জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনপ্রত্যাশাও বেশি: বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী

ফন্ট সাইজ:

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, বিএনপি জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার। তাই এই সরকারের প্রতি জনগণের প্রত্যাশাও অনেক বেশি। এই জনপ্রত্যাশা পূরণে আমাদের সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। আর সে কারণেই আমাদের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মকাণ্ড হাতে নিয়েছেন। গতকাল যশোরের জেলা প্রশাসনের আয়োজনে কালেক্টরেট সভাকক্ষে মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার জনগণের সঙ্গে আমাদের সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় চুক্তি। যে চুক্তির মূল শর্তই হচ্ছে- সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। ভাষা আন্দোলন আমাদের সেই অধিকার আদায়ের প্রেরণা হিসেবে কাজ করে। ১৯৬৬ সালের ছয় দফা থেকে শুরু করে ’৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, ১৯৯০ সালে স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের পতন এবং সর্বোপরি ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতন- এই সকল আন্দোলনের মূল প্রেরণা কিন্তু ১৯৫২ সালের সেই ভাষা আন্দোলন। তাই ভাষা আন্দোলন হচ্ছে বাঙালির স্বাধিকার ও স্বাধীনতার মূল মন্ত্র। শহীদ মিনার আমাদের সেই উৎসের প্রেরণা। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান। বিশেষ অতিথি ছিলেন পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও যশোর প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন। আলোচনা সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অধ্যাপক মোফাজ্জল হোসেন। পরে একই কক্ষে জেলার সকল সরকারি দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হন জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী। তিনি এসব দপ্তরের সরকারের ১৮০ দিনের মধ্যে অগ্রাধিকার প্রকল্পসমূহের বাস্তবায়ন এবং জনগণের কল্যাণে দৃশ্যমান উন্নয়ন নিশ্চিত করার তাগিদ দেন। এ সময় প্রতিমন্ত্রী বলেন, আপনারা বিগত দু’টি সরকারের আমলে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের অধীনেও দায়িত্ব পালন করছেন। আপনাদের মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। ফ্যাসিস্ট রিজমের মনমানসিকতা দূর করে জনগণের সেবক হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। জনগণের ভোটে নির্বাচিত বিএনপি সরকারের দায়বদ্ধতা জনগণের কাছে। আপনাদের দায়বদ্ধতাও ওই জনগণের কাছে। জনগণই সবার আগে। মনে রাখবেন- সবার আগে দেশ ও জনগণ। তিনি বলেন, আমরা অতীতের মতো দলকানা কোনো কর্মকর্তাদের দেখতে চাই না এবং প্রত্যাশা করি না। আপনারা (সরকারি কর্মকর্তা) পেশাদারিত্বের ভিত্তিতে কাজ করবেন। কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে তুলে ধরে বিশেষ আনুকূল্য পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই কিংবা ট্যাগিংয়ের প্রয়োজন নেই। আপনার পারফরম্যান্স আপনার হয়ে কথা বলবে। যতক্ষণ আপনার পারফরম্যান্স আপনার হয়ে কথা বলবে কিংবা আপনি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের সমন্বয়ে কাজ করবেন তাহলে আমরা যে কারও সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত। কিন্তু কারও মনে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য থাকলে সমস্যাটা সেখানে। জনগণের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষাটা উপলব্ধির জায়গা থেকে কাজ করলে কোনো সমস্যা হবে না। এদিকে, মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মার্তৃভাষা দিবস উপলক্ষে জেলা প্রশাসন ও জেলা প্রতিবন্ধী বিষয়ক কার্যালয়ের উদ্যোগে জেলার ৩৫ জন বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুর মধ্যে হুইল চেয়ার ও খাদ্য সামগ্রী এবং মহান শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন ইভেন্টে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার বিতরণ করেন প্রধান অতিথি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। সমগ্র আয়োজনে জেলা বিএনপি’র সভাপতি এড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান, এডিসি জেনারেল সুজন সরকার, জেলা পরিষদের সিইও এস এম শাহীন, সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন