বয়স-বিতর্কে রোনালদো- খেলা দেখেননি?

বয়স-বিতর্কে রোনালদো- খেলা দেখেননি?

ফন্ট সাইজ:

বিশ্বকাপ মানেই স্বপ্নের মঞ্চ। এখানে অনেকের আগমন ঘটে, আবার অনেকের বিদায়ও। তবে কিছু নাম সময়ের গণ্ডি পেরিয়ে আলাদা এক অধ্যায়ে পরিণত হয়। ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো সেই বিরল তালিকার একজন। পর্তুগালের জার্সি গায়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের আগে তিনি খেলেছেন পাঁচটি বিশ্বকাপ। এবার নিয়ে সংখ্যাটি দাঁড়াচ্ছে ছয়ে। বিশ্বকাপ ইতিহাসে টানা ছয়টি আসরে অংশ নেয়ার বিরল কীর্তির দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি। এর মধ্যে চারটি বিশ্বকাপে দেশের নেতৃত্বও দিয়েছেন রোনালদো। বয়সকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এখনও দুর্দান্ত প্রতাপে মাঠ কাঁপিয়ে বেড়াচ্ছেন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা।

তবে এই বয়সে বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করা উচিত কি না, তা নিয়ে বিতর্কও বিস্তর। অবশ্য এসব সমালোচনাকে খুব একটা গুরুত্ব দেন না পর্তুগাল অধিনায়ক। এবারের বিশ্বকাপে পর্তুগালের প্রথম প্রতিপক্ষ কঙ্গো। ১৭ জুন মুখোমুখি হবে দুই দল। বয়সের সীমা অতিক্রম করে মাঠে নিজের ফুটবল-জাদু ছড়িয়ে দিতে মরিয়া রোনালদো। সমালোচকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি দীর্ঘ ব্যাখ্যায় যাননি। বরং পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, আপনারা কি ম্যাচগুলো দেখেননি? এক বাক্যেই যেন নিজের আত্মবিশ্বাস, সামর্থ্য ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করিয়ে দিলেন তিনি।

বিশ্ব ফুটবলে দুই দশকেরও বেশি সময় কাটিয়েছেন রোনালদো। অনেক তারকার উত্থান দেখেছেন, আবার পতনের সাক্ষীও হয়েছেন। তার সমসাময়িকদের অধিকাংশই এখন অবসরে। কেউ কোচিংয়ে, কেউ টেলিভিশনের বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করছেন। কিন্তু রোনালদো এখনও মাঠে। এখনও গোল করছেন। এখনও জাতীয় দলের অধিনায়ক।
সৌদি আরবের ক্লাব আল-নাসরের হয়ে আরেকটি মৌসুম শেষ করে বিশ্বকাপে যোগ দিয়েছেন তিনি। অনেকেই পর্তুগালকে শিরোপার সম্ভাব্য দাবিদারদের কাতারে রাখছেন। তবে এ বিতর্কে যেতে চান না রোনালদো। তার ভাষ্য, পর্তুগাল শিরোপার দাবিদার কি না, সেটি টুর্নামেন্টের শেষে বোঝা যাবে। তবে দল নিয়ে তার আত্মবিশ্বাস স্পষ্ট। তিনি বিশ্বাস করেন, বর্তমান পর্তুগিজ প্রজন্ম দেশের মানুষকে অনেক আনন্দ উপহার দেয়ার সামর্থ্য রাখে। বিশ্বকাপ শুরুর আগে আরেকটি তথ্য আলোচনায় এসেছে। পর্তুগাল দলের মেডিকেল পরীক্ষায় দেখা গেছে, রোনালদোর কিছু শারীরিক সূচক প্রায় সেই পর্যায়েই রয়েছে, যেখানে ২০০৩ সালে জাতীয় দলে অভিষেকের সময় ছিল। বিষয়টি বিস্ময় তৈরি করেছে দলের চিকিৎসক মহলেও।

অবশ্য এর পেছনের গল্প নতুন নয়। কঠোর অনুশীলন, নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত বিশ্রাম এবং অসাধারণ আত্মনিয়ন্ত্রণই রোনালদোর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের ভিত্তি। বিশ্বকাপের আগে হওয়া পরীক্ষাগুলো যেন আরও একবার সেই সত্যকেই সামনে নিয়ে এসেছে। এবারের বিশ্বকাপ তার জন্য অন্যরকম। কারণ একটি অপূর্ণতা এখনও রয়ে গেছে। ক্লাব ফুটবলে প্রায় সবকিছু জিতেছেন। ব্যক্তিগত অর্জনের তালিকাও ঈর্ষণীয়। কিন্তু বিশ্বকাপ ট্রফি এখনও অধরা। হয়তো সে কারণেই তাকে ঘিরে আগ্রহ এত বেশি, প্রশ্নও রয়েছে ঢের। তবে রোনালদোর উত্তর আগের মতোই। বয়স নিয়ে বিতর্কের জবাব তিনি কথায় নয়, দিতে চান মাঠে। ফুটবল বিশ্ব যখন হিসাব কষছে তার সময় ফুরিয়ে এসেছে কি না, তখন রোনালদো যেন উল্টো বার্তাই দিচ্ছেন- বয়স বাড়লেও ‘ তার লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

সূত্র: মার্কা (স্পেনের ট্যাবলয়েড পত্রিকা)

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন