নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় করা মামলার আপিল নিষ্পত্তি দ্রুততর করতে হাইকোর্টে বিশেষ একটি বেঞ্চ গঠন করেছেন প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী। আগামী ১৪ই জুন থেকে এই বেঞ্চ কার্যক্রম শুরু করবে।
রোববার নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের অধীনে করা গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মামলাগুলোর আপিল শুনানির জন্য হাইকোর্টে একটি ‘ডেডিকেটেড’ বেঞ্চ গঠন করা হচ্ছে, যা কেবল এসব মামলার শুনানি করবে।
অ্যাটর্নি জেনারেল আরও জানান, এই বিশেষ বেঞ্চে শিশু রামিসা, আছিয়া ও রসু খাঁ সংশ্লিষ্ট মামলার মতো আলোচিত মামলাগুলোর আপিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে নিষ্পত্তি করা হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপক্ষের আইন কর্মকর্তারা এসব মামলায় কোনো অবস্থাতেই শুনানি মুলতবি (অ্যাডজার্নমেন্ট) চাইবেন না, যাতে বিচারপ্রক্রিয়া অনাবশ্যকভাবে বিলম্বিত না হয়। শিশু রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচারিক আদালতে এ মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড হয়েছে। তবে, হাইকোর্টের অনুমোদন ছাড়া এই রায় চূড়ান্তভাবে কার্যকর হয় না। দেশের অনেক চাঞ্চল্যকর মামলার রায় থাকলেও দীর্ঘ আপিল প্রক্রিয়ার কারণে সেগুলোর বাস্তবায়ন বিলম্বিত হয়, যা সাধারণ মানুষের হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। সুতরাং বিচার বিভাগের ছুটির মধ্যেও কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং নতুন উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি হবে। একইসঙ্গে দ্রুত বিচার সম্পন্ন করায় প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, শুধু আলোচিত বা বহুল আলোচিত মামলার ক্ষেত্রে নয়, রাষ্ট্রকে প্রতিটি অপরাধের বিচার সমান গুরুত্ব দিয়ে নিশ্চিত করতে হবে। কোনো একটি ঘটনা আলোচনায় এলে তাতে সীমাবদ্ধ না থেকে সব অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত তদন্ত, বিচার ও শাস্তি নিশ্চিত করাই রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
এদিকে, শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও গলাকেটে হত্যার ঘটনায় করা মামলার বিচার সম্পন্ন করে রাষ্ট্র তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে বলে মন্তব্য করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। গতকাল মামলার রায় ঘোষণার তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সুপ্রিম কোর্টে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। অ্যাটর্নি জেনারেল আরও বলেন, শিশু রামিসা আক্তার ধর্ষণের পর গলাকেটে হত্যার মামলায় রাষ্ট্রের সব যন্ত্র সক্রিয়ভাবে কাজ করেছে। এর ফলে এতো দ্রুত বিচার করা সম্ভব হয়েছে। এতো অল্প সময়ে শিশু রামিসা হত্যা ও ধর্ষণ মামলার বিচার সম্পন্ন করে রাষ্ট্র তার অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করেছে।
