কলকাতা জুড়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা তুঙ্গে। বিশ্বকাপের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে শহরতলিতেও। বিশ্বকাপের প্রিয় দলগুলোর রঙ, পতাকা আর ব্যানারে শহরের পাশাপাশি শহরতলীও সেজে উঠেছে। বিশ্বকাপ শুরু হতেই ফুটবলপ্রেমী বাঙালির চোখের ঘুম উবে গেছে। তরুণদের বড় অংশ অফিসে দেরিতে যাবার আবেদন জানিয়ে রেখেছেন। অনেকে চোখ ঢুলু অবস্থায় হাজির হচ্ছেন অফিসে। বিশ্বকাপের আমেজে পুরো কলকাতা আচ্ছন্ন। শহরের অলিগলিতে বিভিন্ন ফুটবল দলের পতাকা, পোস্টার আর শিল্পকর্মে সেজে উঠেছে। মধ্য কলকাতার একটি রাস্তার নাম হয়ে গিয়েছে ফিফা গলি। কলেজ স্ট্রিটের কাছে বেনিয়াটোলার কাছে ফকির চক্রবর্তী লেনে আকাশ দেখা দুষ্কর। ছেয়ে রয়েছে ব্রাজিলের পতাকা। একটি দু’টি নয় কয়েক শ’। আর রাস্তার দু’পাশের বাড়ির দেয়াল বিশ্বকাপের নানা ছবিতে রঙিন হয়ে উঠেছে। কোথাও আবার প্রিয় খেলোয়াড়ের ছবি ও কাটআউট।
ধর্মতলার ময়দান মার্কেটের খেলাধুলার সামগ্রী বিক্রির দোকানগুলোতে বিভিন্ন দলের পতাকা ও জার্সি কেনার জন্য প্রতিদিন ভিড় বাড়ছে। স্কুল- কলেজের ছাত্ররাই বেশি আসছেন। সাধারণ মানুষও আসছেন। কেউ ব্রাজিলের জার্সি কিনছেন তো কেউ আর্জেন্টিনার। আর এই জার্সির মধ্যে ১০ নম্বর জার্সির চাহিদাই বেশি বলে জানালেন দোকানি বাবলু দাশ। তিনি জানালেন, বিশ্বকাপ উপলক্ষে আগে থেকেই বিভিন্ন দলের জার্সি ও পতাকা মজুত করে রেখেছি। আশা করছি, বিশ্বকাপ শেষ হওয়া পর্যন্ত চাহিদা থাকবে। আজকার মেয়েদেরও দেখা যাচ্ছে জার্সি ও বল কিনতে।
দক্ষিণ কলকাতার অরুণাচল ক্লাবের ফুটবল মাঠে টাঙানো হয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার হোর্ডিং। গাঙ্গুলি বাগানের রাস্তা ভক্তদের প্রিয় দলের ব্যানার ও পোস্টারে ছেয়ে গেছে। গোপালনগরে ব্রাজিলিয়ান দলের গ্রাফিতি আঁকা হয়েছে।
দক্ষিণ কলকাতার মতোই উত্তর কলকাতার অলিগলিতে বিশ্বকাপের স্পর্শ। গিরিশ পার্কের কাছে পুরো রাস্তা ব্রাজিলিয়ান পতাকা দিয়ে সাজানো হয়েছে। সর্বত্র বিশ্বকাপ ফুটবলকে কেন্দ্র করে উৎসবের আবহ। বিভিন্ন দেশের পতাকা ও তারকা ফুটবলারদের ছবি দিয়ে সেজে উঠেছে বিভিন্ন এলাকা।
দক্ষিণ কলকাতার গাঙ্গুলিবাগানের আর্জেন্টিনা ফ্যান ক্লাব অবশ্য আবেগে-আয়োজনে সবাইকে টেক্কা দিতে চলেছে। তারা ইতিমধ্যে আস্ত মাঠ সাজিয়ে ফেলেছে। ১৭ই জুন সকাল সাড়ে ছটায় আর্জেন্টিনার প্রথম খেলা, আলজেরিয়ার বিরুদ্ধে। ক্লাবের তরফে বিশাল স্ক্রিন বসানো হচ্ছে। স্টেডিয়ামের মতো পরিবেশ তৈরি করা হচ্ছে। হাজারখানেক মানুষ জড়ো হওয়ার কথা। ক্লাবের কর্তা উত্তম সাহা জানিয়েছেন, দুই হাজারের বেশি সদস্য মিলে একসঙ্গে খেলা দেখবো। সময়সূচি যাই হোক, পরের ছয় সপ্তাহ জীবনের ছন্দটা একটু বদলে নিতেই হবে। তিনি আরও জানান, ২২শে জুন রাত সাড়ে দশটায় অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের জন্য আরও বেশি মানুষ আসবেন।
পিছিয়ে নেই ব্রাজিলও। নেইমার-ভিনি জুনিয়রদের ফ্যানরা সাজিয়ে গুছিয়ে তৈরি। ব্রাজিলের প্রথম ম্যাচ মরক্কোর বিরুদ্ধে ১৪ই জুন রাত সাড়ে তিনটায়। অনেকের বন্ধুদের নিয়ে দেখার পরিকল্পনা করেছে।
