ফেনীর তিন আসনে আবেগের মধ্যে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা

বহিরাগত-জালভোট নিয়ে ভাবনা

ফেনীর তিন আসনে আবেগের মধ্যে শঙ্কা ও উৎকণ্ঠা

ফন্ট সাইজ:

আগের ১২টি জাতীয় নির্বাচনের সব হিসাব-নিকাশ উলট-পালট হয়ে পড়েছে ফেনীর তিনটি আসনে। খালেদা জিয়ার মৃত্যু নিয়ে ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের জন্য আবেগ কাজ করলেও বিএনপি’র অভ্যন্তরীণ বিরোধের সুযোগে দু’টি আসন প্রথমবারের মতো নিজেদের ঘরে তুলতে মরিয়া জামায়াত। একটিতে জোটের হয়ে প্রতিদ্বিন্দ্বতা করে এবি পার্টিও বিএনপির দুর্গে হানা দিতে চাচ্ছে। ফেনী জেলা বিএনপি’র ঘাঁটি হিসেবে দাবি করা হলেও এবার পেক্ষাপট ভিন্ন। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রচারণাসহ নানা কর্মকাণ্ডে জানান হয়ে গেছে ভোটে লড়াই হবে হাড্ডাহাড্ডি। এদিকে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ আর কথার লড়াইয়ে কিছুটা উত্তপ্তও হয়ে উঠছে পরিবেশ। জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে শনিবার রাতে ফেনী-১ আসনে বিএনপি’র প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টু থানায় জিডি করায় শঙ্কা ও উৎকণ্ঠার জন্ম দেয়। অভিযোগে মিন্টুর পক্ষ থেকে দাবি করা হয় জামায়াত নেতা মেজবাহ উদ্দিন সাঈদ মিন্টুকে উদ্দেশ্য করে দেয়া বক্তব্য সরাসরি হুমকি। অবশ্য এর আগেও ফেনীতে নির্বাচন ঘিরে সহিংসতার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছিলেন প্রার্থীরা। একই আসনে মিন্টুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য প্রার্থী মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন নামের পূর্বে ডাক্তার পদবি উল্লেখ করে নির্বাচনের পোস্টার, লিফলেট, ব্যানার ও ফেস্টুন ব্যবহার করায় তাকে শোকজ করেছে অনুসন্ধানকারী ও বিচারিক কর্মকর্তা সাজ্জাতুন নেছা। অন্যদিকে জেলার ঝুঁকিপূর্ণ আসনের তালিকায় ফেনী-৩ আসনেই বেশি কেন্দ্র। এ আসনে ১৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ শনাক্ত করা হয়েছে ১৯টি। আর জেলার তিনটি আসনে ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র ৫৩টি। এ ছাড়া সোনাগাজীতে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে আরও আগে। এদিকে ফেনী-২ আসনে ১১ দলীয় জোটের এবি পার্টির ঈগল প্রতীকের প্রার্থী মজিবুর রহমান ভূঁঞার নির্বাচনী ক্যাম্পে ভাঙচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এর আগে ফেনী-১ আসনে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। যার জন্য দলটির পক্ষ থেকে বিএনপিকে দায়ী করা হয়। এরমধ্যে নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে ৩২ ঘণ্টা অনশন কর্মসূচি পালন করেন। এসব ঘটনায় বিভিন্ন প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনার পাশাপাশি ভোটারদের মাঝে আতঙ্ক তৈরি হচ্ছে। অন্যদিকে ভোটে বহিরাগতদের প্রবেশ নিয়েও নতুন করে ভাবনায় ফেলে দিয়েছে প্রার্থীদের। বিএনপি প্রার্থীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে ফেনী-২ আসনে জামায়াতের প্রার্থী না থাকার সুযোগে দলটির কর্মীরা ফেনী-১ ও ফেনী-৩ আসনের দিকে ছুটতে পারেন। এ ছাড়া অনেক প্রবাসী পোস্টাল ভোট প্রয়োগ করলেও তাদের বেশির ভাগ দেশে ফিরে আসছেন নিজের পছন্দের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করতে। এতে করে জালভোটের পাশাপাশি সহিংস পরিবেশের শঙ্কা ও বাড়তি আতঙ্ক বিরাজ করছে বলে জানান বিএনপি প্রার্থীদের মিডিয়া সেলের সদস্যরা। এ নিয়ে উদ্বেগের কথা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগে অবগত করা হয়েছে বলে জানান ফেনী-৩ আসনে ধানের শীষের প্রার্থীর নির্বাচনী আইন সহায়তা ও নির্বাচন পর্যবেক্ষক লিগ্যাল কমিটির সদস্যরা। ফেনী-২ আসনে বিএনপি’র প্রার্থীর নির্বাচন পরিচালনা কমিটির নেতারা বলেন অযথা পায়ে পা রেখে ঝগড়ার চেষ্টা করছে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী। একই অভিযোগ ফেনী-১ আসনের প্রার্থীর। বিপরিতে তিনটি আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের অভিযোগ তুলেছেন জামায়াত ও এবি পার্টির নেতারা।
বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক সংগঠনসহ বিভিন্ন পেশার মানুষের মতে জেলার তিনটি আসনেই মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ধানের শীষের প্রার্থীদের সাথে। জেলার তিনটি আসনে মোট ভোটার ১৩ লাখ ১৬ হাজার ৩০৫ জন। ফেনী-১ (পরশুরাম -ফুলগাজী -ছাগলনাইয়া উপজেলা) আসনে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থী ৭ জন। এরমধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় মো. মুন্সি রফিকুল আলম (বিএনপি-ধানের শীষ) ও এসএস কামাল উদ্দিন (জামায়াত-দাঁড়িপাল্লা)। এ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৮১ হাজার ১৬২ জন। ভোটকেন্দ্র ১২১টি, এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৮টি। ফেনী-২ (সদর উপজেলা) আসনে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী ১২ জন। এরমধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে আলোচনায় জয়নাল আবদিন (বিএনপি-ধানের শীষ) ও মজিবুর রহমান ভুঁইয়া (এবি পার্টি-ঈগল)। এ আসনে মোট ভোটার ৪ লাখ ৩২ হাজার ৫৬ জন। ভোটকেন্দ্র আছে ১৪৬টি। এরমধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ ১৬ টি। ফেনী-৩ (সোনাগজী-দাগনভুঁইয়া উপজেলা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ৮ জন। এরমধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মিন্টু (বিএনপি-ধানের শীষ) ও মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন (জামায়াত-দাঁড়িপাল্লা)। এ আসনে মোট ভোটারঃ ৫ লাখ ৩ হাজার ৮৭ জন। ভোট কেন্দ্র আছে ১৬১টি। এরমধ্যে ঝুঁকির্পূর্ণ ১৯ টি। জেলা পুলিশ সুপার জানান, রির্টানিং কর্মকর্তার নির্দেশনা মতো কাজ করছে প্রশাসন। কোনো প্রার্থী বা দলের পক্ষপ্রাতিত্ব করার সুযোগ নেই। আর জেলা রির্টানিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক জানান, সব প্রার্থীই সমান সুযোগ পাচ্ছেন। প্রশাসনের কাছে ছোট বড় দেেল কোন পরিচয় নয়, প্রার্থী হিসেবই গন্য করা হচ্ছে। প্রার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়টি অতি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি। জানান, ভোটার ও ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তার পাশাপাশি সুষ্ঠু পরিবেশে নিরেপক্ষ ভোটগ্রহণ ইসি ও সরকারের লক্ষ্য।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন