চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ধস, ঝুঁকিতে অর্ধশত গ্রাম

ফন্ট সাইজ:

সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার বোগলাবাজার ইউনিয়নে চিলাই নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল দেখা দিয়েছে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএডিসি) ব্লকের নিচ থেকে বালি সরে যাওয়ায় প্রায় দেড়শ’ মিটার এলাকা জুড়ে বাঁধ ও সংলগ্ন সড়ক নদীগর্ভে ধসে পড়ছে। এতে মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়েছে সীমান্তবর্তী এলাকার ১০ থেকে ১৫টি গ্রামের হাজারো মানুষ। সরজমিন জানা যায়, মধ্য ক্যাম্পের ঘাটে শফিকের বাড়ির নিকটে প্রায় দেড়শ’ মিটার এবং দক্ষিণ ক্যাম্পের ঘাটে সুজনের বাড়ির সামনে ১২০ মিটার রাস্তা ধসে নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ক্ষতির মুখে পড়েছে বিএডিসি’র চিলাই নদী রাবারড্যাম প্রকল্পটিও।

পরিস্থিতি দ্রুত অবনতির দিকে যাওয়ায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিগত সরকারের আমলে বিএডিসি কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদার দায়সারা ও নিম্নমানের কাজ করেছে। তার খেসারত দিতে হচ্ছে সীমান্তবর্তী অর্ধশত গ্রামের সাধারণ মানুষকে। মধ্য ক্যাম্পের ঘাট গ্রামের কৃষক সাদ্দাম হোসেন বলেন, বিএডিসি’র কর্মকর্তাদের যোগসাজশে ঠিকাদারের দায়সারা ও নিম্নমানের কাজের কারণে এখন পুরো বেড়িবাঁধ কাম সড়ক বড় ফাটল ও নদীগর্ভে ধসে যাচ্ছে। বোগলাবাজার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মিলন খান বলেন, পরিস্থিতি সত্যিই উদ্বেগজনক। বাঁধ ভেঙে গেলে শুধু ফসল নয়, গোটা এলাকার যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে। আমি ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি।

চিলাই নদী রাবারড্যাম পানি ব্যবস্থাপনা সমবায় সমিতির সভাপতি হারুনুর রশীদ বলেন, রাবারড্যাম প্রকল্পটি এই অঞ্চলের কৃষি সেচের প্রাণ। বেড়িবাঁধ ধসে গেলে পুরো প্রকল্পই হুমকিতে পড়বে। শত শত কৃষক পরিবার সেচ সুবিধা থেকে বঞ্চিত হবে। নিম্নমানের কাজের তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং অবিলম্বে স্থায়ী সংস্কার কাজ শুরু করার দাবি জানাচ্ছি। বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে সুনামগঞ্জ বিএডিসি’র সহকারী প্রকৌশলী কাজী হোসেন আর রাফি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত স্থান সরজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। শিগগিরই বালি ফেলে আপৎকালীন ব্যবস্থা নেয়া হবে। তবে স্থানীয়রা বলছেন, আপৎকালীন ব্যবস্থা নয়, এখনই স্থায়ী সংস্কার না হলে আসন্ন বর্ষায় পুরো বাঁধ ভেসে যেতে পারে। তখন ফসলহানি ও জলাবদ্ধতায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়বে গোটা এলাকা। এলাকাবাসী ও জনপ্রতিনিধিরা অবিলম্বে বেড়িবাঁধের স্থায়ী ও টেকসই সংস্কার, নিম্নমানের কাজের তদন্ত এবং দায়ী ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন