রাজধানীর পল্লবীতে শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় দেয়া আদালতের রায় আগামী তিন মাসের মধ্যে কার্যকর করা সম্ভব বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, উচ্চ আদালতে দ্রুত শুনানি হলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বিচারিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রায় কার্যকর করা যেতে পারে।
গতকাল সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে আইনমন্ত্রী বলেন, আলোচিত এ মামলাটিকে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছে। দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। আইনের প্রতিটি ধাপ অনুসরণ করেই বিচার সম্পন্ন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ২৪শে মে মামলাটি শিশু ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তরের পর থেকেই দ্রুত বিচার কার্যক্রম শুরু হয়। ১লা জুন অভিযোগ গঠন, এরপর ধারাবাহিকভাবে সাক্ষ্যগ্রহণ, আসামির জবানবন্দি ও যুক্তিতর্ক শেষে মাত্র ছয় কার্যদিবসের মধ্যে রায় ঘোষণা করা হয়েছে। তার ভাষায়, বাংলাদেশের ইতিহাসে এত অল্প সময়ে এমন একটি মামলার বিচার সম্পন্ন হওয়ার নজির নেই।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সব আইনি বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। আসামিপক্ষ আইনজীবী নিয়োগ না করায় রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আইনজীবী নিয়োগ দেয়া হয়।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি সোহেল রানার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়ার পরও বিচার প্রক্রিয়াকে ভিন্ন খাতে নেয়ার চেষ্টা করেছে সে। মামলার নথিতে নেই এমন একজনের নাম উল্লেখ করে জনমনে বিভ্রান্তি তৈরির চেষ্টা করা হয়েছিল।
উচ্চ আদালতে ডেথ রেফারেন্স মামলার দীর্ঘসূত্রিতা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, প্রধান বিচারপতির সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে সুপ্রিম কোর্ট আরও গুরুত্ব দেবে বলে আশ্বাস পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, শুধু রামিসা নয়, শিশু আছিয়া, রাজন, রাকিবসহ দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন থাকা আলোচিত মামলাগুলোর নিষ্পত্তিও দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হবে।
