মিডিয়া বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে: ফখরুল

মিডিয়া বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে: ফখরুল

ফন্ট সাইজ:

মিডিয়া এখন করপোরেট বা বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। রোববার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘গণমাধ্যম ও শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় প্রেস ক্লাব এই আলোচনা সভার আয়োজন করে।

বিগত শাসনামলে গণমাধ্যমের একাংশের চাটুকারিতার সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মিডিয়া এখন করপোরেট বা বিজনেস হাউসের প্রতিনিধি হয়ে গেছে। বিগত রেজিমের চাটুকারিতা থেকে মুক্ত হয়ে মুক্ত সাংবাদিকতা ও গণতন্ত্রের পক্ষে সাংবাদিকদের যে লড়াই, তাতে বর্তমান সরকার ও দেশপ্রেমিক জনগণের পূর্ণ সমর্থন থাকবে।’
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, কর্ম ও বহুমুখী রাষ্ট্রনায়কোচিত অবদান নিয়ে আরও বেশি বস্তুনিষ্ঠ ও উচ্চমানের গবেষণার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘ইতিহাসের প্রতি যে অবিচার ও কৃপণতা করা হয়েছে, তা দূর করতে শহীদ জিয়ার পুরো জীবন, তার চিন্তাভাবনা ও কাজ নিয়ে ব্যাপক গবেষণা হওয়া প্রয়োজন।’

ফখরুল বলেন, ‘প্রয়াত বিশিষ্ট সাংবাদিক মাহফুজুল্লাহ’র লেখা বই ছাড়া শহীদ জিয়াকে নিয়ে তেমন কোনো তথ্যসমৃদ্ধ ও গবেষণালব্ধ কাজ চোখে পড়ে না। এই মহান নেতার অবদানকে নতুন প্রজন্মের কাছে সঠিকভাবে তুলে ধরার জন্য তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এখন রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে বড় ধরনের গবেষণা পরিচালনার সুযোগ রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘‘শহীদ জিয়া তার শাসনামলে রাষ্ট্রের প্রতিটি মৌলিক ক্ষেত্রে হাত দিয়েছিলেন এবং সফলতার সূচনা করেছিলেন। শহীদ জিয়ার সবচেয়ে বড় অবদান ছিল ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ দর্শনের মাধ্যমে এই ভূখণ্ডের মানুষের নিজস্ব ও স্বতন্ত্র ভৌগোলিক পরিচয় তথা আইডেন্টিটি বা সত্তা প্রতিষ্ঠা করা।’’

শহীদ জিয়ার গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের প্রতি অগাধ বিশ্বাসের কথা স্মরণ করে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘‘৭৫-এর পটপরিবর্তনের পর ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে সব রাজনৈতিক দলকে এক সুতায় গেঁথে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সূচনা করেছিলেন জিয়াউর রহমান। তিনি মুসলিম লীগসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলগুলোকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করেন। একটি ‘লিবারেল ডেমোক্রেসি’ বা উদারপন্থি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি গঠন করেছিলেন।’’

৭৪-এর মানবসৃষ্ট ভয়াবহ দুর্ভিক্ষের প্রেক্ষাপট টেনে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তৎকালীন আন্তর্জাতিক মহলে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত হওয়া একটি ভঙ্গুর অর্থনীতিকে শহীদ জিয়া তার কঠোর পরিশ্রম দিয়ে টেনে তুলেছিলেন। তিনি দেশের আনাচে-কানাচে পায়ে হেঁটে, কৃষকের ঘরের দুয়ারে গিয়ে মানুষের মনে আশার আলো জ্বালিয়েছেন।’’
নিজ অভিজ্ঞতার স্মৃতিচারণ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দিনাজপুর সফরকালে প্রেসিডেন্ট জিয়া আকস্মিকভাবে গাড়ি থামিয়ে এক অতি সাধারণ ও দরিদ্র মায়ের কুটিরে ঢুকে পানি পান করেছিলেন। রাষ্ট্রনায়ক হয়েও সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন একাত্মতা প্রকাশের ফলেই শাহাদাতের পর লাখ লাখ মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তার জানাজায় শরিক হয়েছিল, কান্নায় ভেঙে পড়েছিল।’

জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজের সভাপতিত্বে এবং ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব ভূঁইয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি শহীদুল ইসলাম, দৈনিক যুগান্তর সম্পাদক কবি আবদুল হাই শিকদার প্রমুখ।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন