আফ্রিকার শীর্ষ রেফারির স্বপ্ন ভেস্তে গেলো

যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশপথে বাধা

আফ্রিকার শীর্ষ রেফারির স্বপ্ন ভেস্তে গেলো

ফন্ট সাইজ:

২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাওয়া সোমালিয়ার তারকা রেফারি ওমর আরতান যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশাধিকার পাননি। ফলে আসন্ন বিশ্বকাপে তার ম্যাচ পরিচালনার স্বপ্ন ভেস্তে গেছে। প্রথম সোমালি নাগরিক হিসেবে বিশ্বকাপে রেফারি হওয়ার ইতিহাস গড়ার দ্বারপ্রান্তে ছিলেন তিনি।

সোমবার ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানায়, ওমর আরতান ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে কোনো প্রশিক্ষণ বা ম্যাচ পরিচালনা করতে পারবেন না। এই পরিস্থিতির জন্য মার্কিন প্রশাসনকে দায়ী করে ফিফা জানায়, আমেরিকার কর্তৃপক্ষ তাদের অবহিত করেছে যে বর্তমানে আরতানের স্ট্যাটাস বা অবস্থানের কোনো পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। বিবৃতিতে ফিফা আরও বলেন, ফিফা কোনো আয়োজক দেশের অভিবাসন প্রক্রিয়া বা ভিসা অনুমোদনের বিষয়ের সাথে জড়িত থাকে না। পূর্ববর্তী ফিফা ইভেন্টগুলোর মতোই, আয়োজক সরকারই চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করে যে কে ভিসা পাবে এবং কার দেশে প্রবেশের অনুমতি রয়েছে।

বিমানবন্দরে কী ঘটেছিল?

বৈধ ট্রাভেল ভিসা থাকা সত্ত্বেও গত সপ্তাহের শেষে মায়ামি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ওমর আরতানকে আটকে দেওয়া হয় এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। ট্রাম্প প্রশাসনের জারি করা ব্যাপক ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার তালিকায় সোমালিয়া অন্যতম একটি দেশ। মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ হোমল্যান্ড সিকিউরিটি আল জাজিরাকে দেওয়া এক ইমেইল বার্তায় জানায়, মায়ামিতে পৌঁছানোর পর আরতানকে পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করা হয়। তবে নিরাপত্তা ও স্ক্রিনিং সংক্রান্ত কিছু উদ্বেগের কারণে তাকে ‘অনুপযুক্ত’ বলে গণ্য করা হয় এবং প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান করা হয়। বর্তমানে আরতান তুরস্কের ইস্তাম্বুলে অবস্থান করছেন।

ফুটবল অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া: সোমালিয়ার সরকার এবং ক্রীড়া কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। সোমালিয়ার যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র উপদেষ্টা এবং সাবেক জাতীয় ফুটবল দলের অধিনায়ক চিইসে আদেন আবশির এক বিবৃতিতে বলেন, ওমর আরতান আফ্রিকার অন্যতম সেরা এবং সম্মানিত রেফারি। সমগ্র ফুটবল সম্প্রদায়ের উচিত তার পাশে দাঁড়ানো। তাকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করতে না দেওয়া এবং বিশ্বকাপ থেকে বঞ্চিত করা শুধু তার ব্যক্তিগত ক্ষতি নয়, বরং এটি ফুটবলের ন্যায্যতা, মেধা এবং ফেয়ার প্লে-র মূল চেতনাকে ক্ষুণ্ন করে। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মাহমুদ এর আগে আরতানকে সোমালিয়ার নতুন প্রজন্মের জন্য একটি ‘অনুপ্রেরণার প্রতীক’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন। এছাড়া কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে একে বর্ণ ও জাতিগত বৈষম্যমূলক আচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা ও বিশ্বকাপের অন্যান্য সংকট: ট্রাম্প প্রশাসনের কড়া অভিবাসন নীতির কারণে এই বিশ্বকাপে অনেক দলের খেলোয়াড় ও কর্মকর্তা আগেই ভ্রমণ জটিলতার আশঙ্কায় ছিলেন। শুধু আরতান নন, আরও বেশ কয়েকজন এই সংকটে পড়েছেন। ইরান দল, ভিসা জটিলতার কারণে ইরানের জাতীয় ফুটবল দলকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বদলে মেক্সিকোতে তাদের ক্যাম্প করতে হয়েছে। ম্যাচের দিন তারা যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে খেললেও খেলা শেষে আবার মেক্সিকোতে ফিরে আসতে হবে তাদের।

এছাড়া তাদের বেশ কয়েকজন স্টাফের ভিসা একদম শেষ মুহূর্তে বাতিল করা হয়েছে। আইমেন হুসেইন, ইরাকের এই স্ট্রাইকারকে শিকাগোর ও’হেয়ার বিমানবন্দরে প্রায় ৭ ঘণ্টা আটকে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ব্রিল এমবোলো, সুইজারল্যান্ডের এই মিডফিল্ডারকেও প্রথমে প্রবেশাধিকার দেওয়া হয়নি। তবে সুইস কর্তৃপক্ষের আপিলের পর তিনি প্রবেশের অনুমতি পান। এছাড়াও বিশ্বকাপের ম্যাচগুলোর সময় স্টেডিয়ামের আশেপাশে অভিবাসন কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত নজরদারির পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করেছেন নিউ ইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানী। তিনি স্পষ্ট জানান, অভিবাসীদের হাত ধরেই ফুটবল টিকে আছে এবং এভাবে মানুষের মনে ভয় ছড়ানো মেনে নেওয়া যায় না।

জাহাঙ্গীর স্যার

১ মাস আগে

বর্বরদের দেশে বিশ্বকাপ আয়োজন করাই সবচেয়ে বড় ভুল।

মন্তব্য করুন