কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলো ফের ফিরে আসতে পারে

কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলো ফের ফিরে আসতে পারে

ফন্ট সাইজ:

পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবং মহারাষ্ট্রের শরদ পাওয়ারের ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি-এসপি) কি কংগ্রেসে ফিরে আসবে? তৃণমূল কংগ্রেসে চলমান সংকটের মধ্যে রাজনৈতিক মহলে এই নিয়ে জোরালো জল্পনা চলছে যে, কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলো আবার দলে ফেরার পরিকল্পনা করছে। যদিও কংগ্রেসের সাংগঠনিক সাধারণ সম্পাদক কেসি ভেনুগোপাল বৃহস্পতিবার তৃণমূল কংগ্রেসের একীভূত হওয়ার আলোচনাকে ‘ভিত্তিহীন গুজব’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। কিন্তু মহারাষ্ট্রে দলের প্রবীণ নেতা নানা পাটোলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, এই পদক্ষেপ নেয়া হতে পারে। তবে কংগ্রেস চায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফিরে আসার ব্যাপারে প্রথম পদক্ষেপ নিক।

পাটোলে বলেছেন যে, ‘সমমনা দলগুলো’ কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাটোলে সাংবাদিকদের বলেন, ‘শরদ পাওয়ার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হওয়ার জন্য মনস্থির করছেন।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, এটি কোনো জোট হবে না, বরং একীভূত হবে।

পাটোলে আরও দাবি করেন এনসিপি-এসপি একীভূত হওয়ার একটি প্রস্তাব শরদ পাওয়ারের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই দেয়া হয়েছে এবং তা নিয়ে কাজ চলছে। আমার মনে হয়, দেশের রাজনীতিতে এখন যা কিছু ঘটছে... ভোটের ব্যাপক বিভাজন রোধ করতে... ধর্মনিরপেক্ষ, বহুত্ববাদী আদর্শের সব দলের এক হওয়া উচিত। পাটোলে দাবি করেন, এই প্রক্রিয়া এখন জাতীয় পর্যায়ে শুরু হয়েছে, এবং তৃণমূল কংগ্রেস হোক বা পাওয়ার সাহেব, সবাই এখন কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হতে আগ্রহ দেখাচ্ছে।

কয়েকদিন আগে শিবসেনার ইউবিটি নেতা সঞ্জয় রাউতও একই ধরনের মনোভাব প্রকাশ করেছিলেন। তিনি কংগ্রেস থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে জন্ম নেয়া ছোট দলগুলোকে পুনরায় কংগ্রেসে একীভূত করার ক্ষেত্রে ‘নেতৃত্ব দিতে’ শরদ পাওয়ারকে অনুরোধ করেন। রাউত বলেছিলেন, কংগ্রেসকে শক্তিশালী হতে হবে এবং এর থেকে জন্ম নেয়া ছোট দলগুলোর নেতাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে। এটিকে একটি ‘ভালো প্রস্তাব’ আখ্যা দিয়ে এনসিপি-এসপি নেত্রী এবং শরদ পাওয়ারের কন্যা সুপ্রিয়া সুলে বলেছিলেন যে, এরপর কী হবে তা কেবল সময়ই বলতে পারবে। রাউতের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান না করে তিনি রহস্যময় জবাব দিয়ে বলেছিলেন, আগে বৃষ্টি হোক, তারপর দেখা যাবে ছাতা নেবো নাকি রেইনকোট।

রাজনৈতিক গুঞ্জনে যোগ দিয়ে, কংগ্রেসের প্রবীণ নেতা এবং রাজস্থানের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অশোক গেহলটও ছোট দলগুলোকে কংগ্রেসের সঙ্গে একীভূত হয়ে রাহুল গান্ধীকে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
গেহলট বলেন, সঞ্জয় রাউত যা বলেছেন তাতে যুক্তি আছে। সময় এসে গেছে। কংগ্রেস থেকে আলাদা হয়ে যে সমস্ত দল আঞ্চলিক দল হয়ে গিয়েছিল, তাদের পুনরায় যোগ দেয়া উচিত এবং রাহুল গান্ধীকে নেতা হিসেবে আন্তরিকভাবে মেনে নেয়া উচিত। তিনি বলেন, সারা দেশে এই বার্তা থাকা উচিত যে, ভারত জোটের নেতা হলেন রাহুল গান্ধী। এই বার্তাটি সুস্পষ্ট হওয়া উচিত। তাহলেই জনগণ আপনাদের সফল করবে। তারা দেখে যে একদিকে আছেন নরেন্দ্র মোদিজি এবং অন্যদিকে রাহুল গান্ধীজি। যদি এই সুস্পষ্ট বার্তা থাকে যে সমস্ত রাজনৈতিক দল একসঙ্গে রাহুল গান্ধীকে তাদের নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছে, তাহলে আপনারা দেখবেন যে দেশের ভোটের ধরন বদলে যাবে।

শরদ পাওয়ার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দু’জনেই কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে নিজেদের আঞ্চলিক দল গঠন করেছিলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ১৯৯৮ সালে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে এসে তৃণমূল কংগ্রেস শুরু করলেও, শরদ পাওয়ার ১৯৯৯ সালে ন্যাশনালিস্ট কংগ্রেস পার্টি (এনসিপি) প্রতিষ্ঠা করেন। সোনিয়া গান্ধীর ‘বিদেশি বংশোদ্ভূত’ হওয়ার ইস্যুতে কংগ্রেস থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর তিনি পি.এ. সাংমা এবং তারিক আনোয়ারের সঙ্গে মিলে দলটি প্রতিষ্ঠা করেন। তারিক আনোয়ার পরে কংগ্রেসে ফিরে আসেন এবং বর্তমানে তিনি একজন সাংসদ।

২০২৩ সালে যখন শরদ পাওয়ারের ভাইপো অজিত পাওয়ার দলের প্রধানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন, তখন শরদ পাওয়ারের এনসিপিকেও আজকের তৃণমূল কংগ্রেসের মতোই একই পরিণতির সম্মুখীন হতে হয়। তিনি দলের অধিকাংশ বিধায়কের সমর্থন পেয়ে এনসিপি’র নাম ও প্রতীক দাবি করেন এবং জিতে নেন। এরপর তিনি মহারাষ্ট্রে এবং জাতীয় পর্যায়ে বিজেপি ও শিবসেনার সঙ্গে জোটবদ্ধ হন।

এই সপ্তাহে তৃণমূল কংগ্রেস ও কংগ্রেসের পর পর দুটি বৈঠকের পর আলোচনা শুরু হয়েছে কংগ্রেস থেকে বেরিয়ে যাওয়া দলগুলোর কংগ্রেসে ফেরার ব্যাপারে। প্রথমটি হয় মঙ্গলবার তৃণমূল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে কংগ্রেসের সোনিয়া গান্ধীর এবং তারপর বুধবার তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক ব্যানার্জীর সঙ্গে বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধীর বৈঠক।

সূত্রের খবর, বুধবারের দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠকে অভিষেক ব্যানার্জী জানিয়েছেন যে, তৃণমূল কংগ্রেস একটি শক্তিশালী জোট চায় এবং বিরোধী জোটে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্ব মেনে নিয়েছে। কংগ্রেস স্পষ্ট করে দিয়েছে যে, জোটে যোগদানের যেকোনো প্রস্তাব তৃণমূলের পক্ষ থেকেই আসতে হবে এবং তারা এই ধরনের কোনো পদক্ষেপের জন্য চাপ দিচ্ছে না।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন