হামের ভয়াবহ বিস্তার: চমেক হাসপাতালে রোগীর চাপ দ্বিগুণ

ফন্ট সাইজ:

উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে হামের প্রকোপ। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে এখন আর রোগী রাখার জায়গা নেই। নির্ধারিত শয্যার প্রায় দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় এক বিছানায় দুই শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। একইসঙ্গে পেডিয়াট্রিক ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (পিআইসিইউ) শয্যার সংকটে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের জীবনও ঝুঁকির মুখে পড়ছে। চমেক হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে নতুন করে আরও ৬ শিশুর হাম শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে জেলায় মোট হাম আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৫ জনে। এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে ১০ শিশু এবং নিশ্চিত হাম আক্রান্ত হয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬০ শিশু হামের উপসর্গ নিয়ে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ২৮৩ জন শিশু। এ পর্যন্ত মোট ভর্তি হয়েছে ২ হাজার ৭৬৪ জন, যার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে ২ হাজার ৪৮১ জন। এদিকে গতকাল আরও ১০৪ শিশুর নমুনা পরীক্ষার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। এখন পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৫৪৯ শিশুর নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় চিকিৎসক ও নার্সদেরও হিমশিম খেতে হচ্ছে। হাসপাতালে ভর্তি হওয়া শিশুদের মধ্যে রয়েছে সাড়ে তিন বছরের হাফছা আক্তার। গত মঙ্গলবার রাতে জ্বর, কাশি ও শরীরে র‌্যাশ নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে পরীক্ষায় তার হাম শনাক্ত হয়। বর্তমানে সে হাম ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, সবচেয়ে বড় সংকট দেখা দিয়েছে পিআইসিইউ শয্যা নিয়ে। চমেক হাসপাতালে মোট ২০টি পিআইসিইউ শয্যার মধ্যে ১৫টি হাম আক্রান্ত শিশুদের জন্য বরাদ্দ থাকলেও চাহিদার তুলনায় তা অপ্রতুল। প্রতিদিন গড়ে ১০ জনের বেশি গুরুতর শিশুর পিআইসিইউ প্রয়োজন হলেও শয্যা সংকটের কারণে অনেককে সাধারণ ওয়ার্ডেই চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। সম্প্রতি ৫ মাস বয়সী এক শিশু হামের জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে পিআইসিইউ সাপোর্টের অপেক্ষায় থাকলেও শয্যা না পাওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম নগরের ৯টি ওয়ার্ডকে হামের ‘হটস্পট’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এগুলো হলোÑ জালালাবাদ, চান্দগাঁও, উত্তর পাহাড়তলী, লালখান বাজার, পূর্ব বাকলিয়া, আলকরণ, দক্ষিণ মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর ও উত্তর পতেঙ্গা।
এদিকে হাম শনাক্তে চট্টগ্রামে কার্যকর পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকায় রোগীদের নমুনা ঢাকার ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড মিজলস-রুবেলা ল্যাবরেটরিতে পাঠানো হচ্ছে। যদিও ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি)-এ হাম পরীক্ষার সক্ষমতা রয়েছে, তবে কিট সংকট ও অনুমোদনের অভাবে পরীক্ষা চালু করা যাচ্ছে না। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন মানবজমিনকে বলেন, রোগীর চাপ ক্রমাগত বাড়ছে। কোনো কোনো শয্যায় দুই শিশুকে একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। শুধু শিশু নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও হামে আক্রান্ত হচ্ছেন। ইতিমধ্যে একজন ইন্টার্ন চিকিৎসকও আক্রান্ত হয়েছেন। জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, হাম প্রতিরোধে সম্প্রতি এক মাসব্যাপী টিকাদান কর্মসূচি সম্পন্ন হয়েছে এবং লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি শিশুকে টিকা দেয়া হয়েছে। তবে আক্রান্ত শিশুদের চিকিৎসা ও নমুনা পরীক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন