কুষ্টিয়ার দৌলতপুরের প্রাগপুর সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’-এর শিকার শিশুসহ ১২ জনকে তিনদিন পর পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। সোমবার সকাল ১১টার দিকে প্রাগপুর সীমান্ত সংলগ্ন এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও বিএসএফের মধ্যে অনুষ্ঠিত পতাকা বৈঠকের পর ১২ জনকে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি। জানা গেছে, পতাকা বৈঠকে বিজিবি’র পক্ষে কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি’র উপ-অধিনায়ক নুরুল হুদার নেতৃত্বে ৬ থেকে ৮ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
অপরদিকে বিএসএফের রানীনগর কোম্পানি কমান্ডার এসি সুনীল কুমার যাদবের নেতৃত্বে সমসংখ্যক সদস্যের প্রতিনিধিদল উপস্থিত ছিলেন। বিজিবি সূত্র জানায়, গত শুক্রবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১২ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেয়ার (পুশইন) চেষ্টা করে বিএসএফ। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের শনাক্ত করে নিয়ন্ত্রণে নেয় বিজিবি। বিষয়টি নিয়ে সেদিন বিকালে পতাকা বৈঠকের সিদ্ধান্ত হলেও বিএসএফের অসহযোগিতার কারণে তা অনুষ্ঠিত হয়নি। পরদিন শনিবার সকাল সাড়ে ৯টায় বিলগাতুয়া সীমান্ত পিলার সংলগ্ন এলাকায় দুই বাহিনীর মধ্যে আরেকটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
ওই বৈঠকেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হলে ১২ জনকে সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করতে হয়। পরে বিজিবি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ জানালে বিএসএফ বিষয়টি তদন্ত করে সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য সময় চায়। পুশইনের শিকার ব্যক্তিদের মধ্যে উজির আলী (৫০), তার স্ত্রী জয়নুর বেগম (৩৫), ছেলে শিহাদ (১৭), ইনজামুল (৮) ও আড়াই বছরের শিশু সামাদসহ কয়েকজনের পরিচয় জানা গেছে। এ ছাড়া রফিকুল গাজীর পরিবারের তিন সদস্য এবং আফরোজা খাতুনের পরিবারের চার সদস্যও ওই দলে ছিলেন।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি’র অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল রাশেদ কামাল রনি মানবজমিনকে বলেন, বৈঠকের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ১২ জনকে বিএসএফ নিজেদের হেফাজতে ফিরিয়ে নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
