ভারতের দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক সহকারী অধ্যাপককে হত্যার রহস্য মাত্র তিন দিনের মধ্যেই উদঘাটন করেছে দেশটির পুলিশ। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে প্রায় ১ হাজার ৪০০ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে দিল্লিতে এসে ওই হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
খবরে বলা হয়েছে, নিহত দেবস্মিতা পল দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত শিবাজি কলেজের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। গত বুধবার পূর্ব দিল্লির বসুধারা এনক্লেভ এলাকার সত্যম অ্যাপার্টমেন্ট থেকে দেবস্মিতা পলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর পুলিশের একাধিক অভিযানে পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান থেকে রামপ্রসাদ দাস ও তার স্ত্রী বনশ্রী দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, অভিযুক্তদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও আটক করা হয়েছে।
সিসিটিভিতে ধরা পড়ে হত্যাকারীরা
তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, অভিযুক্তরা বর্ধমানের বাসিন্দা। তারা দেবস্মিতা পলের সঙ্গে দেখা করার অজুহাতে দিল্লিতে আসেন। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, ঘটনার দিন তারা মুখে মাস্ক পরে একটি ব্যক্তিগত গাড়িতে দেবস্মিতা পলের বাসায় প্রবেশ করে। সন্দেহ এড়াতে তারা নিজেদের অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকেও সঙ্গে নিয়ে আসে।
পুলিশের দাবি, পরিচিত হওয়ায় সহজেই তারা ফ্ল্যাটে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়। এরপর সঙ্গে আনা অস্ত্র দিয়ে দেবস্মিতা পলকে হত্যা করা হয়।
ঘটনার প্রায় ৩০ মিনিট পর পোশাক পরিবর্তন করে তারা আবার ভবন থেকে বেরিয়ে যায় এবং নিচে অপেক্ষমাণ একটি গাড়িতে করে স্থান ত্যাগ করে। পরে ওই গাড়ির চালককে জিজ্ঞাসাবাদ করে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করে পুলিশ।
চার রাজ্যে অভিযান
তদন্তের অংশ হিসেবে অ্যাপার্টমেন্টে ওই দিন প্রবেশ করা প্রায় ২০০ জনের তথ্য খতিয়ে দেখে ১৩ জন সন্দেহভাজনের তালিকা তৈরি করা হয়। সাতটি পুলিশ দল চারটি রাজ্যে অভিযান চালিয়ে শতাধিক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদ করে। এরপর শেষ পর্যন্ত বর্ধমান থেকে অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সম্পত্তি দখলের পরিকল্পনা
পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, দেবস্মিতা পল তার মাতামহের মৃত্যুর পর পশ্চিমবঙ্গে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হন। অভিযুক্ত দম্পতি ওই সম্পত্তির ভাড়াটিয়া ছিল। দীর্ঘদিন ধরে তারা সম্পত্তিটি নিজেদের দখলে নেয়ার চেষ্টা করছিল। কিন্তু দেবস্মিতা পল তাদের বাড়ি খালি করার জন্য চাপ দিচ্ছিলেন। এ কারণেই সম্পত্তি হাতিয়ে নেয়ার উদ্দেশ্যে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে বলে পুলিশের ধারণা।
বোনের সন্দেহেই বেরিয়ে আসে হত্যাকাণ্ড
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার দেবস্মিতার বোন দেবরাত্রি থানায় খবর দেন যে তার বোনের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগ করা যাচ্ছে না।
ফ্ল্যাটের দরজা বাইরে থেকে বন্ধ ছিল। বারবার ফোন করেও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে দেবস্মিতা পলের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে থাকতে দেখা যায়।
তদন্তকারীরা জানান, তার মাথায় গভীর আঘাতের চিহ্ন ছিল এবং হাতের শিরা কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়। তবে ঘরে থাকা গয়না ও নগদ অর্থ অক্ষত থাকায় ডাকাতির কোনো আলামত পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর হত্যা মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করে দিল্লি পুলিশ। গ্রেপ্তার হওয়া দম্পতিকে দিল্লিতে এনে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ট্রানজিট রিমান্ড চাওয়া হবে বলে জানা গেছে।
