ভারতের আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জের দক্ষিণতম গ্রেট নিকোবর দ্বীপটিকে কৌশলগত ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রে রূপান্তরিত করার লক্ষ্যে মোদি সরকার একটি মেগা প্রকল্পের কাজ শুরু করেছে। সবুজ জঙ্গল সাফ করে এবং আদিবাসী জনগোষ্ঠীকে উৎখাত করে সেখানে তৈরি হবে আন্তর্জাতিক ট্রান্সশিপমেন্টের বন্দর ও সেনা ঘাঁটি। গ্রেট নিকোবরের মেগা প্রকল্পে সামরিক ও অসামরিক দু’ধরনের কাজের জন্য ব্যবহারযোগ্য বিমানবন্দর নির্মাণকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেই সঙ্গে ছোটখাটো একটা শহর তৈরি করা হবে। এই প্রকল্প পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নয়াদিল্লির জন্য ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ‘গেম চেঞ্জার’ হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।
দ্বীপটি থেকে ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যের পথ মলাক্কা প্রণালীর দূরত্ব মাত্র ৪০ নটিক্যাল মাইল।
সম্প্রতি এই প্রকল্পটি পরিবেশ আদালতের চূড়ান্ত ছাড়পত্র পেয়েছে। কংগ্রেস দল ৮১,০০০ কোটি রুপির এই গ্রেট নিকোবর প্রকল্পের তীব্র বিরোধিতা করেছে। এটিকে ‘পরিবেশগতভাবে বিপর্যয়কর’ এবং ‘পরিকল্পিত দুর্ঘটনা’ বলে অভিহিত করেছে দলটি। কংগ্রেস মনে করে যে, এই প্রকল্পটি ১৩০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি নির্মল বন এবং অনন্য বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করবে। সাবেক কংগ্রেস সভাপতি সোনিয়া গান্ধী এই প্রকল্পটিকে আদিবাসী শম্পেন এবং নিকোবারিজ উপজাতি সম্প্রদায়ের জন্য ‘অস্তিত্বগত বিপদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে, এই প্রকল্পে জোরপূর্বক আদিবাসীদের জমি দখল করা হচ্ছে বা জোরপূর্বক সমর্পণ করতে বাধ্য করা হচ্ছে।
চলতি ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় সবুজ ট্রাইব্যুনাল (এনজিটি) পরিবেশগত ছাড়পত্র বহাল রাখার সিদ্ধান্তের পর কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক জয়রাম রমেশ এই রায়কে ‘গভীর হতাশাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘এই প্রকল্পের পরিবেশগত বিপর্যয়কর প্রভাব পড়বে। আইনি চ্যালেঞ্জ এবং বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা সত্ত্বেও সরকার এটিকে বুলডোজার দিয়ে বাতিল করছে।’
জয়রাম রমেশ অভিযোগ করেছেন যে, সরকার জাতীয় নিরাপত্তার কারণে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করছে এবং একইসঙ্গে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের প্রকল্পে আনার চেষ্টা করছে।
তবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) কংগ্রেসের অভিযোগের পাল্টা জবাব দিয়েছে। কেন্দ্রীয় পরিবেশমন্ত্রী ভূপেন্দ্র যাদব জাতীয় নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য প্রকল্পটিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে সমর্থন করে বলেছেন যে, যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিজেপি কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ‘নেতিবাচক রাজনীতি’ করার এবং কৌশলগত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প বন্ধ করার চেষ্টা করার অভিযোগ করেছে।
