আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর হেরাতে নারীদের পোশাকবিধি বাস্তবায়নে নৈতিকতা পুলিশের অভিযান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিশেষজ্ঞরা। তাদের অভিযোগ, এ অভিযানের বিরুদ্ধে হওয়া বিক্ষোভ দমনে অন্তত দুজন নিহত হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১১ই জুন) এক বিবৃতিতে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ-নিযুক্ত ১০ জন স্বাধীন বিশেষজ্ঞ বলেন, হেরাতে চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত অন্তত দুজন নিহত এবং ২০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার থেকে হেরাতের নৈতিকতা পুলিশ (মোরালিটি পুলিশ) চাদর বা বোরকা না পরার অভিযোগে কয়েক ডজন নারীকে আটক করতে শুরু করে।
এরই প্রতিবাদে মঙ্গলবার বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তবে নিরাপত্তা বাহিনী বলপ্রয়োগ করে তা ছত্রভঙ্গ করে দেয়।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, এ সময় এক কিশোর গুলিতে নিহত হয়। প্রত্যক্ষদর্শীরা এএফপিকে জানিয়েছেন, বিক্ষোভ দমনে নিরাপত্তা বাহিনী গুলি চালায়। তবে পুলিশ অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে নারীদের আটক করা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি ইচ্ছাকৃত ও বেআইনি আটক হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতে মত প্রকাশের স্বাধীনতা ও লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য থেকে মুক্ত থাকার অধিকার সীমিত হচ্ছে বলেও তারা উল্লেখ করেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, সমতা, শান্তিপূর্ণ সমাবেশ, মত প্রকাশ ও চলাচলের স্বাধীনতা এবং ইচ্ছামতো আটক থেকে সুরক্ষাÑ এসব মৌলিক মানবাধিকার।
আফগানিস্তানে নারীদের পোশাকবিধি বাস্তবায়ন করে থাকে ‘সৎকাজে উৎসাহ ও অসৎকাজ প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়’ (পিভিপিভি)। তাদের নিয়ম অনুযায়ী, নারীদের ঘরের বাইরে বের হলে শরীর প্রায় সম্পূর্ণভাবে আবৃত রাখতে হয়।
তবে বাস্তবে অনেক নারী পূর্ণ বোরকার পরিবর্তে ঢিলেঢালা আবায়া, হিজাব এবং মুখঢাকা কাপড় ব্যবহার করে থাকেন।
এমএসএফ কর্মীও আটক
হেরাতে আটক নারীদের মধ্যে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা ডক্টরস উইদাউট বর্ডারস (এমএসএফ)-এর একজন স্বাস্থ্যকর্মীও ছিলেন।
সংস্থাটি জানায়, ওই কর্মী গত শনিবার হেরাত আঞ্চলিক হাসপাতালের শিশু বিভাগে যাওয়ার পথে নৈতিকতা পুলিশের হাতে আটক হন। তার বিরুদ্ধে পোশাকবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ আনা হয়।
দুইদিন আটক থাকার পর স্বামী ও পরিবারের সঙ্গে লিখিত অঙ্গীকারনামায় সই করার শর্তে তাকে মুক্তি দেয়া হয়। ওই অঙ্গীকারনামায় তাকে নির্ধারিত পোশাকবিধি মানার প্রতিশ্রুতি দিতে হয়।
এমএসএফ এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, এটি বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; আফগানিস্তানে নারীরা ইতিমধ্যেই চলাফেরা ও জনজীবনে অংশগ্রহণে কঠোর বিধিনিষেধের মুখে রয়েছেন।
অন্যদিকে, হেরাতের স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সম্প্রতি নতুন কিছু বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। এগুলো ভঙ্গ করলে আটক বা কারাদণ্ডের শাস্তি হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
বুধবার প্রকাশিত নির্দেশিকায় নারীদের মেকআপ ব্যবহার, চুল ঢেকে না রাখা এবং মোজা না পরার ওপরও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
