বগুড়া সেঞ্চুরি মোটেল। শহরের চারমাথা এলাকায় অবস্থিত ওই আবাসিক হোটেল থেকে বিপুল চন্দ্র পাল (৫০) নামে এক সাবেক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) সদস্যের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকালে ‘হোটেল সেঞ্চুরি মোটেল’ নামের ওই আবাসিক প্রতিষ্ঠানের ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষ থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।
অভিযুক্ত হোটেলটির মালিকানা বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ও জেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল হামিদ মিটুলের। ঘটনার পর থেকেই হোটেলটির অভ্যন্তরীণ নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, নিহত বিপুল চন্দ্র পাল বগুড়া সদরের এরুলিয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দু’বারের সাবেক ইউপি সদস্য ছিলেন। এ ছাড়া তিনি শাহ ফতেহ আলী পরিবহনে দীর্ঘদিন ধরে সুপারভাইজার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি এরুলিয়া পালপাড়া এলাকার মৃত জিতেন্দ্রনাথ পালের ছেলে। নিজের বাড়ি কাছাকাছি হওয়া সত্ত্বেও তিনি প্রায়ই এই মোটেলে রাত্রিযাপন করতেন। মোটেলের ষষ্ঠ তলার একটি কক্ষে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে কর্তৃপক্ষ পুলিশে খবর দেয়।
পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি ওই কক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক সিরাপ এবং ঘুমের ট্যাবলেট জব্দ করেছে। ঘটনার সময়কার সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে ঘটনার পূর্বে বোরকা এবং মাস্ক পরিহিত এক নারীসহ বিপুল হোটেলের রিসিপশন হয়ে কক্ষে প্রবেশ করেন। এরপর ওই নারী রাতের কোনো এক সময় কক্ষ ত্যাগ করে চলে যায়। কে ওই নারী তার পরিচয় পুলিশ পেলেও মামলার তদন্তের স্বার্থে প্রকাশ করছে না। অনেকেই ধারণা করছেন ওই নারীর সঙ্গে বিপুলের দীর্ঘদিনের পরকীয়ার সম্পর্ক ছিল। ওই নারীই বিপুলের হত্যাকারী নাকি যৌন উত্তেজক ওষুধে হার্ট এটাক করে মারা গেছেন সেই প্রশ্নের উত্তর মিলবে পোস্টমর্টেম রিপোর্টে।
হোটেল কক্ষ থেকে মরদেহ উদ্ধারের বিষয়ে উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহফুজ আলম জানান, প্রাথমিকভাবে মৃতের শরীরে দৃশ্যমান কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তিনি হার্ট এটাকে মারা গেছেন। তবে কক্ষ থেকে উদ্ধার হওয়া আলামত এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা দেখা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে পেলেই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু মামলার প্রস্তুতি চলছে।
অপরদিকে বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ ইব্রাহিম হোসেন মানবজমিনকে জানান, বিপুলের সঙ্গে কক্ষে অবস্থান করা নারীর পরিচয় পাওয়া গেছে। তদন্তের স্বার্থে এখনই তার নাম-পরিচয় প্রকাশ করা যাচ্ছে না। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শ্রমিক দল নেতা আবদুল হামিদ মিটুলের এই সেঞ্চুরি মোটেলে দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিংবা প্রভাব খাটিয়ে দেহব্যবসা ও মাদক সেবনের আসর বসে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক স্থানীয় সূত্র জানায়, মাত্র দুই ঘণ্টার জন্য একেকটি কক্ষ ২২শ’ টাকায় ভাড়া দেয়া হতো। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী নেতার হোটেল হওয়ায় স্থানীয় প্রশাসন সচরাচর এখানে কোনো অভিযান চালায় না বললেই চলে। আর এই সুযোগেই হোটেলটি অপরাধের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। ঘটনার পর থেকে হোটেল মালিক ও শ্রমিক দল নেতা আবদুল হামিদ মিটুলের মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় এই বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।
