কুষ্টিয়ায় বিএডিসিকে ঘিরে বিতর্ক

ফেরত গেল ২৪.৫ টন বীজ

কুষ্টিয়ায় বিএডিসিকে ঘিরে বিতর্ক

ফন্ট সাইজ:

কুষ্টিয়ায় বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) সরবরাহ করা পাটবীজের গুণগত মান নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠেছে। কৃষকদের দাবি, প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় বিতরণ করা বীজের বড় একটি অংশে কাঙ্ক্ষিত অঙ্কুরোদগম হয়নি। ফলে অনেক কৃষকের জমি অনাবাদি পড়ে আছে এবং তারা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। তবে এসব অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বিএডিসি কর্তৃপক্ষ। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক মো. তৌহিদ বিন হাসান বিষয়টি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি জানান, কৃষকদের দেওয়া অভিযোগ যাচাই করতে একজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

জেলা কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালিত হবে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে কৃষি পুনর্বাসন সহায়তা কর্মসূচির আওতায় পাট উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ১৮০ মেট্রিক টন পাটবীজ সংগ্রহের জন্য কৃষি মন্ত্রণালয় ১ কোটি ৮০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। তবে কুষ্টিয়া জোনের দাবি, তারা চলতি মৌসুমে ২৮৩ মেট্রিক টন পাটবীজ সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করেছে।

এদিকে সরবরাহ করা বীজের মধ্যে প্রায় ২৪ দশমিক ৫ মেট্রিক টন বীজ অঙ্কুরোদগমের হার সন্তোষজনক না হওয়ায় ফরিদপুর পাটবীজ বিভাগ বাতিল ঘোষণা করে কুষ্টিয়া জোনে ফেরত পাঠিয়েছে। বিপণন বিভাগের উপপরিচালক সৈয়দ কামরুল হক স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কুষ্টিয়া জোনের পাটবীজ গুদামে সংরক্ষিত একই লটের প্যাকেটজাত বীজের মধ্যে দৃশ্যমান পার্থক্য রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সেখানে মানসম্মত ও নিম্নমানের বীজ মিশ্রণের ঘটনা ঘটেছে। এমনকি গণমাধ্যমে অনুসন্ধানের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর কিছু বীজ গুদামের পেছনের ঝোপে ফেলে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

বটতৈল ইউনিয়নের সহকারী কৃষি কর্মকর্তা রেজাউল ইসলামও স্বীকার করেন যে, প্রণোদনার আওতায় পাওয়া পাটবীজে কাঙ্ক্ষিত জার্মিনেশন না পাওয়ার অভিযোগ প্রায় সব সুবিধাভোগী কৃষকের কাছ থেকেই এসেছে। ভেড়ামারা উপজেলার এক বীজ ব্যবসায়ী অভিযোগ করেন, নকল ট্যাগ ব্যবহার করে নিম্নমানের বীজ বাজারজাত করার সঙ্গে একটি সংঘবদ্ধ চক্র জড়িত। অনুমোদিত ব্র্যান্ডের নমুনা পরীক্ষার পর ভিন্ন বীজ প্যাকেটজাত করে বাজারে সরবরাহ করা হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন। কুষ্টিয়া জেলা বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির প্রধান কর্মকর্তা কৃষিবিদ একেএম কামরুজ্জামান বলেন, কৃষক যেন মানসম্মত বীজ পান, সে লক্ষ্যে সংস্থাটি কাজ করছে।

বীজ উৎপাদন ও বাজারজাতকরণে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। সব অভিযোগ নাকচ করে বিএডিসি কুষ্টিয়া পাটবীজ বিভাগের উপপরিচালক মনিরা খাতুন বলেন, আমাদের সরবরাহ করা সব বীজের গুণগত মান পরীক্ষা করা হয়েছে। কোনো ক্রেতা বা সুবিধাভোগী অসন্তুষ্ট হলে বীজ ফেরত দিতে পারেন। এ বিষয়ে কৃষি সমপ্রসারণ অধিদপ্তর কুষ্টিয়ার উপপরিচালক ড. মো. শওকত হোসেন ভূঁইয়া বলেন, বিএডিসি’র বীজ ব্যবস্থাপনার তথ্য আমাদের কাছে থাকে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন