কালোটাকা সাদা করার বিষয়ে ভুল ব্যাখ্যা হচ্ছে: এনবিআর চেয়ারম্যান

ফন্ট সাইজ:

জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে কালোটাকা সাদা করার একটি বিষয় সংযোজন করেছে সরকার। এতে নানা আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকে সরকারের এই সিদ্ধান্তকে আত্মঘাতী বলেও অভিহিত করেন। গতকাল বাজেটোত্তর সংবাদ সম্মেলনে বিষয়টি নিয়ে ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এনবিআর চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান। এ সময় তিনি বাজেটে এবারো ‘কালোটাকা সাদা করার সুযোগ’ রাখার সমালোচনা হলেও একে ‘কালোটাকা সাদা করার সুযোগ’ বলে মানতে রাজি নন। তিনি বলেন, এবারের বাজেটে কালোটাকা সাদা করার কোনো প্রভিশন রাখা হয় নাই। আমার মনে হয়, আপনাদের মধ্যে একটু ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হয়েছে। অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ নিয়ে প্রতিবারই বাজেটের সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়। এবার যেন সেই সুযোগ না থাকে, সেই দাবি বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছিল।

শুক্রবার বিকালে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, একটি বিষয় বুঝতে ভুল হচ্ছে। আব্দুর রহমান বলেন, আমরা ছোট্ট একটা প্রভিশন গত বছরই করেছিলাম, যারা জমি বিক্রি করেন, যে টাকা পান, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হয় কম দামে। অথচ উনার টাকাটা কিন্তু হোয়াইট, উনি জমি বিক্রি করেছেন ৫ কোটি টাকায়, রেজিস্ট্রেশন হয়েছে ১ কোটি টাকায়। বাকি ৪ কোটি টাকা নিয়ে উনি খুব বিপদগ্রস্ত থাকেন। সে কারণে আমরা গত বছরেই একটা সুযোগ করেছিলাম যে, উনি যদি বাকি ৪ কোটি টাকা প্রমাণ করতে পারেন যে উনার ব্যাংকিং চ্যানেলে লেনদেন হয়েছে এবং উনার যদি বায়নানামা থাকে, যদি প্রুভ করতে পারেন, তাহলে উনি ওটার উপরে রেগুলার ট্যাক্স এবং ১৫% গেইন ট্যাক্স, সেই হারে ট্যাক্স দিয়ে এটা দেখাতে পারবেন। আব্দুর রহমান আরও বলেন, এটা আমরা গতবারই করেছি, এটা ছিল সেলারের দিক থেকে। এবার বায়ারের জন্যও একইরকম একটা সুবিধা চিন্তা করা হয়েছিল যে, বায়াররাও ঝামেলায় পড়েন যে একটা ফ্ল্যাট উনি কিনলেন ২০ কোটি টাকা দিয়ে, কিন্তু রেজিস্ট্রেশন হলো ৩ কোটি টাকায়। আমাদের ট্যাক্সের লোকজন উনাকে গিয়ে আবার চেইজ করে যে, আমাদের কাছে প্রমাণ আছে আপনি ২০ কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন, আপনার এখন এটার উপরে এক্সট্রা ট্যাক্স দিতে হবে, জরিমানাসহ।
তারাও বিরাট বড় একটা ঝামেলায় পড়ে যায়। তাদের একটু রিলিফ দেয়ার জন্য এবার বাজেটে নতুন বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে জানিয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, যদি উনারা নিজেদের থেকে ডিক্লেয়ার করেন, যাতে করে উনি ২০% এক্সট্রা দিয়ে, রেগুলার ট্যাক্সের প্লাস ১৫% এক্সট্রা দিয়ে, যাতে এটা দেখাতে পারেন। আর যাদের নিজের টাকা আছে অলরেডি, যার ট্যাক্স দেয়ার টাকা আছে, হোয়াইট মানি আছে, তাকে কোনো ট্যাক্স দিতে হবে না। এরকম একটা প্রভিশন আছে, তবে এটা নিয়ে যদি আপত্তি থাকে, আমার মনে হয় স্যাররা এটা নিয়ে চিন্তাভাবনা করবেন।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন