বড় স্বপ্ন, বিশাল বাজেট, বিপুল ছাড়

সহযোগীদের খবর

বড় স্বপ্ন, বিশাল বাজেট, বিপুল ছাড়

ফন্ট সাইজ:

প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম ‘বড় স্বপ্ন, বিশাল বাজেট, বিপুল ছাড়’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বড় স্বপ্ন দেখিয়ে ২০ বছর পর ক্ষমতায় এসেছে বিএনপি। মানুষ তাকিয়ে ছিলেন বাজেটের দিকে। সবার স্বপ্নপূরণে বিশাল বাজেটও দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সব পক্ষকে খুশি করতে করের ক্ষেত্রে বিপুল ছাড়ও দিয়েছেন। একই সঙ্গে এই বাজেট বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয়ও বিরাট।
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হচ্ছে, এত বড় বাজেটের জন্য অর্থ কোথা থেকে আসবে। অনেক বেশি হারে কর আদায় করতে হবে। এরপরও ঘাটতি থাকবে অনেক। এ জন্য অর্থমন্ত্রী বেশি ভরসা করেছেন বৈদেশিক ঋণের ওপর। আগের অর্থবছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ ঋণ পেতে হবে। আর সংস্কারের ওপরই নির্ভর করবে বিপুল বৈদেশিক ঋণপ্রাপ্তি।

ব্যাংক খাত দুরবস্থায়। মূল্যস্ফীতি এখনো অনেক বেশি। বেসরকারি বিনিয়োগ আরও কমেছে। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তা তো আছেই। এ রকম এক অবস্থায় অনেক স্বপ্নপূরণের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী।
এমনকি আগামী পাঁচ বছরে দেশকে কোথায় নিয়ে যেতে চান, সে কথাও বলেছেন। কিন্তু কাজটি কীভাবে হবে, সংশয় এ নিয়েই। স্বপ্নের কথা আছে, সেই স্বপ্নপূরণ কীভাবে হবে—সেই কাঠামো এখনো অস্পষ্ট। তার ওপর বিশ্ব অর্থনীতি এখনো নানা অনিশ্চয়তায় ভরা।

টানা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে নানা ধরনের অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে দেশের মানুষ। বাজেট বড় না ছোট-এতে সাধারণ মানুষের কিছু যায় আসে না। বরং তারা এখন স্বস্তি চান। আর এ জন্য তারা ভরসা করে আছেন নতুন সরকারের ওপর। সবার আশা, সরকার কেবল স্বপ্নের কথাই শোনাবে না, কাজও করবে।

রবীন্দ্রনাথ যেমনটি বলেছিলেন, ‘এবার ফিরাও মোরে, লয়ে যাও সংসারের তীরে/ হে কল্পনে, রঙ্গময়ী! দুলায়ো না সমীরে সমীরে/ তরঙ্গে তরঙ্গে আর, ভুলায়ো না মোহিনী মায়ায়।’ অর্থাৎ এখন আর কথায় বা মায়ায় ভুলতে চাইবেন না দেশের মানুষ।

১০ অগ্রাধিকার

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী গতকাল বৃহস্পতিবার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের যে বাজেট দিয়েছেন, তার নাম দিয়েছেন, ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা’। বক্তৃতাটি আগের বাজেটগুলোর তুলনায় অনেক বেশি সুলিখিত এবং যা বলার সরাসরি বলেছেন। তিনি নতুন অর্থবছরের জন্য মূল্যস্ফীতির হার সাড়ে ৭ শতাংশ এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৬ শতাংশ করার লক্ষ্যের কথা বলেছেন। এই দুই লক্ষ্যই যথেষ্ট উচ্চাভিলাষী। এ লক্ষ্য অর্জনে অবশ্য ১০টি অগ্রাধিকারের কথা বলেছেন। এর ওপর ভিত্তি করেই বাজেটটি তৈরি করেছেন অর্থমন্ত্রী।

যেমন:সবার জন্য উন্নয়ন; সবার জন্য মানসম্পন্ন শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা; সর্বজনীন সামাজিক সুরক্ষা;বিনিয়োগনির্ভর কর্মসংস্থান ও উৎপাদনমুখী অর্থনীতি; বিনিয়ন্ত্রণকরণ, সাশ্রয়ী ও সহজীকৃত ব্যবসার পরিবেশ; আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা; জ্বালানি নিরাপত্তা; তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তির বিকাশ; প্রাণ, প্রকৃতি, পরিবেশ ও পানিসম্পদ ব্যবস্থাপনা; স্বচ্ছ, দক্ষ ও জবাবদিহিপূর্ণ প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।

এর পাশাপাশি অর্থমন্ত্রী মূলধারার অর্থনীতি থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা সৃজনশীল বা ক্রিয়েটিভ অর্থনীতি, ক্রীড়া অর্থনীতি, সবুজ অর্থনীতি এবং সুনীল অর্থনীতির মতো খাতগুলোকেও জাতীয় অর্থনীতির একেবারে কেন্দ্রে নিয়ে আসার কথা বলেছেন। এ জন্য নানা ধরনের কর ছাড়ও দিয়েছেন।

অর্থমন্ত্রী আগামী পাঁচ বছরের জন্য বেশ কিছু লক্ষ্যের কথাও বলেছেন। যেমন জিডিপি প্রবৃদ্ধি সাড়ে ৮ শতাংশ করা, মূল্যস্ফীতি ৫ শতাংশে নামিয়ে আনা, বিনিয়োগ জিডিপির ৪০ শতাংশে ও প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ ২ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করা, রাজস্ব-জিডিপি অনুপাত ১১ শতাংশ ও কর-জিডিপি অনুপাত ৯ দশমিক ৬ শতাংশে উন্নীত করা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ জিডিপির ৫ শতাংশ করা এবং ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ১ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত করা। এত বড় স্বপ্নপূরণে মহাকর্মযজ্ঞ দরকার। অর্থমন্ত্রী ও সরকারের বড় চ্যালেঞ্জ এটাই।

টাকা কোথা থেকে আসবে, কোথায় যাবে

অর্থমন্ত্রী আগামী অর্থবছরের জন্য অনুদানসহ মোট আয় ধরেছেন ৭ লাখ ১ হাজার ১৫০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়। সরকারের মোট আয়ের ৮৬ দশমিক ১ শতাংশই আসবে এনবিআরের কর রাজস্ব থেকে, করবহির্ভূত অন্যান্য উৎস থেকে আসবে ৯ দশমিক ৪ শতাংশ। অর্থাৎ বাজেটের সাফল্য অনেকটাই নির্ভর করছে সরকার নির্ধারিত কর আদায়ের লক্ষ্য অর্জন করতে পারে কি না, তার ওপর।

এবার ব্যয়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, আগামী অর্থবছরে সরকার মোট ব্যয় করবে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ৬ লাখ ৫ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা বা মোট ব্যয়ের ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ যাবে পরিচালন বা চলতি ব্যয়ে। আর উন্নয়ন ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা, যা মোট ব্যয়ের ৩৩ দশমিক ৭ শতাংশ। অর্থাৎ সরকার প্রতি ১০০ টাকা খরচ করলে প্রায় ৬৫ টাকা যাবে চলতি ব্যয়ে এবং ৩৪ টাকা যাবে উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে।

তবে পরিচালন ব্যয়ের ভেতরে সবচেয়ে বড় চাপ তৈরি করেছে ঋণের সুদ। আগামী অর্থবছরে সরকারকে শুধু সুদ পরিশোধ করতেই ব্যয় করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এটি মোট বাজেট ব্যয়ের ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

আবার সরকারের আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতি হচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এটি মোট ব্যয়ের প্রায় ২৫ দশমিক ৯ শতাংশ। সহজ ভাষায় বললে, সরকার প্রতি ১০০ টাকা খরচ করবে, কিন্তু নিজে আয় করবে ৭৪ টাকা। বাকি প্রায় ২৬ টাকা জোগাড় করতে হবে ঋণ নিয়ে।

এই ঘাটতি পূরণে সরকারকে দেশ-বিদেশ উভয় উৎস থেকেই ঋণ নিতে হবে। মোট ঘাটতি অর্থায়নের ৪৬ দশমিক ৪ শতাংশ আসবে বিদেশি ঋণ থেকে এবং ৫৩ দশমিক ৬ শতাংশ অভ্যন্তরীণ ঋণ থেকে। সরকার আগামী অর্থবছরে নিট ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা বিদেশি ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। একই সঙ্গে দেশের ভেতর থেকে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। এর মধ্যে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংক–ব্যবস্থা থেকে। অর্থাৎ অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রায় ৮৮ শতাংশই আসবে ব্যাংক খাত থেকে। অবশিষ্ট ১৫ হাজার কোটি টাকা আসবে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে, যার মধ্যে জাতীয় সঞ্চয়পত্রের অবদান থাকবে ৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা।

সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেট অনুযায়ী সরকার বৈদেশিক ঋণ পাচ্ছে ৫৮ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু নতুন অর্থবছরে এর লক্ষ্য হচ্ছে ১ লাখ ৯ হাজার ৮৫০ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রায় ৯০ শতাংশ বিদেশি ঋণ বাড়াতে হবে।

সুতরাং বলা যায়, বাজেটের অঙ্ক যত বড়ই হোক, এর সফলতা নির্ভর করবে মূলত দুটি বিষয়ের ওপর। যেমন সরকার নির্ধারিত রাজস্ব কতটা আদায় করতে পারবে ও সেই অর্থ কতটা দক্ষতার সঙ্গে ব্যয় করতে পারবে। এই রাজস্ব আদায় প্রত্যাশা অনুযায়ী না হলে কিংবা বৈদেশিক ঋণপ্রবাহ বাধাগ্রস্ত হলে চাপ পড়বে ব্যাংক–ব্যবস্থার ওপর। তখন সরকারকে ব্যাংক–ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে ঘাটতি মেটাতে হবে। এতে ঋণ পাবে না বেসরকারি খাত। বিনিয়োগও বাড়বে না, মূল্যস্ফীতিও কমবে না।

রাজস্ব কার্যক্রম

করের হার নয়, বরং করের আওতা বাড়ানোর কথা বলা হয় প্রতিবারেই। কিন্তু করের আওতা তেমন বাড়ে না। এবার অর্থমন্ত্রী করের হার অনেক ক্ষেত্রে কমিয়েছেন, আর বাড়িয়েছেন করের আওতা। এতে করছাড় পেয়েছেন প্রায় সবাই, তবে করের আওতায় বেশি পড়েছেন ছোটরাই।
এবারের বাজেটে সবচেয়ে আলোচিত প্রস্তাবগুলোর একটি হলো ব্যক্তিগত আয়করে স্বস্তি। সাধারণ করদাতার করমুক্ত আয়সীমা ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আগামী পাঁচ বছরের একটি রোডম্যাপও ঘোষণা করেছে সরকার। সেই পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকায় উন্নীত হবে। নারী, প্রবীণ নাগরিক, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা আরও বেশি রাখা হয়েছে। এতে মূল্যস্ফীতির চাপে থাকা মধ্যবিত্ত কিছুটা স্বস্তি পাবে। এ ক্ষেত্রে আরেকটি বড় পরিবর্তন হলো আগামী পাঁচ বছরের আয়কর-কাঠামো আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। এর ফলে ব্যক্তি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহজে করতে পারবে।

বাজেটে চাল, গম, আলু, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, তেল, চিনিসহ ৬১টি পণ্যের ওপর উৎসে কর কমানো হয়েছে। লক্ষ্য বাজারে মূল্যস্ফীতির চাপ কমানো। তবে কর কমানোর এই সুবিধা শেষ পর্যন্ত ভোক্তার কাছে পৌঁছাবে কি না, সেটাই বড় প্রশ্ন। কারণ, দেশে কর কমলেও পণ্যের দাম একই থাকে এবং সুবিধার বড় অংশ ব্যবসায়ীদের কাছেই থেকে যায়।

ডিজিটাল অর্থনীতিকে উৎসাহ দিতে সরকার ফ্রিল্যান্সার, স্টার্টআপ ও কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য বড় ধরনের করসুবিধা দিয়েছে। ফ্রিল্যান্সিং আয় করমুক্ত রাখা হয়েছে, কনটেন্ট নির্মাতাদের আয়েও কর ছাড় দেওয়া হয়েছে এবং স্টার্টআপের টার্নওভার ট্যাক্স শূন্য করা হয়েছে। এতে ইউটিউবার, ফেসবুক কনটেন্ট নির্মাতা, গ্রাফিক ডিজাইনার ও ফ্রিল্যান্সাররা সরাসরি উপকৃত হতে পারেন। তরুণেরা নিশ্চয়ই এ প্রস্তাবে খুশি হবেন।

তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও বড় প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে। ল্যাপটপ, ডেস্কটপ কম্পিউটার, সার্ভার, মনিটর ও প্রিন্টারের মতো পণ্যের ওপর কর কমানো বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। শিক্ষার্থী ও প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাগুলো এর সুফল পাবে।

তবে রীতিমতো বিপ্লব ঘটেছে বৈদ্যুতিক যানবাহন (ইভি) আমদানি ও উৎপাদনের ক্ষেত্রে। এ খাতে অনেক বড় ছাড় দেওয়া হয়েছে। ইভি চার্জার আমদানিতেও কর কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সৌরবিদ্যুৎ খাতে ২০৩৫ সাল পর্যন্ত শূন্য করহার বজায় রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। লক্ষ্য হচ্ছে জ্বালানি আমদানিনির্ভরতা কমানো এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বৃদ্ধি।

যা আলোচনায় থাকবে

বাজেটের ক্ষুদ্র ও খুচরা ব্যবসায়ীদের জন্য সহজ করব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব করা হয়েছে। এতে ছোট ব্যবসায়ীরা নির্দিষ্ট হারে কর পরিশোধ করতে পারবেন। তাঁদের ভ্যাটের হিসাবপত্র সংরক্ষণ বা রিটার্ন দাখিলের প্রয়োজন হবে না। ব্যাংক বা মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে সহজে কর পরিশোধ করা যাবে। এতে ব্যবসায়ীদের হয়রানি কমবে।

একই সঙ্গে করের আওতা বাড়াতে খুচরা বিক্রেতাদের করব্যবস্থার আওতায় আনতে পণ্য সরবরাহের সময় ০.২০ শতাংশ অগ্রিম কর কেটে রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে। অর্থাৎ প্রতি এক হাজারে ২ টাকা কর দিতে হবে। হারটি খুবই কম হলেও এর মাধ্যমে খুচরা পর্যায়ের ব্যবসাকে করের আওতায় আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাবের জন্য ব্যবসায় শনাক্তকরণ নম্বর (বিন নিবন্ধন) বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেল নিবন্ধনের ক্ষেত্রেও টিআইএন প্রয়োজন হবে। আবার বাজেটে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে টিআইএন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক হিসাব, ইউটিলিটি সেবা ও সম্পত্তির তথ্যকে একটি সমন্বিত ডেটাবেজে আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে সরকার এ থেকে কর ফাঁকি কমাতে পারবে কি না, সেটাই দেখার বিষয়।

এটাই কি সবচেয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা

প্রথা অনুযায়ী, গতকাল সকালে জাতীয় সংসদ ভবনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করা হয়। বেলা পৌনে তিনটার দিকে অর্থ বিলে সই করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর বেলা তিনটায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে সংসদের বৈঠক শুরু হয়।

অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার প্রথম বাজেট উপস্থাপনে সময় নেন পৌনে চার ঘণ্টা। মাঝখানে আসর ও মাগরিবের নামাজের বিরতি দিয়ে অর্থমন্ত্রীর দীর্ঘ বাজেট বক্তৃতা শেষ হয় রাত ৮টা ১০ মিনিটে। ফলে বিরতিসহ বাজেট বক্তৃতার মোট সময় ছিল পাঁচ ঘণ্টা। বাংলাদেশের ইতিহাসে এটাই সম্ভবত সবচেয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা।

তবে ইতিহাসের দীর্ঘতম বিরতিহীন বাজেট বক্তৃতা দিয়েছিলেন ব্রিটেনের একসময়ের অর্থমন্ত্রী উইলিয়াম ইউয়ার্ট গ্ল্যাডস্টোন। ১৮৫৩ সালের ১৮ এপ্রিল তাঁর বক্তৃতা স্থায়ী হয়েছিল ৪ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট। তবে এর আগের বছর আরেক অর্থমন্ত্রী বেঞ্জামিন ডিজরেইলি প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বক্তৃতা দিলেও মাঝখানে বিরতি নিয়েছিলেন। সেই অর্থে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রীও এবার ইতিহাসে স্থান পাবেন।

এত ধৈর্য নিয়ে দেশের অনেকেই হয়তো অর্থমন্ত্রীর বক্তৃতা শুনেছেন। তারাই পাঁচ বছর ধরে ভালো দিনের আশায় ধৈর্য ধরে আছেন। অর্থমন্ত্রী অনেক আশার কথা শুনিয়েছেনও। এখন নতুন সরকার ও নতুন অর্থমন্ত্রী এই আশা বাজেটের মাধ্যমে কতটা পূরণ করতে পারবেন, সেটাই দেখার বিষয়।
‘বাক্য অপেক্ষা কার্য্য ভাল’ শিরোনামে উনিশ শতকের অন্যতম কবি ঈশ্বরচন্দ্র গুপ্তের একটি কবিতা আছে। সেই কবিতার প্রথম দুই পঙ্ক্তি হচ্ছে, ‘কাজে যদি করা হয় করো তবে ভাই,/ মিছামিছি মুখে বলে কোনো ফল নাই।’ তবে আজকের লেখাটা শেষ করছি কবিতাটির শেষের দুই পঙ্ক্তি দিয়ে, ‘অতএব কর ভাই সাধ্য হয় যত/ কল্পনা না হয় যেন রাবণের মত।’

সমকাল

সমকালের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘প্রযুক্তিনির্ভর শ্রেণিকক্ষ ও দক্ষতায় জোর’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ সব সময় কম। বিগত এক দশকে প্রস্তাবিত অধিকাংশ বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশের নিচে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

যদিও শিক্ষা খাতের উন্নয়নে যে কোনো দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) অন্তত ৫ শতাংশ বিনিয়োগের সুপারিশ করে জাতিসংঘের শিক্ষাবিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো।এবার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে বিএনপি সরকার শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়েছে। বাজেটে জিডিপির ২ শতাংশ শিক্ষা খাতে বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

একই সঙ্গে এ বরাদ্দ ধারাবাহিকভাবে বাড়িয়ে ৫ শতাংশে উন্নীত করার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে সরকার।
প্রস্তাবিত বাজেটে শিক্ষা খাতে বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়েছে এক লাখ ৩৬ হাজার ৬০৬ কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ ছিল ৮৭ হাজার ২০৬ কোটি টাকা।

বাজেটে শিক্ষা খাত-সংক্রান্ত বরাদ্দ কর্মপরিকল্পনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, শিক্ষার্থীদের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় সক্ষম করে তুলতে তৃতীয় ভাষা শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, তৃতীয় ভাষা শিক্ষার জন্য তৈরি করা হবে পাঁচটি ভাষা শিক্ষা প্রশিক্ষণ মডিউল। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষার মানোন্নয়ন ও দক্ষ শিক্ষক গড়ে তুলতে একটি রিসোর্স পুলও গঠন করা হবে।

এছাড়া, শিক্ষার্থীদের ভাষা শেখার ব্যবহারিক দক্ষতা বাড়াতে স্থাপন করা হবে ৫০০টি ভাষা ল্যাব। ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষাব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে ২৫ হাজার মাল্টিমিডিয়া শ্রেণিকক্ষ স্থাপনের পরিকল্পনা নিয়েছে সরকার।

দেশ রূপান্তর

দেশ রূপান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ’। প্রতিবেদনে বলা হয়, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে এনে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় পর্যায়ে রাখতে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরে মূল্যস্ফীতির হার ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে সরকার।
গতকাল বাজেট ঘোষণায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আগামী অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ দশমিক ৫ শতাংশে নামিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত করার পাশাপাশি অর্থনীতিতে টেকসই শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে আমরা মানুষের জীবনযাত্রায় স্বাচ্ছন্দ্য ফিরিয়ে আনতে চাই।

তবে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে আনার জন্য অর্থমন্ত্রীর পরিকল্পনাকে বাস্তবতার নিরিখে কঠিন বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্লেষকরা।

তাদের মতে, রাজস্ব নীতি ও সরকারের ব্যয় এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতার ওপর নির্ভর করবে বাজার পরিস্থিতি কোন দিকে থাকে। পাশাপাশি সরকার যেসব ভোগ্যপণ্যের কর ও শুল্ক ছাড় দিয়েছে, সেসব সুবিধা যাতে জনগণ পায়, সে বিষয়ে নজরদারির পরামর্শ দিয়েছেন তারা। কারণ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে বাজারের ওপর কার্যকর নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি, যা বর্তমানে সরকারের হাতে সীমিত।

বণিক বার্তা

বণিক বার্তার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘নতুন কী’। প্রতিবেদনে বলা হয়, স্নাতক পর্যন্ত মেয়েদের জন্য শিক্ষা অবৈতনিক। ১০ দিনের মধ্যে ভিসা পাবেন বিদেশী বিনিয়োগকারী।
৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের ট্রেনে বিনামূল্যে যাতায়াত, মেট্রোরেলের টিকিটে ২৫ শতাংশ ছাড়। মোবাইল সিমের ওপর ৩০০ টাকা কর বাতিল। ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খুলতে টিআইএন বাধ্যতামূলক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের ওপর ভ্যাট প্রত্যাহার।
পরিবেশবান্ধব ইলেকট্রিক গাড়ি আমদানিতে শুল্কছাড়। প্রাথমিক শিক্ষকদের জন্য ট্যাব। করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে পৌনে ৪ লাখ টাকা, সারা বছর রিটার্ন দেয়া যাবে।
মৎস্য বীমা স্কিম চালুর পরিকল্পনা। ক্যানসার আক্রান্তদের সহায়তা বাড়িয়ে ১ লাখ টাকা করার প্রস্তাব।

আজকের পত্রিকা

আজকের পত্রিকার প্রথম পাতার শিরোনাম ‘ভোটের ইশতেহার বাস্তবায়নে নজর দিচ্ছে সরকার’। প্রতিবেদনে বলা হয়, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী ইশতেহারে বিএনপি একগুচ্ছ প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। জাতীয় বাজেটে ওই সব প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন ঘটেছে।
বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, সামগ্রিক স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দ ধাপে ধাপে জিডিপির ৫ শতাংশে উন্নীত করার নির্বাচনী অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত বাজেটে বরাদ্দ বাড়িয়ে ৬৯ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা (জিডিপির ১.০২ %) করার প্রস্তাব করা হয়েছে; যা গত অর্থবছরে ছিল ৩৫ হাজার ৪৭৭ কোটি টাকা (জিডিপির ০.৫৮ %)।

সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী ও নারীদের আর্থিক সুরক্ষাবলয়ের নিচে আনতে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে রেকর্ড ১ লাখ ৪৪ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা বিগত সংশোধিত বাজেটের চেয়ে অনেক বেশি।

আগামী অর্থবছরে ৪১ লাখ নারীকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে দেশের সব কৃষককে ‘কৃষক কার্ড’ এর আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় কৃষিবিমা ও ভর্তুকি মূল্যে সার সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আগামী অর্থবছরে ৫৬ লাখ ৩৫ হাজার টন মৎস্য উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণসহ কৃষি, খাদ্য এবং মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের জন্য যৌথভাবে মোট ৪৩ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবন খাতে মোট ২০০ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

তরুণসমাজকে দক্ষ ও স্বাবলম্বী করতে প্রস্তাবিত বাজেটে তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে ৫০০ কোটি টাকার বিশেষ বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে।

কালের কণ্ঠ

কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম ‘ব্যবসাবান্ধব বাজেট, চ্যালেঞ্জ অনেক’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বিএনপি জোট সরকারের বাজেট দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি যখন ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করছেন, তখন ফুটবল বিশ্বকাপের উন্মাদনায় তেতে উঠতে শুরু করেছে মানুষ।

আটলান্টিকের ওপারে মেসি, রোনালদো, নেইমার কিংবা এমবাপ্পেরা গোল দেওয়ার নেশায় ‘গ্রেটেস্ট শো অন আর্থে’র জন্য ওয়ার্ম আপ করছেন। আর এদিকে বে অব বেঙ্গলের পারে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু রেকর্ড বড় বাজেট দিয়ে ব্যবসা-বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান ও সাধারণ মানুষের জীবনে স্বস্তির ‘গোল’ দিতে ব্যস্ত। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটি তাঁর প্রথম বাজেট হলেও এই ফুটবল মৌসুমে তিনি শুরুতেই ‘গোল’ দিয়ে সফল হতে চাইছেন। বাজেট ঘোষণার সময় তাঁর আত্মপ্রত্যয়ী উপস্থিতি সেই বার্তাই দিয়েছে বলে অনেকে মনে করেন।

গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি প্রবৃদ্ধির বাজেটটি উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী। যার আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। যেখানে সামাজিক নিরাপত্তা সম্প্রসারণ এবং নতুনভাবে ‘সৃজনশীল অর্থনীতি’কে প্রবৃদ্ধির চালিকাশক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

দীর্ঘ প্রায় ১৯ বছর পর এবার বিএনপি জোট নতুন বাজেট উপস্থাপন করেছে। দেশ পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে সাড়ে তিন মাসের মাথায় এই বাজেট। এতে বিপর্যস্ত অর্থনীতিকে টেনে তোলার কঠিন এক চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এটি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বাজেট। তবে বিএনপি সরকারের দেওয়া এটি ১৭তম বাজেট। চলতি বছর তৈরি হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব ঘাটতি। তবু ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক বিশাল ব্যয়ের বাজেট ঘোষণা করা হয়েছে।

এতে রেকর্ড পরিমাণ দুই লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি ধরা হয়েছে। আবার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) ধরা হয়েছে তিন লাখ কোটি টাকা। অবশ্য আরো ১৬ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন বরাদ্দ রয়েছে এডিপিবহির্ভূত। ঘোষিত এই বাজেটের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো অর্থায়ন। সরকারের একমাত্র আয়ের বড় খাত হলো এনবিআর। ২০২৬-২৭ বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ছয় লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা, যা রীতিমতো অবিশ্বাস্য। কেননা চলতি বছরের বাজেটে রাজস্ব ঘাটতি এক লাখ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। তবু এ এক লক্ষ্যবিলাষী স্বপ্ন দেখছে সরকার।

যুগান্তর

দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার শিরোনাম ‘স্বস্তি-অস্বস্তিতে মধ্যবিত্ত’। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রাচীন ভারতীয় অর্থনীতিবিদ ও দার্শনিক চাণক্যের একটি উদ্ধৃতি আছে-‘মৌমাছি যেমন ফুলের ক্ষতি না করে মধু সংগ্রহ করে, তেমনি শাসকেরও উচিত প্রজাদের অযথা কষ্ট না দিয়ে কর আদায় করা।’ ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী হয়তো চাণক্যের সেই দর্শন অবলম্বন করেছেন। নিত্যপণ্য ও ওষুধে কর ছাড় দিয়ে মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে স্বস্তি দিতে চেয়েছেন। আবার রাজস্ব আদায়ের চিন্তা মাথায় রেখে কর রেয়াতের সীমা কমিয়ে, স্বর্ণ বিক্রিতে মূলধনি কর বসিয়ে কঠোর হয়েছেন।

প্রস্তাবিত বাজেট বিশ্লেষণে দেখা গেছে, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে ধান, চাল, গম, আলু, গবাদি পশু, হাঁস-মুরগি, মাছ, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, বীজসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬০টি পণ্যে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে। শিশু খাদ্য প্রস্তুত সামগ্রীর আমদানি শুল্ক ও রান্নার প্রধান উপকরণ মসলার রেগুলেটরি ডিউটি প্রত্যাহার করা হয়েছে। এতে এলাচ, দারুচিনিসহ সব ধরনের মসলার দাম কমবে। এসব পদক্ষেপের ফলে বিগত বছরগুলোতে দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতিতে জনজীবনে যে নাভিশ্বাস উঠেছিল, তা থেকে কিছুটা হলেও স্বস্তি মিলবে। ভবিষ্যতে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জিংক সালফেট, ম্যাগনেশিয়াম সালফেটসহ ৫ ধরনের সারের ভ্যাট ও কীটনাশক-বালাইনাশকের শুল্ক-কর প্রত্যাহার করা হয়েছে, যা মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে। বাসা ভাড়া ও যাতায়াতের পর মধ্যবিত্তের আয়ের বড় একটি অংশ খরচ হয় ওষুধ কিনতে। সেদিকেও নজর দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী। হার্টের রিং এবং চোখের ইন্ট্রাওকুলার লেন্স সরবরাহে ভ্যাট অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। এর ফলে প্রতিটি হার্টের রিং বা স্টেন্টের মূল্য প্রায় ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত কমতে পারে। চোখের প্রতিটি ইন্ট্রাওকুলার লেন্সের মূল্য প্রায় ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত হ্রাস পেতে পারে। কিডনি রোগীদের চিকিৎসায় ব্যবহার্য ব্লাড টিউব সেট আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। এর ফলে কিডনি ডায়ালাইসিসের খরচ উল্লেখযোগ্য পরিমাণে হ্রাস পাবে। ক্যানসারের ওষুধ তৈরির ৯টি উপকরণ আমদানিতে শুল্ক ও ভ্যাট প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এছাড়া অন্য ওষুধ তৈরির নতুন ৬৮টি মৌলিক কাঁচামাল আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করা হচ্ছে। এতে বাজারে ওষুধের দাম কমবে।

অবশ্য মুদ্রার ওপিঠে লুকিয়ে আছে মধ্যবিত্তের অস্বস্তি। অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে করমুক্ত আয় সীমা ২৫ হাজার টাকা বাড়িয়ে ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করেছিল। তখন করের স্ল্যাবেও পরিবর্তন আনা হয়। নতুন সরকার প্রস্তাবিত বাজেটে সেটি বহাল রেখেছে। করের স্ল্যাবে পরিবর্তন আনায় মধ্যবিত্তের ওপর করের চাপ বাড়বে। কেননা ৫ শতাংশ কর হারের স্তরটি বাতিল করে সেখানে ১০ শতাংশ কর ধার্য করা হয়। এছাড়া প্রস্তাবিত বাজেটে বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত সুবিধা সংকুচিত করা হয়েছে। প্রস্তাবিত বাজেটে অনুমোদিত বিনিয়োগ সীমা ১৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ এবং সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা থেকে কমিয়ে সাড়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়েছে। এ হিসাবে, প্রতি এক লাখ টাকা বিনিয়োগের বিপরীতে ৫ হাজার টাকা কম ছাড় পাবেন করদাতা।

প্রথম আলো
প্রথম আলোর প্রথম পাতার শিরোনাম ‘শাকিরার সুরে বিশ্বকাপের শুরু’। প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে যখন আগামী অর্থবছরের হিসাব-নিকাশ চলছে, তখন আটলান্টিকের উপারে আজতেকা স্টেডিয়ামের মাঝে বেশ বড় সোনালি ট্রফি। এর চারপাশে সোনালি পোশাকের পারফরমার। আজতেক সভ্যতার সোনালি সময় ফুটেছে তাদের পোশাক ও নাচের ঢঙে। লিলা ডাউনস দাড়িয়ে তার মাঝে। সুরেলা কণ্ঠে মেক্সিকান সংগীতশিল্পী স্বাগত জানালেন বিশ্বকে, ‘বিশ্ববাসী, মেক্সিকোয় স্বাগত!’
ব্যস, ঢাকে কাঠি পড়ল ২০২৬ বিশ্বকাপের। আর হলুদ, বেগুনি ও সাদা পোশাকে শাকিরা যখন মঞ্চে উঠলেন, তখন যেন শুরু হলো বিশ্বকাপের আসল ঢেউ। সানগ্লাস চোখে পারফরমারদের নিয়ে ‘দাই দাই’ গানের সুর ধরেন শাকিরা। নাইজেরিয়ান গায়ক বার্না বয়ও ভালো সঙ্গ দেন কলম্বিয়ান কিংবদন্তিকে।
কিন্তু সব চোখ আসলে কলম্বিয়ান কিংবদন্তির ওপরই ছিল। শাকিরা ছাড়া বিশ্বকাপ আবার জমে নাকি! ২০১০ বিশ্বকাপে ‘ওয়াকা ওয়াকা’ গান দিয়েই তো চিরস্মরণীয় হয়ে গেছেন।
আজতেকার বাইরেও তখন বেশ চড়া হয়েছে উৎসবের সুর। নাচে-গানে মেতেছিলেন ফুটবলপ্রেমীরা, তার মধ্যে বেশিরভাগই মেক্সিকান।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন