বাউফলে বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ২৮

ফন্ট সাইজ:

পটুয়াখালীর বাউফলে আসনে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের প্রায় ২৮ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজানের ভাডারী বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজানের ভাডারী বাজার এলাকায় জামায়াতের কর্মী-সমর্থকরা ভোটারদের টাকা দিচ্ছেন এমন খবরে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সমর্থকরা ঘটনাস্থলে জড় হয়। একপর্যায়ে দু’পক্ষের কর্মীরা বাকবিতণ্ডা থেকে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয়পক্ষের ২৮ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে বাউফল পৌর শহরে উভয়পক্ষের নেতাকর্মীরা বিকালে পাল্টাপাল্টি বিক্ষোভ করে। বিক্ষোভ শেষে জামায়াতের কয়েক হাজার নেতাকর্মী থানার সামনে সড়কে অবস্থান নেয়। এ কারণে সড়কের দু’পাশে প্রায় ৪ ঘণ্টা ধরে যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাউফল থানার সামনে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী শফিকুল ইসলাম উপস্থিতি নেতাকর্মীদের শান্ত থাকার কথা বলেন।
পটুয়াখালী জেলার (বাউফল) সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার আরিফ মুহাম্মদ শাকুর এক বক্তব্যে বলেন, পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে বর্তমানে বাউফল থানার দায়িত্বে তিনি থাকবেন। সকল প্রকার হামলার প্রকৃত তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এরপর জামায়াত নেতাকর্মীরা অবরোধ তুলে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ সময় বিএনপি নেতাকর্মীরা তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিলে মুখোমুখি সংঘর্ষ এড়াতে পুলিশ তাদেরকে ব্যারিকেড দিয়ে রাখেন। জামায়াতের নেতাকর্মীরা স্লোগান দিয়ে তাদের বাংলাবাজার সড়কে দলীয় কার্যালয়ে চলে যান।
উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি খালিদুর রহমান বলেন, জামায়াতের কর্মীরা প্রচারণা চালাতে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় অপরাধীদের বিচার দাবি করছি।
উপজেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব আপেল মাহামুদ ফিরোজ বলেন, টাকা দিয়ে ভোট কিনছিলেন জামায়াতের লোকজন। ওই টাকা দেয়ার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। বিষয়টি জানতে গেলে ক্ষিপ্ত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর জামায়াত কর্মীরা হামলা চালায়। এ সময় আমাদের কর্মীদের কুপিয়ে ও পিটিয়ে জখম করে। আচরণবিধি লঙ্ঘন করে এহেন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের জন্য জড়িত জামায়াতের নেতাকর্মীদের শাস্তি চাই। বাউফল থানার অফিসার ইনচার্জ আতিকুল ইসলাম বলেন, পরিস্থিতি এখন শান্ত। পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে মাঠে রয়েছে। চন্দ্রদ্বীপের ঘটনা তদন্তসাপেক্ষে অপরাধীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।


কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন