চলতি সপ্তাহের শুরুতে স্পেনে ছুটির মেজাজে গা ভাসান হাসান উয়েদ্রাওগো। তখনো হয়তো ভাবতে পারেননি যে ভাগ্যের চাকা এভাবে ঘুরে যাবে। আচমকাই আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। বায়ার্ন মিউনিখ তারকা লেনার্ট কার্লের চোটের কারণে জার্মানির বিশ্বকাপ স্কোয়াডে ডাক পান আরবি লাইপজিগের এই ২০ বছর বয়সী সেন্ট্রাল মিডফিল্ডার। এ যেন মেঘ না চাইতেই জল!
হুট করে বদলে যাওয়া এই বাস্তবতা যেন এখনো বিশ্বাস হচ্ছে না উয়েদ্রাওগোর। নিজের ক্লাব লাইপজিগকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে শৈশবের স্বপ্নপূরণের গল্প শুনিয়ে তিনি বলেন, ‘ছুটিতে থাকার সময় শুক্রবার সন্ধ্যায় জাতীয় দলের কোচের ফোন পাই। হুলিয়ান নাগেলসম্যান যখন বললেন আমি বিশ্বকাপ স্কোয়াডে আছি, মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যাই। ঘটনাটা হজম করতে কিছুটা সময় লেগেছে, তারপরই দ্রুত ব্যাগ গোছাতে শুরু করি। বিশ্বকাপে জার্মানির প্রতিনিধিত্ব করা আমার জন্য এক বিশাল সম্মান ও গর্বের।’
গত নভেম্বরে জার্মানির সিনিয়র দলের হয়ে নিজের একমাত্র ম্যাচেই গোল করেন উয়েদ্রাওগো। এরপরই এক হাঁটুর চোট তাকে বেশ কয়েকমাস মাঠের বাইরে ছিটকে দেয়। তবে গত মৌসুমের শেষভাগে এসে চোট কাটিয়ে চেনা ছন্দে ফেরেন তিনি। দীর্ঘ লড়াইয়ের পর এই প্রাপ্তি নিয়ে উয়েদ্রাওগো বলেন, ‘আমার শৈশবের একটি স্বপ্ন সত্যি হলো-যার জন্য গত কয়েক মাস ও বছর ধরে আমি কঠোর পরিশ্রম করেছি। দলে নিজের ভূমিকা নিয়ে আমি দারুণ রোমাঞ্চিত এবং মাঠ ও মাঠের বাইরে ছেলেদের সম্ভাব্য সব উপায়ে সাহায্য করতে চাই।’
আনন্দ উদযাপনের মাঝেও চোটের কারণে ছিটকে যাওয়া ১৮ বছর বয়সী লেনার্ট কার্লের প্রতি সহমর্মিতা জানাতে ভুলেননি তিনি। কার্লের দ্রুত আরোগ্য কামনা করে উয়েদ্রাওগো আরও বলেন, ‘আমি লেনির দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনা করি। টুর্নামেন্টের এত কাছাকাছি এসে ও চোট পাওয়ায় ওর জন্য খুব খারাপ লাগছে। নিজের আনন্দের পাশাপাশি ওর এই পরিস্থিতির প্রতি আমার গভীর সহানুভূতি রয়েছে। আমি মন থেকে ওর ভালো চাই।’
