মালয়েশিয়ায় কর্মরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের দেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি আখ্যায়িত করে তাদের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন বাংলাদেশের হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী। মেলাক্কায় অনুষ্ঠিত "চিত্তবিনোদন ও ঈদ পুনর্মিলনী ২০২৬" শীর্ষক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
বাংলাদেশ হাইকমিশন, কুয়ালালামপুর-এর উদ্যোগ ও ব্যবস্থাপনায় এবং মালয়েশিয়া সরকারের সামাজিক সুরক্ষা সংস্থা পারকেসোর সহযোগিতায় মেলাক্কা পারকেসো রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে মেলাক্কা রাজ্যে বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও সার্ভিস সেক্টরে কর্মরত উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী, নিয়োগকর্তা, পেশাজীবী এবং কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পারকেসোর ফরেন ওয়ার্কার্স ডিভিশনের প্রধান মিস্টার হারিরি হারুন এবং ডেপুটি ডিরেক্টর ড. শিভানান্দা রাজাহ সাতগুনাম। এছাড়া পারকেসোর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউজ, এনবিএল মানি ট্রান্সফার এবং সিবিএল মানি ট্রান্সফার হাউসের নির্বাহী কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
পবিত্র কুরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। পারকেসোর পক্ষ থেকে বিদেশি কর্মীদের জন্য পরিচালিত সুরক্ষা ও কল্যাণমূলক বীমা স্কিম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন পারকেসোর প্রতিনিধিরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাইকমিশনার মনজুরুল করিম খান চৌধুরী কর্মক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ক্ষতিপূরণ, চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে বাধ্যতামূলক বীমা স্কিমে বাংলাদেশি কর্মীদের নিবন্ধনের জন্য মালয়েশিয়ান নিয়োগকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানান। পাশাপাশি তিনি কর্মীদের ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে এবং বিভিন্ন সঞ্চয় ও সার্বজনীন পেনশন স্কিমে অংশ নিতে উৎসাহিত করেন।
অন্যান্য বক্তারা প্রবাসী কর্মীদের সার্বিক কল্যাণ, শ্রম অধিকার সংরক্ষণ, নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিতকরণ এবং বৈধ চ্যানেলে রেমিট্যান্স প্রেরণের গুরুত্ব তুলে ধরেন। মালয়েশিয়ার প্রচলিত আইন মেনে চলা এবং দায়িত্বশীলভাবে কর্মসম্পাদনে কর্মীদের সচেতন করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তারা।
অনুষ্ঠানের সমাপনী পর্বে প্রবাসী শিল্পীদের পরিবেশনায় মনোজ্ঞ সংগীত অনুষ্ঠান উপভোগ করেন উপস্থিত অতিথি ও কর্মীরা। পরে সবার জন্য মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
