ভোটে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান এমন এক সময় দেশের দায়িত্ব নিচ্ছেন যখন নানামুখী সংকট ও চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি। একদিকে রোজা ও ঈদ বাজার পরিস্থিতি মোকাবিলা অন্যদিকে চার মাসের মধ্যে একটি নতুন বাজেট প্রণয়ন করা। বিশেষ করে বর্তমান প্রেক্ষাপটে, যখন অর্থনীতি বহুমাত্রিক চাপে, মূল্যস্ফীতি দীর্ঘস্থায়ী, ব্যাংকিং খাতে আস্থাহীনতা স্পষ্ট, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ চাপের মুখে, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ব্যবস্থায় বৈষম্য প্রকট এবং প্রশাসনিক কাঠামোয় কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে- তখন প্রথম ১৮০ দিন হয়ে ওঠে একটি নীতিগত রিসেটের সময়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নতুন সরকারের প্রথম ১৮০ দিন বা চার মাস কেবল একটি সময়কাল নয়- বরং এটি রাষ্ট্র পরিচালনার দর্শন এবং ভবিষ্যৎ অর্থনীতির গতিপথ নির্ধারণের এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ।
সম্প্রতি গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলেছেন ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের (আইসিসি বাংলাদেশ)-এর প্রেসিডেন্ট মাহবুবুর রহমান, অর্থনীতিবিদ ও ল্যাবএইড ক্যান্সার হাসপাতাল অ্যান্ড সুপার স্পেশালিটি সেন্টারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর সাকিফ শামীম এবং সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) বিশেষ ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান। মাহবুবুর রহমান বলেন, গত দেড় বছর সরকার অনেকটাই বেসরকারি খাত থেকে সরে গেছে। ফলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতি এক গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। এ অবস্থায় নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর সরকারকে বেসরকারি খাতের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার ও বেসরকারি খাতের যৌথ উদ্যোগে অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা উচিত। তার মতে, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটিয়ে টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো স্বাধীন ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা। রাজনৈতিক পরিবর্তন হলেও অর্থনৈতিক নীতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা জরুরি। সাকিফ শামীম বলেন, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা ছাড়া অন্য কোনো সংস্কার টেকসই হবে না। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেবল বাজার তদারকি বা ভ্রাম্যমাণ আদালত যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন একটি সমন্বিত ‘ইকোনমিক স্ট্যাবিলাইজেশন ফ্রেমওয়ার্ক’, যেখানে অর্থ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ ব্যাংক, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও কৃষি খাতের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় থাকবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ চেইনের দুর্বলতা-আমদানি পর্যায় থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত, ডেটাভিত্তিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে চিহ্নিত করতে হবে।
মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, নতুন সরকারকে মূল্যস্ফীতি ৪ থেকে ৫ শতাংশের মধ্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাজারে সরবরাহ বাড়ানো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। সরবরাহ বাড়াতে হলে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে। কিন্তু উচ্চ সুদের হার বিনিয়োগের পথে বড় বাধা। এটি একদিনে কমানো সম্ভব নয়, তবে ‘কস্ট অব ডোয়িং বিজনেস’ কমানো, বন্দরগুলোর টার্নওভার টাইম হ্রাস, সিঙ্গেল উইন্ডো চালু এবং লজিস্টিকস নীতিমালা বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা তৈরি করা সম্ভব। তিনি বলেন, অর্থনীতি পুনরুজ্জীবিত করতে সুশাসন ও আইনশৃঙ্খলা উন্নত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধ ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আস্থা ফিরিয়ে টেকসই অর্থনীতি নতুন সরকারের ১৮০ দিন
অর্থনৈতিক রিপোর্টার
২২ ফেব্রুয়ারি (রবিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
