আলীকদমে অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ

আলীকদমে অবৈধ ইটভাটার বিষাক্ত কালো ধোঁয়ায় ধ্বংস হচ্ছে পরিবেশ

ফন্ট সাইজ:

বান্দরবানের আলীকদম উপজেলায় অবৈধভাবে গড়ে ওঠা এফবিএম নামে ইটভাটা এখন প্রাকৃতিক পরিবেশ ধ্বংসের এক নির্মম যন্ত্রে পরিণত হয়েছে। পাহাড় কেটে মাটি লুট, বন উজাড় এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে দিয়ে এই ইটভাটাগুলো প্রকাশ্যে হত্যা করছে পাহাড়, বন ও জীববৈচিত্র্য। পরিবেশ সংরক্ষণ আইনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে দিনের পর দিন চলছে এই তাণ্ডব, আর সবকিছু জেনেও অদ্ভুত নীরবতায় উপজেলা প্রশাসন। আলীকদমে এফবিএম অবৈধ ইটভাটায় দিনের আলোয় পাহাড় কেটে, বন উজাড় করে এবং বিষাক্ত ধোঁয়ায় প্রকৃতি ধ্বংস করলেও প্রশাসনের আইন যেন প্রশ্নবিদ্ধ। পরিবেশ ধ্বংস এখানে কোনো গোপন ঘটনা নয় সবকিছু প্রকাশ্যে ঘটছে। তবুও প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা স্থানীয়দের চোখে সরাসরি দায়িত্বহীনতা, এমনকি অপরাধে নীরব সমর্থনের শামিল।
স্থানীয়দের অভিযোগ, যদি প্রশাসন চাইতো, একদিনেই ভাটাগুলো বন্ধ করা যেত। কিন্তু তারা চায় না। রাতের আঁধারে ট্রাকভর্তি মাটি সরিয়ে নেয়া, দিনের বেলা কালো ধোঁয়ায় আকাশ ঢেকে যাওয়া সবই যেন প্রশাসনরে চোখের সামনেই ঘটছে। আলীকদম আলীবাজার গহিনের এফবিএম মালিক শওকত তালুকদার ইটভাটায় পোড়ানো হচ্ছে বনাঞ্চলের কাঠ। আর ইটভাটায় পাহাড় ঘেঁষে মজুত করে রাখা হয়েছে কয়েক লাখ ঘনফুট বনাঞ্চলের কাঠ। বর্তমানে এই ইটভাটা থেকে পাঁচ লাখ রাউন্ড পোড়ানো ইট বের করা হয়েছে পরে রাউন্ড ইট পোড়ানোর জন্য প্রস্তুতি রেখেছেন তিনি। সরজমিন দেখা গেছে, আলীকদম-থানচি সড়কের আলীবাজার এলাকায় এফবিএম অবৈধ ইটভাটা। সেখানে ১৪ বছরের নিচে শিশু ইট তৈরি করেছেন। তবে ২০০৬ (সংশোধিত ২০১৩, ২০১৮)। আইনে বলা হয়েছে শিশুশ্রম পুরোপুরি আইনগত নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয় অপরাধ। কিন্তু সেই আইন না মেনে সেসব শিশুদের দিয়ে চলছে ইট তৈরি কাজ। আলীবাজারের বাসিন্দা সৈয়দ আলম বলেন, এসব ইটভাটার কারণে রাস্তাগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। টমটম চালানো যাচ্ছে না আর ধুলোবালিতে অতিষ্ঠ হয়ে যাচ্ছে। লোক দেখার অভিযান না চালিয়ে এসব ইটভাটাকে ভেঙ্গে গুঁড়িয়ে বন্ধ করা দরকার। এফবিএম ইটভাটা ম্যানেজার মো. হারুন বলেন, এফবিএম ইটভাটায় একবার অভিযান পরিচালনা করেছে উপজেলা প্রশাসন। অভিযানে জরিমানা করেছে ৩ লাখ টাকা এ অভিযানের ফলে ইটভাটা করার জন্য প্রশাসন আমাদের অনুমতি দিয়েছে। আর এ ইটভাটার মালিক একজন প্রভাবশালী রিপোর্ট লিখে কিছু হবে না। আর আপনার বিকাশ নম্বর দেন বলে প্রলোভন দেখায় এই ম্যানেজার। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম বলেন, আলীকদমে তিনটা ইটভাটা রয়েছে কোনোটাতে অনুমতি নাই। স্থায়ী সমাধান হিসাবে জরিমানা নয় ইটভাটাগুলো গুঁড়িয়ে দিলে পাহাড়ের প্রকৃতি রক্ষা পাবে বলে আমি মনে করি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন