যশোর শহরতলীর পুলেরহাটের আদ্-দ্বীন সখিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভুল চিকিৎসায় এক ব্যবসায়ীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার রাত ১১টার পর। উত্তেজিত স্বজনেরা এ সময় হাসপাতালে বিক্ষোভ করেন। তাদের দাবি, শার্শার বাগআঁচড়া থেকে জ্বর নিয়ে ইমরান হোসেন নামে এক ব্যবসায়ী হাসপাতালে এসেছিলেন ডেঙ্গু পরীক্ষা করাতে। চিকিৎসক তাকে পরীক্ষা করার পর ডেঙ্গু পজিটিভ হওয়ায় নিজ উদ্যোগে হাসপাতালে ভর্তি করান এবং ইনজেকশন দেন। এরপরই ইমরান অসুস্থ হয়ে পড়েন। কিছু সময় পর তিনি মারা যান। কিন্তু মৃত ইমরানকে জীবিত বলে প্রায় ৩ ঘণ্টা আইসিইউতে রাখা হয়। পরে রাত ১১টার দিকে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি স্বজনেরা কিছুতেই মেনে নিতে পারেননি।
এ নিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত হাসপাতালে চরম উত্তেজনা বিরাজ করে। বিক্ষোভে ফেটে পড়েন স্বজনেরা। ইমরানের মা ক্ষুব্ধ হয়ে হাসপাতালের দিকে জুতা নিক্ষেপ করেন। এ সময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তোপের মুখে পড়ে। হাসপাতালের পরিচালক ডা. ইমদাদ হোসেন হিমশিম খেয়ে যান পরিস্থিতি সামাল দিতে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোতোয়ালি থানার এসআই জাহিদ হাসানের নেতৃত্বে একটি টিম সেখানে গিয়ে দুইপক্ষের সঙ্গে কথা বলে। স্বজনেরা দাবি করেন, যে চিকিৎসক চিকিৎসা দিয়েছেন তাকে হাজির করতে হবে। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে হাজির করেননি। প্রায় দেড় ঘণ্টা পর পুলিশের উপস্থিতিতে পরিচালক বলেন, চিকিৎসক আসছেন। কিন্তু ডাক্তাররা আর আসেননি। পরে পরিবারের সদস্যরা কোতোয়ালি থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। ইমরান বাগআঁচড়া গাজীপাড়ার শওকত আলী বিশ্বাসের ছেলে। পেশায় তিনি একজন মাছ ব্যবসায়ী ছিলেন।
জানা গেছে, ইমরানের সংসারে ১৭ মাস বয়সী একমাত্র ছেলে এলহাম রয়েছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম সদস্যের আকস্মিক মৃত্যুতে স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পর রোগীর শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে তাদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। বরং চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় গাফিলতি, প্রয়োজনীয় পরীক্ষা ছাড়াই ওষুধ ও ইনজেকশন প্রয়োগ এবং রোগীর অবনতিশীল অবস্থাকে গুরুত্ব না দেওয়ার কারণেই তার মৃত্যু হয়েছে।
