বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে কথিত বাংলাদেশি অভিবাসীদের পুশইন করা নিয়ে সীমান্তে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ভারতের পক্ষ থেকে রাজ্যে আটক বাংলাদেশি অভিবাসীদের রাতের অন্ধকারে সীমান্তের ওপারে ঠেলে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। বিজিবিও প্রতিহত করার চেষ্টা করছে। বিজিবি কর্তৃক প্রকাশিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সীমান্তরক্ষীরা গত ২৪ ঘণ্টায় প্রায় ৭৫ জন ব্যক্তিকে অন্তত আটটি ক্ষেত্রে জোরপূর্বক প্রবেশের প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়েছে।
এই অবস্থায় সীমান্তের বিভিন্ন জায়গায় জিরোপয়েন্টে বসে থাকছেন অসহায় মানুষজন। সঙ্গে নারী ও শিশুরা। বিএসএফের অভিযোগ, বাংলাদেশের নাগরিকত্বের থাকা যাদের বাংলাদেশে পুশইন করা হচ্ছে তাদের বিজিবি নিতে চইছে না। এই আবহে আজ সোমবার থেকে নয়াদিল্লিতে বিজিবি ও বিএসএফের ৫৭তম দ্বিবার্ষিক মহাপরিচালক পর্যায়ের চার দিনের (৮ থেকে ১১ই জুন) সীমান্ত সমন্বয় সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বৈঠকে বিজিবি মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মো. আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী ১৬ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন। অন্য দিকে, ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন বিএসএফ প্রধান প্রবীণ কুমার।
বাংলাদেশে তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠনের পর এই প্রথমবার বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে মহানির্দেশক পর্যায়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে চলেছে।
বৈঠকে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে সম্পর্কের টানাপোড়েন সৃষ্টিকারী দীর্ঘস্থায়ী বিষয়গুলোর পাশাপাশি, একতরফা পুশইনের চেষ্টা ও বিচারবহির্ভূত সীমান্ত হত্যাকাণ্ড বন্ধের বিষয়ে আলোচনায় গুরুত্ব পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। ভারতের পক্ষ থেকে এই কাজে বাংলাদেশের সহযোগিতা আশা করা হয়েছে। জানা গেছে, ভারতের পক্ষ থেকে সীমান্তে কাঁটাতার, অনুপ্রবেশ রোধ এবং বাংলাদেশি অবৈধবাসীদের বিজিবি’র কাছে হস্তান্তরের বিষয়গুলো বৈঠকে প্রাধান্য দেয়া হবে।
পশ্চিমবঙ্গে বিজেপি সরকার সীমান্ত নিয়ে যে কঠোর মনোভাব নিয়েছে এবং অবৈধ বাংলাদেশি অভিবাসীদের বিজিবি’র হাতে তুলে দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে তার পরিপ্রেক্ষিতে দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠককে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এমন এক সময়ে এই বৈঠক হচ্ছে যখন পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকার সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য বিএসএফ’র হাতে জমি হস্তান্তর করেছে। অবৈধ অভিবাসীদের বিএসএফ’র হাতে তুলে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। অবৈধবাসীদের রাখার জন্য জেলায় জেলায় হোল্ডিং সেন্টারও খোলা হয়েছে। সেই সব হোল্ডিং সেন্টারে কয়েকশ’ বাংলাদেশিকে রাখা হয়েছে।
সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, বৈঠকের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে ভারতীয় নাগরিক এবং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের কথিত জোরপূর্বক অনুপ্রবেশ বন্ধ করা, অবৈধভাবে সীমান্ত পারাপার, মানব পাচার এবং মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান প্রতিরোধ করা, সেইসঙ্গে সীমান্ত আইন লঙ্ঘন এবং আন্তর্জাতিক সীমান্তের ১৫০ গজের মধ্যে কাঁটাতারের বেড়া ও অন্যান্য অননুমোদিত স্থাপনা নির্মাণের বিষয়টি মোকাবিলা করা।
বিএসএফ এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বৈঠকে বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বারা বিএসএফ কর্মী ও ভারতীয় বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা প্রতিরোধ, আন্তঃসীমান্ত অপরাধ দমন, বাংলাদেশি অপরাধীদের ভারতে প্রবেশ রোধ, বাংলাদেশি নাগরিকদের দ্বারা বেড়া লঙ্ঘনের ঘটনা, বেড়া নির্মাণ, বাংলাদেশে ভারতীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর (আইআইজি) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, সীমান্ত পরিকাঠামো সম্পর্কিত বিষয়, আস্থা তৈরির জন্য পদক্ষেপ (সিবিএম) এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হবে।
