ভূমধ্যসাগরে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ডের আগমন ওয়াশিংটনের ইরান কৌশল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। একদিকে কূটনৈতিক আলোচনা চলছে। অন্যদিকে সামরিক প্রস্তুতি জোরদার হচ্ছে। এতে বোঝা যায়, যুক্তরাষ্ট্র হয়তো দ্বিমুখী কৌশল নিচ্ছে। আলোচনা ও চাপ দুটোই একসঙ্গে ব্যবহার করছে। কূটনৈতিক সমঝোতায় ইরানকে প্রায় ১৫ দিন সময় দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু যুদ্ধের ময়দানে কাউকে বিশ্বাস করা যায় না। এই সময় দেয়ার ভিতরেই হামলা করবে না যুক্তরাষ্ট্র, এ গ্যারান্টি কে দিতে পারে! অনলাইন গাল্ফ নিউজ এ খবর দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য চুক্তির ব্যাপারে প্রায় ১০ দিনের মধ্যে স্পষ্ট অবস্থা জানা যাবে। কিন্তু তিনি সতর্ক করে দিয়েছেন, আলোচনা ব্যর্থ হলে খারাপ কিছু ঘটতে পারে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক পারমাণবিক আলোচনার পর তারা কয়েক দিনের মধ্যে একটি খসড়া পাল্টা প্রস্তাব দিতে পারেন। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর শর্তগুলো তেহরান পুরোপুরি মেনে নেবে- এমন সম্ভাবনা কম। ফলে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেয়া যাচ্ছে না।
ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদনে বর্তমান ও সাবেক মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এমন একটি শক্তিশালী সামরিক বাহিনী প্রস্তুত রেখেছে যা শুধু সীমিত হামলাই নয়, প্রয়োজনে দীর্ঘমেয়াদি অভিযানও চালাতে সক্ষম। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্য ও আশপাশের এলাকায় যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন নজরদারি ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে আছে চারটি আরসি-১৩৫ভি ও একটি পি-৮এ পোসেইডিন নজরদারি বিমান। এগুলো জমা আছে গ্রিস, জর্ডান, বাহরাইনে। এফ-১৬ ফাইটিং ফলকন যুদ্ধবিমান অবস্থান করছে সৌদি আরবে। জর্ডানের আজরাকে আছে ২টি আরসি-১৩৫ভি রেনেসাঁ যুদ্ধবিমান, ৫টি পি-৮এ পোসেইডন রেনেসাঁ যুদ্ধবিমান। সৌদি আরবের আল খারজে আছে ৩টি ই-১১এ বিএসিএন যুদ্ধক্ষেত্রে যোগাযোগ বিষয়ক বিমান, বহুবিধ কাজে ব্যবহার উপযোগী এফ-১৬ ফাইটিং ফলকন, পি-৮এ পোসেইডন রেনেসাঁ যুদ্ধবিমান, ই-৩ আগাম সতর্কীকরণ ও নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক যুদ্ধবিমান। লোহিত সাগর বা হরমুজ প্রণালীতে মোতায়েন আছে ইউএনএস ডেলবার্ট ডি ব্ল্যাক ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস মিটশের ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস সান্তা বারবারা- লিটোরাল কম্ব্যাট শিপ, ইউএসএস মাইকেল মারফি ডেস্ট্রয়ার। আরব উপসাগরে আছে ইউএসএস তুলসা লিটোরাল কম্ব্যাট শিপ, ইউএসএস ক্যানবেরা লিটোরাল কমব্যাট শিপ। ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপে আছে ফোর্ড ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, বিমানবাহী ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড, ইউএসএস বেইনব্রিজ ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস মোহান ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস উইনস্টন এস চার্চিল ডেস্ট্রয়ার। বিমানবাহিনীতে যেসব সম্পদ জড়ো করা হয়েছে তার মধ্যে আছে এফ/এ-১৮ই সুপার হর্নেট ফাইটার, ইএ-১৮জি গ্রোলার ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার এয়ারক্রাফট, আগাম সতর্কবার্তা বিষয়ক বিমান ই-২ হকি, এমএইচ-৬০আর/এমএইচ-৬০এস সি হক হেলিকপ্টার, সি-২এ গ্রেহাউন্ড কার্গো বিমান, লিঙ্কন ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রুপ, বিমানবাহী ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন, ইউএসএস ফ্রাঙ্ক ই পিটারসেন জুনিয়ার ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস স্প্রুয়েন্স ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস ম্যাকফাউল ডেস্ট্রয়ার, ইউএসএস পিঙ্কনি ডেস্ট্রয়ার। কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, এমন প্রস্তুতির সঙ্গে ঝুঁকিও রয়েছে মার্কিন সেনাদের প্রাণহানির আশঙ্কা, ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা, আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীর সক্রিয়তা, হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে বিঘ্ন। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের প্রচলিত সামরিক শক্তি অনেক বেশি, ইরান ক্ষেপণাস্ত্র, অসম যুদ্ধকৌশল ও জ্বালানি রুটে বিঘ্ন ঘটিয়ে বড় মূল্য চাপাতে পারে। সিএনএন জানিয়েছে, এখনো সামরিক হামলার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। মার্কিন সেনারা নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তুর তালিকা পায়নি, যা ইঙ্গিত করে যে প্রেসিডেন্ট আনুষ্ঠানিকভাবে হামলার অনুমোদন দেননি।
