গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলা দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘাঘট নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের ফেব্রিক্সের জিওব্যাগ ও ভাঙন স্থানে মেশিন বসিয়ে নদী থেকেই বালু উত্তোলন করায় ফের ভাঙন শঙ্কায় ভুগছেন ভুক্তভোগী মানুষেরা। তাদের দাবি, এ স্থানের নদী থেকে বালু না তুলে অন্যত্র থেকে বালু বহন করে এনে জিওব্যাগ ভর্তি করা অবশ্যক। সোমবার সরজমিন সাদুল্লাপুর উপজেলার দামোদরপুর ইউনিয়নের সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে দেখা গেছে- নদীভাঙন রক্ষা প্রকল্প কাজের ওইসব অনিয়মের দৃশ্য। জানা যায়, উপজেলার সিট জামুডাঙ্গার মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়া নামক স্থানে ঘাঘট নদীর তীব্র ভাঙন শুরু হয়।
এতে নদী তীরের মানুষের ঘরবাড়ি ও ফসলী জমি বিলীন হয়েছে। আর ভাঙন ঝুঁকিতে ভুগছিলেন আরও বেশকিছু পরিবার। এসব ভুক্তভোগীর দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে শুরু হয় ভাঙন রক্ষা প্রকল্পের কাজ। এ কাজের বালু যোগান দেওয়ার দায়িত্ব পান স্থানীয় হাসেন আলী হাসান নামের এক ব্যক্তি। এরপর জিওব্যাগের জন্য বালু অন্যত্র থেকে বহন না করে তিনি ভাঙন স্থানের নদীতে বসিয়েছেন শ্যালো মেশিন। এখানে রাতভর মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। এতে করে আবারও দেখা দিয়েছে নদীভাঙন।
সেইসঙ্গে মিশনের বিকট শব্দে নির্ঘুম রাত কাটছে নদীপারের মানুষদের। একইসঙ্গে নিম্নমানের জিওব্যাগ আর ভাঙন স্থান থেকে বালু তোলার কারণে আবারও নদীভাঙন ঝুঁকিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হাসেন আলী হাসান বলেন, ইতিপূর্বেও ভাঙন স্থানের নদী থেকেই বালু তুলে ভাঙন রক্ষা কাজ করা হয়েছে। এভাবেই মুন্সীপাড়া ও পাটনীপাড়ায় ভাঙন রক্ষায় নদী থেকেই বালু তোলা হচ্ছে। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জসিম উদ্দিন বলেন, ভাঙন রক্ষায় নদীতে মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়টি দেখার দায়িত্ব আমার না। এ বিষয়ে ইউএনও স্যারের সঙ্গে কথা বলতে পারেন। সাদুল্লাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি নিয়ে গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডে কথা বলেন।
তারপরও আমিও খতিয়ে দেখার চেষ্টা করবো। এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড গাইবান্ধার নির্বাহী প্রকৌশলীর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দিয়েও তাকে পাওয়া যায়নি। ফোনটি বন্ধ ছিল তার।
