামলার ঘটনাও ঘটে। এরপর নয়াদিল্লি, আগরতলা ও কলকাতা থেকে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়া সাময়িক বন্ধ করা হয়েছিল। ভারতও বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া একেবারের সীমিত করে আনে। এতে দুই দেশের মানুষে মানুষে যোগাযোগে বড় ধরনের প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশে নতুন সরকার আসার পর দুই দেশের সম্পর্কের সবচেয়ে দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে ভিসা পরিষেবায়। গত শুক্রবার নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে ভারতীয়দের ভিসা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। একই দিন সিলেটে ভারতের মিশনের জ্যেষ্ঠ কনস্যুলার কর্মকর্তা অনিরুদ্ধ দাস সাংবাদিকদের বলেছেন, ভিসা পরিষেবা পূর্ণমাত্রায় চালুর প্রস্তুতি নিচ্ছে তাঁর দেশ। বর্তমানে মেডিকেল ও ডাবল-এন্ট্রি ভিসা দেওয়া হচ্ছে। পর্যটনসহ অন্যান্য ভিসা শিগগির চালু করা হবে।
কূটনৈতিক সূত্র বলছে, ভিসা নিয়ে এই পারস্পরিক পদক্ষেপ আসলে বৃহত্তর রাজনৈতিক বার্তারই অংশ। ঢাকায় নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের শপথ অনুষ্ঠানে ভারতের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন সে দেশের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা। তিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির একটি চিঠি হস্তান্তর করেন।
এরপর শুক্রবার দিল্লিতে সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ভারত একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশকে সমর্থন করে এবং ঐতিহাসিক সম্পর্ক আরও জোরদার করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে বিএনপির মহাসচিব ও নতুন সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার পথে বাধা হবে না। তাঁর মতে, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কোনো ‘একক ইস্যুতে’ আটকে থাকবে না।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি নতুন সরকারের বাস্তববাদী অবস্থানের ইঙ্গিত—প্রতিবেশী সম্পর্ককে আবেগ নয়, কৌশল দিয়ে পরিচালনার প্রয়াস। এই বার্তা কেবল সৌজন্যমূলক নয়; বরং সরকার পরিবর্তনের পর সম্পর্কের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার কৌশলগত ইঙ্গিত।
সম্পর্ক স্বাভাবিক হওয়ার আরেকটি সম্ভাব্য ক্ষেত্র হলো যোগাযোগ। সড়ক, রেল ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম জানিয়েছেন, ভারত-বাংলাদেশ রেল যোগাযোগ আবার চালুর বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। দেশের স্বার্থ বিবেচনায় ১৫ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
রেল যোগাযোগ আবার চালু হলে বাণিজ্য, চিকিৎসা, শিক্ষা ও পর্যটনে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। একই সঙ্গে এটি হবে রাজনৈতিক আস্থার একটি বাস্তব পরীক্ষা।
সবশেষ গতকাল শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের অনুষ্ঠানে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার বলেন, ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্ক কৃত্রিম নয়, অকৃত্রিম। বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির যৌথ ঐতিহ্যের উল্লেখ করে তিনি দুই দেশের মানুষের গভীর ঐতিহাসিক বন্ধনের কথাও স্মরণ করেন।
কূটনৈতিক মহল বলছে, ভিসা, রাজনৈতিক বার্তা, সাংস্কৃতিক সম্পৃক্ততা ও যোগাযোগ পুনর্বিবেচনা—সব মিলিয়ে দুই দেশই সম্পর্ক পুনর্বিন্যাসের পথে হাঁটছে। তবে এ প্রক্রিয়া কিছুটা হলেও হিসেবি।
তবে কেউ কেউ বলছেন, এই বরফ গলা দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতায় রূপ নেবে। আবার কেউ বলছেন, এটা আঞ্চলিক রাজনীতি ও অভ্যন্তরীণ উত্তেজনার সম্পর্কে শীতলতা ফিরিয়ে আনবে। তবে দুই দেশের কূটনৈতিক অঙ্গনে আপাতত আশাবাদী সুর, যদিও সেটা সতর্ক আশাবাদ হিসেবেই এগিয়ে যাচ্ছে।
অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, ‘খেয়াল রাখতে হবে সম্পর্কে যেন ভারসাম্য থাকে। অতীতে আমরা দেখেছি, দুই দেশের সম্পর্ক বলতে ছিল কেবল বিশেষ একটি দলের সঙ্গে, জনগণের সঙ্গে নয়। সে জায়গা থেকে ভারতকে বেরিয়ে আসতে হবে। তা না হলে সম্পর্ক টেকসই হবে না। সম্পর্ক হতে হবে জনগণের সঙ্গে, কোনো দল বা ব্যক্তির সঙ্গে নয়।’
প্রথম আলো
‘নতুন দুই মেট্রোরেলের ব্যয় আগের চেয়ে দ্বিগুণের বেশি’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, ঢাকায় নতুন দুটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে যে ব্যয় দাঁড়াচ্ছে, তা উত্তরা-মতিঝিল পথের দ্বিগুণের বেশি। রাজধানীর উত্তরা থেকে মতিঝিল পর্যন্ত মেট্রোরেল নির্মাণে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় হয়েছে ১ হাজার ৫৭৪ কোটি টাকা। অন্যদিকে নতুন দুই পথে খরচ দাঁড়াচ্ছে কিলোমিটারে ৩ হাজার ৬১৮ কোটি টাকা। যদিও সরকার এই বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেয়নি।
উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে মেট্রোরেলের আনুষ্ঠানিক নাম লাইন-৬। এটির ঠিকাদার নিয়োগ শুরু হয় ২০১৫ সালে। সেই সময় আরও পাঁচটি পথে মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা হয়। দুটি পথে নির্মাণকাজ শুরুর অপেক্ষা। একটি হলো কমলাপুর থেকে বিমানবন্দর পর্যন্ত এবং নর্দ্দা থেকে পূর্বাচল পর্যন্ত, নাম এমআরটি লাইন-১ (৩১ কিলোমিটারের বেশি)। অন্যটি সাভারের হেমায়েতপুর থেকে মিরপুর এবং গুলশান হয়ে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ (উত্তর)। এটির দৈর্ঘ্য ২০ কিলোমিটারের মতো। দুটি মেট্রোরেল লাইনেরই কিছু অংশ উড়াল ও কিছু অংশ পাতালপথে হবে।
নতুন দুই মেট্রোরেল পথে মোট ব্যয় দাঁড়াচ্ছে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এই বিপুল ব্যয় মেট্রোরেল নির্মাণকেই অনিশ্চয়তায় ফেলছে। রাজধানীতে মেট্রোরেল নির্মাণ ও পরিচালনার দায়িত্বে থাকা ঢাকা মাস ট্রানজিট কোম্পানি লিমিটেড (ডিএমটিসিএল) সূত্র বলছে, এত বেশি ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণ করা হলে যাত্রীদের ওপর ভাড়ার চাপ বাড়বে। অন্যদিকে সরকারের ঋণের বোঝাও বেড়ে যাবে।
বিপুল ব্যয়ে মেট্রোরেল নির্মাণের বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেয়নি। নির্বাচিত বিএনপি সরকারের ওপর সিদ্ধান্তের ভার পড়েছে। বিশ্লেষকেরা বলছেন, মেট্রোরেল নির্মাণে এত বেশি ব্যয়ের কারণ দরপত্রে প্রতিযোগিতার সুযোগ কম থাকা। এখন প্রতিযোগিতা হচ্ছে শুধু জাপানি ঠিকাদারদের মধ্যে। প্রতিযোগিতা বাড়াতে পারলেই খরচ কমবে।
ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফারুক আহমেদও একই কথা বলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দুটি প্রকল্পের অর্থায়নে জাপানি ঋণদাতা সংস্থা জাইকা বেশ কিছু প্রকৌশলগত শর্ত জুড়ে দিয়েছে। ফলে ঠিকাদার নিয়োগে প্রতিযোগিতা কমে গেছে। এ জন্যই ব্যয় অত্যন্ত বেশি।
উল্লেখ্য, মেট্রোরেল নির্মাণে ঋণ দিচ্ছে জাপান। দেশটির উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকার ঋণে এমন শর্ত দেওয়া হয়, যেখানে জাপানি কোম্পানিগুলোই ঠিকাদারি কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে এগিয়ে থাকে।
ব্যয় পৌনে দুই লাখ কোটি টাকা
ঢাকার উত্তরা-মতিঝিল পথে মেট্রোরেলের সম্প্রসারিত অংশ যাবে কমলাপুর পর্যন্ত। পুরো পথের দৈর্ঘ্য ২১ দশমিক ২৬ কিলোমিটার। মতিঝিল থেকে কমলাপুর অংশের কাজ এখনো চলছে। পুরো পথে ব্যয় হচ্ছে ৩৩ হাজার ৪৭২ কোটি টাকা।
নতুন এমআরটি লাইন-১ প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে। সরকারি প্রাক্কলনে ব্যয় ধরা হয় ৫২ হাজার ৫৬১ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে এখন পর্যন্ত ১২টি প্যাকেজের মধ্যে ৮টিতে ঠিকাদারের প্রস্তাবিত ব্যয় পাওয়া গেছে। এর ওপর ভিত্তি করে ব৵য় বিশ্লেষণ করেছে ডিএমটিসিএল। সংস্থাটির বিশ্লেষণ বলছে, ঠিকাদারেরা গড়ে যে দর চাইছে, তাতে প্রকল্পের ব্যয় দাঁড়াবে ৯৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
অন্যদিকে লাইন-৫ (উত্তর) প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয় ২০১৯ সালের অক্টোবরে। এর জন্য ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি টাকা। এ পর্যন্ত ৫টি প্যাকেজে ঠিকাদারদের পাওয়া দর প্রস্তাব বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্যয় দাঁড়াবে ৮৮ হাজার কোটি টাকা।
উত্তরা-মতিঝিল পথের চেয়ে নতুন দুই পথে সরকার ব্যয় অনেকটা বাড়িয়ে ধরেছিল। কিলোমিটারপ্রতি ধরা হয়েছিল ১ হাজার ৮৩৯ কোটি টাকা। মোট অনুমোদিত ব্যয় ৯৩ হাজার ৭৯৯ কোটি টাকা। কিন্তু ঠিকাদারের দরপত্র প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ দিলে মোট ব্যয় দাঁড়াবে ১ লাখ ৮৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।
১৩টি প্যাকেজের মধ্যে তিনটি প্যাকেজে সরকারের প্রাক্কলনের চেয়ে ঠিকাদার কয়েক গুণ বেশি ব্যয় প্রস্তাব করায় তা বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে দরপত্র বাতিল ও গ্রহণ সব ক্ষেত্রেই অর্থায়নকারী সংস্থা জাইকার অনুমোদন দরকার হয়। দুটি প্যাকেজ বাতিলের অনুমোদন চেয়ে চিঠি দেওয়ার পর বেশি দামেই ঠিকাদার নিয়োগের পরামর্শ দিয়েছে জাইকা।
ডিএমটিসিএলের পক্ষ থেকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পের ব্যয় বিশ্লেষণ করা হয়েছে। তাতে দেখা যায়, জমি অধিগ্রহণ ও বেতন-ভাতা বাদ দিয়ে শুধু প্রতি কিলোমিটার মেট্রোরেল নির্মাণে ভারতে ব্যয় হয় ১৫০ থেকে ৪৫০ কোটি টাকা। ভারতও বিদেশি ঋণে প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। কিন্তু ঋণে এমন কোনো শর্ত তারা মানে না, যা ঠিকাদার নিয়োগের প্রতিযোগিতা ক্ষুণ্ন করে।
বিষয়টি নিয়ে জাইকার কাছে ই-মেইলে বক্তব্য চাওয়া হয়েছিল। জবাবে সংস্থাটি প্রথম আলোকে জানায়, দুটি প্রকল্পের বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি তারা অবগত। তবে জাইকার ক্রয়সংক্রান্ত নির্দেশিকা অনুযায়ী দরপত্র খোলার পর থেকে চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো তথ্য বাইরে কারও কাছে প্রকাশ করা যায় না। তাই এই মুহূর্তে দরপত্র মূল্যায়নের নির্দিষ্ট কোনো বিষয়ে মন্তব্য করা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
জাইকা বলেছে, এমআরটি নির্মাণ ব্যয় নানা বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। বিশেষ করে বৈশ্বিক মূল্যস্ফীতি এবং প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণের পর থেকে মুদ্রার মানের উল্লেখযোগ্য পতন নানা বিষয় বিবেচনায় নিতে হয়। বিশ্ববাজারে দামের পরিবর্তন এবং বিনিময় হার ওঠানামার কারণে প্রকল্প ব্যয় বাড়তে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদে যাত্রীচাহিদা বৃদ্ধি এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের কারণে এমআরটি প্রকল্পগুলো অর্থনৈতিকভাবে লাভজনক থাকতে পারে।
ঢাকার উত্তরা থেকে মতিঝিল পথে চলাচলকারী মেট্রোরেল থেকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে টিকিট বিক্রি করে আয় হয়েছে ৪০০ কোটি টাকার মতো (অনিরীক্ষিত)। যদিও ২০৩০-৩১ সাল পর্যন্ত বছরে ঋণের কিস্তি হিসেবে ৪৬৫ কোটি থেকে ৭৪০ কোটি টাকা দিতে হবে।
যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর সময় চেয়েছে সরকার: দুদিকেই প্রস্তুতির পরামর্শ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্ব নিয়েই স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণের সময়সীমা ৩ বছর বাড়ানোর অনুরোধ করেছে নতুন সরকার। বুধবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) চেয়ারম্যান হোসে অ্যান্তেনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠিয়েছেন। এতে বলা হয়েছে, সময়সীমা বাড়ানো হলে সামষ্টিক অর্থনীতি স্থিতিশীল করা, চলমান সংস্কারগুলো সংহত করা এবং স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজির (এসটিএস) অধীন অগ্রাধিকারমূলক কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ পাওয়া যাবে।
এছাড়া চিঠিতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরা হয়। বলা হয়, এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময়কাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো প্রয়োজন। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হবে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও চলমান।
এদিকে এমন চিঠি দিয়ে কতটুকু লাভ হবে? সময় না বাড়লে সমস্যা কী এবং বাড়লেই বা সুবিধা কী। এসব বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন বিশেষজ্ঞরা। শনিবার তারা যুগান্তরকে বলেন, দুদিকের প্রস্তুতিই রাখতে হবে। তা না হলে একূল-ওকূল দুকূলই হারাতে হতে পারে।
বিশ্বব্যাংক ঢাকা অফিসের সাবেক লিড ইকোনমিস্ট ড. জাহিদ হোসেন বলেন, এলডিসি উত্তরণের জন্য ৩ বছর সময় বৃদ্ধির যে আবেদন করা হয়েছে তার সম্ভাবনা ক্ষীণ। কেননা সরকার যেসব যুক্তি দেখিয়েছে সেগুলোর মধ্যে কোভিড-১৯-এর জন্য তো ২ বছর সময় দিয়েছে আগেই। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, মূল্যস্ফীতি, ট্রাম্প ট্যারিফ, অভ্যন্তরীণ সমস্যা ইত্যাদি কারণে তো এলডিসির মূল্যায়ন সূচকে কোনো পরিবর্তন হয়নি। সূচক পেছায়নি। সরকার বলেছে, এলডিসি উত্তরণের পর যে ধাক্কা আসবে তা সামলানো যাবে না। এক্ষেত্রে প্রশ্ন আসবে এলডিসি উত্তরণের পরও তো ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশে শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখবে। শুধু ওষুধ তৈরিতে ইনটেলেকচ্যুয়াল প্রপার্টি রাইটস প্রযোজ্য হবে। সেক্ষেত্রে ফি দিয়ে ওষুধ তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, আরও প্রশ্ন আসবে লাওস ও নেপাল তো তোমাদের চেয়ে অনেক ছোট দেশ, তারা তো সময় বাড়ানোর আবেদন করেনি। তাহলে তোমরা কেন? ২০১৮ সালেই তো তোমরা জান এলডিসি উত্তরণ কোন বছরে ঘটবে। তাহলে এই ৭-৮ বছরে কেন প্রস্তুতি নেওয়া হলো না। এত সময়েও যা হয়নি আগামী ৩ বছরে তা কি সম্ভব। এসব প্রশ্নের জবাব দেওয়া কঠিন হবে। তাই সময় বৃদ্ধির সম্ভাবনা ক্ষীণ। সরকারের উচিত সময় বাড়বে না ধরেই সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করা। শুধু চিঠি দিয়ে বসে থাকলেই হবে না। এতে একূল-ওকূল দুকূলই যেতে পারে। উত্তরণ পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য যা যা করণীয় সেগুলো করতে হবে, পাশাপাশি সময় বাড়ানোর প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
ড. জাহিদ আরও বলেন, ব্যবসায়ীদের চাপে সরকার এই চিঠি দিয়েছে। এক্ষেত্রে প্রত্যাখ্যাত হলে বলতে পারবে আমরা তো চেষ্টা করেছি। যদি ৩ বছর সময় পাওয়া না যায় অনেক ক্ষেত্রেই আন্তর্জাতিক সুবিধা কমবে। রপ্তানিতে শুল্কমুক্ত সুবিধা বাতিল হয়ে যাবে। আর সময় বাড়লে তখন আস্তে ধীরে প্রস্তুতির সময়টা পাওয়া যাবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, চিঠি দেওয়া ভালো কাজ হয়েছে। কেননা আগামী সপ্তাহে সিডিপির মিটিং আছে। তার আগে এই চিঠি দেওয়াটা খুব দরকার ছিল। তারা এখন মূল্যায়ন করবে। এরপর জুনে ইকোসকের (জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ) সম্মেলন আছে সেখানেও এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হবে। শেষ পর্যন্ত সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠেয় জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনেও বিষয়টি উপস্থাপন করা হবে। তবে ক্রাইটেরিয়া দিয়ে আর্গুমেন্ট করলে লাভ হবে না। আমাদের ক্রাইসিস দেখিয়ে বলতে হবে। যেমনটা করে অ্যাঙ্গোলা ও সলোমন দ্বীপপুঞ্জ তাদের এলডিসি উত্তরণ পিছিয়েছিল। আমাদের সরকারকে বলতে হবে ২০২৪ সালের আন্দোলন এবং নতুন সরকার হওয়ায় সংকট রয়েছে। এ অবস্থায় এলডিসি উত্তরণ ঘটলে এসটিএস (স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি) বাস্তবায়ন কঠিন হবে।
তিনি বলেন, তবে ৩ বছর সময় বাড়বে কি বাড়বে না সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে এখনো কিছু বলা যাচ্ছে না। এজন্য সরকারকে যেটা করতে হবে সেটা হলো যদি সময় না বাড়ে সেক্ষেত্রে চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতি অব্যাহত রাখতে হবে। অপরদিকে সময় বাড়ানোর জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করতে হবে। বিশেষ করে জাতিসংঘের সাধারণ অধিবেশনে যখন এটি উঠবে তখন বন্ধু দেশগুলোকে বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলার জন্য বিশেষ অনুরোধ জানাতে হবে। এক্ষেত্রে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, কানাডা, জাপান, চীন ইত্যাদি দেশগুলো যেন বাংলাদেশের সময় বাড়ানোর পক্ষে মতামত দেয়। সেজন্য শক্ত কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।
ড. মোস্তাফিজুর আরও বলেন, যদি সময় না বাড়ে তাহলে চলতি বছরের নভেম্বরেই এলডিসি উত্তরণ ঘটবে। তখন রপ্তানিসহ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যে চ্যালেঞ্জ আসবে, তা মোকাবিলা করতে হবে। আর যদি সময় বাড়ানো যায়, তাহলে ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ আরও কয়েকটি দেশ আমাদের যে ৩ বছরের শুল্কমুক্ত সুবিধা অব্যাহত রাখতে তার সঙ্গে আরও ৩ বছর যোগ হয়ে ৬ বছরের সুবিধা পাওয়া যাবে। এজন্য একদিকে চ্যালেঞ্জ নেওয়ার প্রস্তুতি, অন্যদিকে সময় বাড়াতে কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রাখতে হবে।
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রধান শিরোনাম ‘চুক্তি পর্যালোচনা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে’। খবরে বলা হয়, বিশ্বের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনার নাম করে ট্রাম্প প্রশাসন গত বছরের ১ এপ্রিল বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ওপর 'পাল্টা শুল্ক' আরোপ করেছিল। ওই আদেশ অবৈধ আখ্যা দিয়ে রায় দিয়েছেন দেশটির সর্বোচ্চ আদালত। শুল্ক আরোপকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের পারস্পরিক বাণিজ্যচুক্তি বাতিল হতে পারে। বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান এমন আভাস দিয়েছেন।
এদিকে 'পাল্টা শুল্ক' আরোপ যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্টে বাতিল হওয়ায় সাময়িক স্বস্তি দেখছেন বাংলাদেশের রপ্তানিকারকরা। তবে নতুন করে এক ধরনের অনিশ্চয়তাও তৈরি হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। কেননা, ইতোমধ্যে ট্রাম্প অন্য আইনের আওতায় সব দেশের ওপর ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। তাই এখনই পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে, তা নিশ্চিত নয়। কেননা, ট্রাম্প প্রশাসন তাদের কঠোর বাণিজ্য নীতি, শুল্ক ব্যবস্থা এবং আমেরিকান শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার লড়াই চালিয়ে যেতে বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছে।
সুপ্রিম কোর্টের রায়ের পর বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে বাণিজ্যচুক্তি স্বাক্ষর করে এসেছে, তার পরিণতি কী হবে, তা নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। কেউ বলছেন, চুক্তি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে গেছে। তবে ভিন্নমতও আছে। কেউ বলছেন, দুই দেশের চুক্তি এভাবে বাতিল হবে না।
'অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড' নামে চলতি ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ ছাড়াও যুক্তরাজ্য, ভারত, জাপান, ভিয়েতনাম, ইন্দোনেশিয়া, কম্বোডিয়া, মালয়েশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, আর্জেন্টিনা, ইকুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, সুইজারল্যান্ড, লিয়েনষ্টাইন, আইওয়ান, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং উত্তর মেসিডোনিয়াসহ প্রায় ২০টি দেশ ও অঞ্চলের মঙ্গে বানিজাটুক্তি স্বাক্ষর করেছে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। এসব চুড়ির কী হবে, তা নিয়ে নানা জমান্য কল্পনা চলছে।
বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি নিয়ে গত অন্তর্বর্তী সরকার সড়ই মলেও চুক্তির অনুলিপি দেমে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা। এমনকি দেশের অর্থনীতিবিদ ও গবেষণকরা মত দিয়েছেন, এ চুক্তিতে বাংলাদেশের স্বার্থ রক্ষা হয়নি। বাংলাদেশেরা দিক থেকে বড় বানিয়ে মুবিধা দেওয়া হয়েছে চুক্তিতে। কছোড়িয়া ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে সম্পাদিত চুত্তির ভাষ্য নমনীয় হলেও বালাদেশের গেমে চুক্তিতে কঠোর ভাষ্য প্রয়োগ করা হয়েছে বলে অভিমত গবেষকদের।
চুক্তির কী হবে
বাংলাদেশের জন্য এই গায়ের যেত্রে প্রধান আলোচনার বিষয় ঢাকা-ওয়াশিংটন দ্বিপদীয় বাণিজভুভির ভবিষ্যৎ, বী হবে। বাংলাদেশ ও যুক্তবষ্ট্রের মধ্যে ৯ ফেব্রুয়ারি একটি রিসিপ্রোকাল ট্রেড আগ্রিমেন্ট ভাগরিত হয়, যেখানে বাংলাদেশের রস্তানি পণ্যে পল্টু শুষ্ক ১৯ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
জানতে চাইলে বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান সমকালকে বলেন, বায় অনুযায়ী আমেরিকার কর্তৃপক্ষের আরোপিত শুভডলের আইনি ভিডি নেই। তাই চুক্তি বধাতামূলক নাও থাকতে পারে। বানিজ্যচুত্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে অচিরেই যুদ্ধলাস্ট্রের সঙ্গে তারা যোগাযোগ করবেন।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তরা জানান, বাণিজ্যভুক্তি এখনও কোনো পক্ষ অনুমোদন করেনি। অর্থাৎ চুক্তিটি এখনও কার্যকর হয়নি। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট পাল্টা শুন্ত অবৈধ ঘোষণা করায় চুক্তিটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে।
ইত্তেফাক
‘এলডিসি থেকে উত্তরণের সময় পেছানোর আবেদন পর্যালোচনা করবে জাতিসংঘ’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণ তিন বছর পিছিয়ে দিতে বাংলাদেশ যে আবেদন করেছে, সে বিষয়ে পর্যালোচনা করবে জাতিসংঘ। আগামী সোমবার থেকে পাঁচ দিনব্যাপী জাতিসংঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসির (সিডিপি) বৈঠক রয়েছে নিউ ইয়র্কে। সিডিপির এই বৈঠকে ঠিক হবে, কীভাবে বাংলাদেশের আবেদন মূল্যায়ন করা হবে। যেসব দেশ ইতিমধ্যে এলডিসি উত্তরণ সম্পন্ন করেছে এবং যেসব দেশ উত্তোরণের পথে রয়েছে সেই দেশগুলোর বর্তমান পরিস্থিতি মূল্যায়ন করবে এই কমিটি। চলতি বছর এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পথে রয়েছে বাংলাদেশ, নেপাল ও লাওস।
উল্লেখ্য, বিদায়ি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পর্ষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, উত্তরণ পেছানোর আবেদন করা হবে না। কিন্তু নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের সঙ্গে সঙ্গে আবেদন করেছে। সরকারের পক্ষে অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব শাহরিয়ার কাদের ছিদ্দিকী গত বুধবার জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদের (ইকোসক) অধীন সিডিপি চেয়ারম্যান হোসে আন্তোনিও ওকাম্পোর কাছে একটি চিঠি পাঠান। এতে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে এলডিসি উত্তরণ-প্রস্তুতির সময় ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়ানোর অনুরোধ জানানো হয়। আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণ হবে চলতি বছরের ২৪ নভেম্বর। চূড়ান্ত উত্তরণের আগে তৃতীয় পর্যালোচনা প্রক্রিয়াও চলমান।
তিন বছর অন্তর এলডিসিভুক্ত দেশগুলোর ত্রিবার্ষিক মূল্যায়ন হয়। মাথাপিছু আয়, মানবসম্পদ এবং জলবায়ু ও অর্থনৈতিক ভঙ্গুরতা এই তিন সূচকের ভিত্তিতে নির্ধারণ করা হয়, কোনো দেশ উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের যোগ্য কি না। যে কোনো দুটি সূচকে উত্তীর্ণ হতে হয় অথবা মাথাপিছু আয় নির্ধারিত সীমার দ্বিগুণ হতে হয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এসব মানদণ্ড অবশ্য পরিবর্তিত হয়। বাংলাদেশ ২০১৮ ও ২০২১ সালের ত্রিবার্ষিক মূল্যায়নে তিনটি সূচকেই উত্তীর্ণ হয়েছে। ২০২১ সালেই চূড়ান্তভাবে সুপারিশ করা হয়েছিল যে, ২০২৪ সালে বাংলাদেশ এলডিসি থেকে বের হবে। পরে করোনার কারণে উত্তরণ দুই বছর পিছিয়েছে। এর পর অবশ্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো এলডিসি উত্তোরণ প্রক্রিয়া পেছানোর দাবি জানিয়ে আসছে।
তাদের দাবি হলো, সফলভাবে এলডিসি উত্তরণ নিশ্চিত করতে সঠিক প্রস্তুতি জরুরি। কারণ, উত্তরণের সঙ্গে নতুন দায়িত্ব ও ঝুঁকিও তৈরি হবে। এলডিসি উত্তরণের পর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), যুক্তরাজ্যসহ বড় বড় বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর ১২ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ হতে পারে। এতে রপ্তানি ৬ থেকে ১৪ শতাংশ কমে যেতে পারে। এ ছাড়া রপ্তানিতে ভর্তুকি ও মেধাস্বত্বের চুক্তি বাস্তবায়নে শিথিলতার মতো বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বিশেষ সুবিধা আর থাকবে না। সহজ শর্তের ঋণ বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে বাজারভিত্তিক ঋণ নিতে হবে এবং ঋণ শোধের চাপও বেড়ে যাবে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘সংসদের প্রথম অধিবেশনের সভাপতি নিয়ে জটিলতা’। খবরে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন রোজার মাসেই বসতে পারে বলে জানা গেছে। ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দ্রুত সরকার গঠন, সংসদ সদস্যদের শপথ এবং নতুন মন্ত্রিসভার দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে প্রশাসনিক কার্যক্রম সচল হলেও সংসদের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরুর মুখে দেখা দিয়েছে সাংবিধানিক জটিলতা। প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন কে-এই প্রশ্নই এখন আলোচনার কেন্দ্রে। স্পিকার পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন, আর ডেপুটি স্পিকার কারান্তরীণ। ফলে সভাপতিত্বের প্রশ্নে তৈরি হয়েছে কার্যত এক সাংবিধানিক শূন্যতা।
এমন পরিস্থিতিতে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সুপ্রিম কোর্টের পরামর্শ চাইতে পারেন কি না, তা নিয়েও চলছে ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ। একই সাথে উচ্চকক্ষ গঠন নিয়ে রাজনৈতিক টানাপড়েন থাকলেও একটি বিষয়ে স্পষ্ট- যে পদ্ধতিতেই গঠন হোক, দ্বিকক্ষের উভয় কক্ষেই বিরোধী দলের জন্য ডেপুটি স্পিকারের পদ সংরক্ষিত থাকবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল অনুযায়ী দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন নিয়ে সরকার গঠন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হয়। একই দিন সংসদ সদস্যরাও শপথ নেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতির কারণে সংবিধানের ১৪৮(২ক) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করান। এর মাধ্যমে নতুন সরকারের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয় এবং অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থার অবসান ঘটে।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল রাতে জানিয়েছেন যে, ১০-১২ মার্চের মধ্যে ত্রয়োদশ সংসদের অধিবেশন বসছে। তবে কে সভাপতিত্ব করবেন সে বিষয়ে কিছু বলেননি তিনি।
সংবিধানের ৭২(২) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সাধারণ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম বৈঠক আহ্বান করতে হবে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়। সে হিসাবে আগামী ১৩ মার্চের মধ্যেই সংসদ অধিবেশন বসা বাধ্যতামূলক। সংবিধানের ৭২(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদ আহ্বান, স্থগিত ও ভঙ্গ করেন এবং প্রথম বৈঠকের সময় ও স্থান নির্ধারণ করেন- তবে তা প্রধানমন্ত্রীর লিখিত পরামর্শক্রমে। সামগ্রিক অবস্থা বিবেচনায় নির্ধারিত সময়ের আগেই প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রপতিকে অধিবেশন আহ্বানের পরামর্শ দিতে পারেন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদের প্রথম বৈঠকেই সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার ও একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। ৭২(৬) অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, নতুন স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত পূর্ববর্তী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার বহাল থাকবেন। অতীতে সেই ধারাবাহিকতায় বিদায়ী স্পিকারই প্রথম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করতেন এবং নতুন স্পিকার নির্বাচনের পর দায়িত্ব হস্তান্তর হতো। কিন্তু বর্তমান প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী আত্মগোপনে থেকে পদত্যাগ করেছেন এবং ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক টুকু কারান্তরীণ আছেন। ফলে কার্যত দুই পদই শূন্য।
বণিক বার্তা
‘নগদে আগ্রহী জামায়াতের এমপি ব্যারিস্টার আরমান’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, নগদকে নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনায় দেয়ার পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ প্রতিষ্ঠানে বিদেশী বিনিয়োগকারীদের যুক্ত করার আগ্রহ দেখিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি দেশী-বিদেশী বহুজাতিক বিনিয়োগ সংস্থার স্থানীয় সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করছেন বলে জানিয়েছেন। বিনিয়োগ আগ্রহের ধারাবাহিকতায় গভর্নর বরাবর নগদের ফরেনসিক অডিট করার আবেদন করেছেন। ৮ ফেব্রুয়ারি এ আগ্রহ প্রকাশ করে তিনি গভর্নর বরাবর চিঠি দিয়েছেন।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-১৪ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন ব্যারিস্টার আরমান। ২০১৬ সালে তিনি গুমের শিকার হন এবং দীর্ঘ আট বছর ‘আয়নাঘর’-এ বন্দি ছিলেন। চব্বিশে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের পর তিনি মুক্তি পান। ব্যারিস্টার আরমান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতা মীর কাসেম আলীর ছেলে।
নগদে বিনিয়োগ নিয়ে ব্যারিস্টার আরমানের আগ্রহ বিভিন্ন মহলে কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে। এছাড়া জাতীয় নির্বাচনের মাত্র তিনদিন আগে গভর্নরকে এমন বিনিয়োগ বিষয়ে চিঠি দেয়া নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন। তবে ব্যারিস্টার আরমানের দাবি, তার পরিচিত বিদেশী বিনিয়োগকারীরাই মূলত এখানে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছেন। কিন্তু কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা ছাড়া এমন বিনিয়োগ, প্রতিষ্ঠান ও বিনিয়োগকারী—উভয়ের জন্যই ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে বলে মনে করেন আর্থিক খাত বিশেষজ্ঞরা।
গত ৮ ফেব্রুয়ারি পাঠানো চিঠির শুরুতেই কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নরের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান। তিনি লিখেছেন, প্রথমেই ‘নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস’ বিষয়ে আমাকে দেয়া আপনার মূল্যবান সময় ও গঠনমূলক পরামর্শের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আপনি অবগত আছেন যে ওই বৈঠকটি আমার অনুরোধে অনুষ্ঠিত হয়েছিল। বৈঠকের মূল উদ্দেশ্য ছিল ডিজিটাল ব্যাংক প্রতিষ্ঠার লাইসেন্স প্রাপ্তির লক্ষ্যে আপনার সহায়তা পাওয়া। দেশের মানুষের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, ডিজিটাল ও ক্রমবর্ধমান প্রভাবশালী আর্থিক সেবা প্রদানই আমার স্বপ্ন ও লক্ষ্য। এ লক্ষ্যে এরই মধ্যে কিছু সম্ভাব্য বিদেশী প্রতিনিধিও আমার সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন এবং তারা এ ধরনের ব্যবসায় বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
চিঠিতে ব্যারিস্টার আরমান লিখেছেন, ওই বৈঠকে আমি জানতে পারি যে নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস পূর্ববর্তী সরকারের সময়কার অব্যবস্থাপনার কারণে বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে রয়েছে। প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই (ডিউ ডিলিজেন্স) শেষে এটি নতুন মালিকানা ও ব্যবস্থাপনার কাছে হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। এমন একটি বিকল্প পেলে তা আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের ও বড় সুযোগ হবে।
গভর্নরকে দেয়া চিঠিতে ব্যারিস্টার আরমান আরো উল্লেখ করেছেন, বিদেশী বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তারা মূল্যায়নের (নগদে বিনিয়োগ) পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হতে প্রস্তুত। এর মধ্যে একটি পূর্ণাঙ্গ ফরেনসিক অডিট অন্তর্ভুক্ত থাকবে। এতে ডিজিটাল আর্থিক সেবাটির আর্থিক, পরিচালনগত ও ব্যবসায়িক অবস্থা সম্পর্কে স্বচ্ছ ও সমন্বিত ধারণা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এর শক্তি, দুর্বলতা ও ঝুঁকিগুলো নিরূপণ হবে। ফলে নগদ ডিজিটাল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে এর প্রকৃত অবস্থা বোঝার জন্য তাদের একটি ফরেনসিক অডিট পরিচালনার অনুমতি দেয়ার জন্য গভর্নরের সর্বোচ্চ সহায়তা কামনা করেছেন।
অবশ্য বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেছেন, ‘নগদ’-এর হস্তান্তর প্রক্রিয়াসংক্রান্ত কোনো কিছু সম্পর্কেই তিনি জ্ঞাত নন।
মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘পেমেন্ট সিস্টেমস বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী পরিচালক হিসেবে ‘নগদ’-এর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হলে সেটি আমার জানার কথা। কিন্তু এখন পর্যন্ত গভর্নর স্যার কিংবা অন্য কেউ আমাকে কিছু জানাননি। হয়তো বিষয়টি একেবারেই প্রাথমিক আলাপ-আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে।’
নগদের মালিকানা হস্তান্তর হলে সেটির প্রক্রিয়া কেমন হতে পারে সে বিষয়ে জানতে চাইলে আরিফ হোসেন খান বলেন, ‘নগদ-এর মালিকানা হস্তান্তরের বিষয়ে যেকোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে সেটির জন্য দরপত্র (টেন্ডার) আহ্বান করতে হবে। এক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দরদাতা মালিকানা পাবে, এটিই প্রচলিত রীতি। টেন্ডার আহ্বান ছাড়া কোনো ব্যক্তিবিশেষের সঙ্গে নগদ-এর মালিকানা হস্তান্তর নিয়ে আলাপ-আলোচনার সুযোগ নেই।’
দেশ রূপান্তর
দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘সুবিধাভোগী পুলিশের সন্ধানে পুলিশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর দেড় বছর ক্ষমতায় ছিল অন্তর্বর্তী সরকার। পুলিশের কিছু কর্মকর্তা পতিত সরকারের আমলে যেন ক্ষমতাধর ছিলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও তাদের প্রভাব কম ছিল না। যে সরকার ক্ষমতায় এসেছে, তাদেরই লেজুড়বৃত্তি করেছেন তারা।
বিএনপি সরকার গঠনের পর দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নতি করতে কাজ শুরু করেছেন নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আর এ অবস্থাতেই পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, বাহিনীর যারা সব সরকারের আমলেই সুবিধা নিয়ে আসছেন, তাদের বিষয়ে খোঁজ নিতে সরকারের হাইকমান্ড থেকে গোপন বার্তা দেওয়া হয়েছে। বার্তা পেয়ে পুলিশের দুটি ইউনিটসহ গোয়েন্দারা কাজও শুরু করে দিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে কয়েকজন অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর, সাব-ইন্সপেক্টরসহ দেড় শতাধিক কর্মকর্তার বিষয়ে বিশদ তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তাদের একটি তালিকা করে আরও গভীরে গিয়ে তদন্তও শুরু করেছে একাধিক সংস্থা।
তালিকাভুক্তরা সব সরকারের আমলেই বিশেষ সুবিধা নিয়ে পদোন্নতিসহ ভালো স্থানে কাজ করে আসছেন। নতুন সরকার আসার পরপরই ভোল পাল্টে তারা নিজেদের বিএনপি আদর্শের আখ্যা দিয়ে সুবিধা নেওয়ার পাঁয়তারা চালাচ্ছেন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পরও এসব কর্মকর্তা বঞ্চিত বলে সুবিধা নিয়েছেন এমন তথ্য গোয়েন্দাদের গোপন তদন্তে উঠে ইতিমধ্যে উঠে এসেছে।
সুবিধাভোগীদের জন্য বঞ্চিত সহস্রাধিক কর্মকর্তা : পুলিশের অন্য একটি সূত্র জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বঞ্চিত একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেও উপেক্ষিত ছিলেন। তারা দীর্ঘদিন ধরে পদোন্নতিবঞ্চিত। গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও সুবিধাভোগী পুলিশ সদস্যরা পদোন্নতিসহ সব ধরনের সুবিধা নিলেও পদোন্নতি না পাওয়ায় অনেকের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বেড়েছে। অতিরিক্ত আইজিপি, উপপুলিশ মহাপরিদর্শকসহ বিভিন্ন পদ খালি থাকা সত্ত্বেও নানা জটিলতায় পদোন্নতি হচ্ছে না। আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্তা থেকে শুরু করে কনস্টেবল পর্যন্ত অনেকে এখনো আত্মগোপনে আছেন। ঢাকা মহানগরসহ পুলিশের সব কটি ইউনিট থেকে কনস্টেবল থেকে শুরু করে অতিরিক্ত আইজিপি পর্যন্ত বদলি করা হয়েছে। বঞ্চিত পুলিশ কর্তাদের পদোন্নতি দেওয়ার পাশাপাশি ভালো স্থানে পদায়ন করা হয়েছে। তবে এখনো সহস্রাধিক পুলিশ সদস্য বঞ্চিত রয়েছেন। অথচ পুলিশে অতিরিক্ত আইজি, ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি, পুলিশ সুপার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, ইন্সপেক্টর ও সাব-ইন্সপেক্টরের একাধিক পদ খালি থাকলেও ঊর্ধ্বতনদের নজর নেই বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশ প্রতিদিন
‘বাজার-মূল্যস্ফীতি ভোগাচ্ছে মানুষকে’-এটি দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রথম পাতার খবর। প্রতিবেদনে বলা হয়, দায়িত্ব নেওয়ার পর বিএনপি সরকারের সামনে সবচেয়ে তাৎক্ষণিক ও গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজার ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ। গত বুধবার মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই নতুন সরকারপ্রধান প্রথম তিন মাসের পরিকল্পনায় দ্রব্যমূল্য ও মূল্যস্ফীতি সহনীয় পর্যায়ে নিয়ে আসার ওপর জোর দিয়েছেন। নির্বাচন-পরবর্তী অর্থনৈতিক চাপ, বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং রমজান ঘিরে বাড়তি চাহিদা- সব মিলিয়ে বাজার এখনো পুরোপুরি স্বস্তিতে নেই। মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পষ্ট নির্দেশনা এসেছে, রমজানে জ্বালানি সরবরাহে যেন কোনো ঘাটতি না থাকে, নিত্যপণ্যের বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি না হয় এবং প্রশাসন মাঠপর্যায়ে সক্রিয় থাকে। একই সঙ্গে নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে ১৮০ দিনের একটি বিশেষ কর্মপরিকল্পনা তৈরির কথা বলা হয়েছে। কোন মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নেবে, তার সুস্পষ্ট তালিকা দ্রুত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠাতে বলা হয়েছে। বাজার তদারকি জোরদার, সরবরাহ ব্যবস্থায় সমন্বয় বাড়ানো, মজুতদারির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া এবং প্রয়োজনে আমদানিনীতিতে পরিবর্তনের মতো বিষয়েও নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এর মধ্যেই রোজা শুরু হয়েছে। প্রতি বছরের মতো এবারও বেশকিছু পণ্যের দাম আবার বেড়েছে। এতে নিম্ন ও নির্দিষ্ট আয়ের মানুষ চাপে পড়েছেন। অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজারে শুধু অভিযান চালিয়ে সাময়িক নিয়ন্ত্রণ আনা সম্ভব হলেও দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা পেতে হলে উৎপাদন, আমদানি, পরিবহন ও খুচরা পর্যায়ের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় প্রয়োজন। ডলারের বিনিময় হার, আমদানি ব্যয় এবং সরবরাহ শৃঙ্খলার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। প্রথম তিন মাসে যদি দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখানো যায়, তাহলে বাজারে ইতিবাচক বার্তা যাবে।
সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)-এর সম্মাননীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, নতুন সরকারের আগামী তিন মাসের কর্মপরিকল্পনায় বাজার পরিস্থিতি ও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত অত্যন্ত যৌক্তিক। গত কয়েক বছরে ধারাবাহিকভাবে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের আর্থিক সুরক্ষা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এ পরিস্থিতিতে বাজার স্থিতিশীল করতে পারলে জনগণের ভোগান্তি কিছুটা হলেও লাঘব হবে।
তিনি বলেন, এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে। বাজার নিয়ন্ত্রণের জন্য প্রথমেই উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করা জরুরি। উৎপাদন, আমদানি থেকে শুরু করে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত পুরো সরবরাহ শৃঙ্খলা নিয়মতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালিত হতে হবে। সময়মতো প্রয়োজনীয় পণ্য আমদানি নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যাপ্ত মজুত রাখার দিকেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর নজরদারি জোরদার করা গেলে বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক ফল পাওয়া সম্ভব হবে। সমন্বিত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমেই মূল্যস্ফীতির চাপ নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে। মূল্যস্ফীতির চাপ কমাতে উৎপাদন বৃদ্ধি ও বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নত করার বিকল্প নেই।
সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন বাংলাদেশ প্রতিদিনকে বলেন, সাধারণ মানুষের আয়ের তুলনায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম যেভাবে বেড়েছে, তাতে জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় হয়ে উঠেছে। মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকেই সরকারপ্রধান দ্রব্যমূল্য সহনীয় পর্যায়ে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করেছেন, এটি ইতিবাচক বার্তা। তবে শুধু প্রশাসনিক ব্যবস্থা নয়, সরবরাহব্যবস্থা শক্তিশালী করা, আমদানি-রপ্তানি নীতিতে সামঞ্জস্য আনা, বাজারে প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করা এবং মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির সঙ্গে সমন্বয় জরুরি। প্রথম তিন মাসই হবে নতুন সরকারের দক্ষতা, সমন্বয়ক্ষমতা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার প্রকৃত পরীক্ষা। সফলতা পেলে জনগণের আস্থা বাড়বে। ব্যর্থ হলে চাপ বহুগুণে বাড়বে।
কালের কণ্ঠ
দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘সম্ভাবনা-অনিশ্চয়তায় রপ্তানি’। খবরে বলা হয়,
মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষিত হওয়ায় বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। আদালতের রায়ের ফলে আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কার্যত বাতিল হয়ে গেলেও পরে নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সব দেশের ওপর আবারও ১৫ শতাংশ আমদানি শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প। ফলে সামগ্রিক পরিস্থিতি এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য একদিকে যেমন নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, অন্যদিকে কিছু সম্ভাবনাও সৃষ্টি করেছে।
বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক রপ্তানি বাজার হওয়ায় নতুন শুল্ক কাঠামোর প্রভাব নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে দর-কষাকষির সুযোগও দেখছেন বিশ্লেষকরা।
এ প্রসঙ্গে অর্থনৈতিক বিশ্লেষক মাশরুর রিয়াজ কালের কণ্ঠকে বলেন, মার্কিন আদালতের রায়ের ফলে আগে ঘোষিত পাল্টা শুল্ক কার্যত বাতিল হয়ে গেছে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নতুন নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে সব দেশের ওপর আবারও ১৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন, ফলে পরিস্থিতি পুরোপুরি পরিষ্কার হয়নি। তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য কাঠামো থেকে সম্পূর্ণ বের হয়ে যাওয়ার পরিবর্তে যেসব ক্ষেত্রে বাংলাদেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন হয়েছে, সেগুলো নিয়ে নতুন করে দর-কষাকষিতে যাওয়া বেশি বাস্তবসম্মত হবে।
মাশরুর রিয়াজের মতে, ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় যুক্তরাষ্ট্রের মতো প্রভাবশালী দেশের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক থেকে সম্পূর্ণ সরে আসা বাংলাদেশের জন্য সহজ হবে না। তাই বর্তমান পরিস্থিতিকে সুযোগ হিসেবে নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে অনুকূল শর্ত নিশ্চিত করতে কৌশলগতভাবে আলোচনায় যাওয়াই হবে সবচেয়ে কার্যকর পথ।
চুক্তি পুনর্বিবেচনার পরামর্শ : নিট পোশাক খাতের শীর্ষ সংগঠন বিকেএমইএর সাবেক সভাপতি ফজলুল হক কালের কণ্ঠকে বলেন, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বিদ্যমান বাণিজ্য চুক্তিগুলো নতুন করে পর্যালোচনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, আদালতের রায়ের ফলে যদি সংশ্লিষ্ট কোনো বাণিজ্যব্যবস্থা বা শুল্ক কাঠামো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যায়, তবে তা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক হতে পারে।
কালের কণ্ঠের আরেক খবরে বলা হয়, রাজধানীতে থানা ঘেরাও করে বিক্ষোভ। প্রতিবেদনে বলা হয়, চাঁদাবাজি ও ছিনতাই রোধের দাবিতে রাজধানীর মোহাম্মদপুরের আদাবর থানা ঘেরাও করেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত ১টায় চাঁদাবাজি ও ছিনতাইয়ের প্রতিকার চেয়ে থানা ঘেরাওয়ের পাশাপাশি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভে নামেন তারা।
জানা গেছে, শনিবার সন্ধ্যার পর আদাবরে চাঁদার জন্য এমব্রয়ডারি মালিক ও শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করে স্থানীয় সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনার বিচার চাওয়ার পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও ছিনতাই প্রতিরোধের দাবিতে ভুক্তভোগীসহ স্থানীয়রা রাতে আদাবর থানা ঘেরাও করেন।
রাত ১টার দিকেও বিক্ষোভ কর্মসূচি চলছিল। এ সময় নানা স্লোগান দিতেও দেখা যায় তাদের। মোহাম্মদপুরের সহকারী কমিশনার (এসি) মো. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরিতে আজ বেতন দিচ্ছিল, সে সময় ১০-১২ সদস্যের একটি সশস্ত্র গ্রুপ চাপাতি নিয়ে ঐ ফ্যাক্টরিতে হামলা চালায় মোবাইল ও টাকা ছিনতাই করার উদ্দেশ্যে। ঐ ঘটনায় বেশ কয়েকজন আহত হয়।
আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি যখন অন্নান্য ফ্যাক্টরিতেও ছড়িয়ে পরে তখন শ্রমিকরা ছিনতাইকারীদের লিডার রাসেলের বাড়ি ঘেরাও করেন। রাসেলকে না পেয়ে শ্রমিকরা তার বাবাকে অবরোধ করে।
কমিশনার আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, রাসেলের বাবা ভয়ে পুলিশকে খবর দিলে আমরা তাকে হেফাজতে থানায় নিয়ে আসি। তখনি উত্তেজিত জনতা থানার সামনে এসে জড় হয়।
তিনি আরও বলেন, আবির এমব্রয়ডারি ফ্যাক্টরির মালিক বাদি হয়ে একটা মামলা করেছে, মামলার প্রক্রিয়া চলছে। শ্রমিকদের কুপিয়ে আহত করার ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ। অপরাধী যেই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।

san moyeenuddowlah
৩ মাস আগেIf India is a good neighbour then why during last 17 months conducted bhua / lie/false propaganda against Bangladesh through their medias ( Like Republic Bangla } / political leaders ( Mutrokheko Shuvendu} / Diplomats continuously against our Interim Government.
So, India must beg PARDON from Bangladesh / Elected government for their misdeeds before establishing relationship again. They also ensure sharing of Teesta Water / Gonga Water / Zero border killing onward.