সম্প্রতি ৪৬ জন যাত্রীর জীবন রক্ষা করতে গিয়ে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন বাসের হেলপার দুলাল মিয়া। তাঁর সেই সাহসিকতা ও আত্মত্যাগের প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে সিয়েট বাংলাদেশ ও ইয়ামাহা রাইডারস ক্লাবের সদস্যরা।
শনিবার দুপুরে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাড়িতে গিয়ে দুলালের পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করেন সিয়েট বাংলাদেশ ও ইয়ামাহা রাইডারস ক্লাবের প্রতিনিধিরা। এ সময় তাঁর স্ত্রী মোছা: মসলিমা খাতুন ও পরিবারের সদস্যদের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৯ মে রাতে ভূরুঙ্গামারী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আহসান পরিবহনের একটি বাস ধলেশ্বরী টোল প্লাজার কাছে পৌঁছালে হঠাৎ ব্রেক বিকল হয়ে যায়। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বাসটি দুর্ঘটনার মুখে পড়লে যাত্রীদের জীবন রক্ষায় এগিয়ে আসেন হেলপার দুলাল।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, চলন্ত বাস থামাতে তিনি নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাকার নিচে কাঠের গুঁড়ি ও ভারী বস্তু দেওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে বাসটি থেমে গেলেও চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তাঁর মৃত্যু হয়। তবে তাঁর এই আত্মত্যাগে প্রাণে বেঁচে যান বাসে থাকা ৪৬ জন যাত্রী।
স্থানীয়রা জানান, দুলালের পরিবারটি আর্থিকভাবে অসচ্ছল। পরিবহন খাতে কাজ করেই পরিবারের জীবিকা নির্বাহ হতো। তাঁর মৃত্যুর পর পরিবারটি অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দুলালের স্ত্রী মসলিমা খাতুন বলেন, “স্বামীর আয়েই সংসার চলত। আমার চিকিৎসার জন্য প্রতি মাসে প্রায় ১০ হাজার টাকা লাগে। এখন সংসার কীভাবে চলবে, চিকিৎসার খরচ কীভাবে মেটাব, সেটাই ভাবছি।” দুলালের পরিবারের সদস্যরা জানান, এই সহায়তা তাঁদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছে।
