পাল্টে গেছে ভোটের চিত্র ও হিসাবনিকাশ

পঞ্চগড় ১

পাল্টে গেছে ভোটের চিত্র ও হিসাবনিকাশ

ফন্ট সাইজ:

নয়া সমীকরণে পঞ্চগড়-১ আসনে বদলে গেছে ভোটের হিসাবনিকাশ। এ আসনে ত্রিমুখী ভোটযুদ্ধ চললেও শেষ মুহূর্তে বিএনপি ও এনসিপি’র প্রার্থীর মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। তবে বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি বলে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে। বিএনপি মনোনীত ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির, জামায়াত জোট মনোনীত এনসিপি’র সারজিস আলম ও বাংলাদেশ জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা নাজমুল হক প্রধান ভোটের লড়াইয়ে বিজয়ী হওয়ার জন্য নিজ নিজ কৌশল নিয়ে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগে ব্যস্ত সময় অতিবাহিত করছেন।
এ আসনের আটোয়ারী উপজেলা আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। প্রতিটি নির্বাচনে এখানে ভোটের হিসাবে আওয়ামী লীগ প্রথম হয়েছে। উপজেলাটিতে হিন্দু ভোটারের সংখ্যাও বেশি। তাই ওই তিনজন প্রার্থী নিজে ও কর্মীদের মাধ্যমে সাধারণ, আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়সহ তরুণ ভোটারদের পক্ষে টানতে ভোটব্যাংক চেয়ারম্যান-মেম্বারদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগসহ সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলায় সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়সহ তরুণ ভোটাররা যার পক্ষে যাবে তার বিপুল ভোটে জয় নিশ্চিত হয়ে যাবে। সবাই মনে করেছিল বিএনপি প্রার্থী সহজে জয়লাভ করবে। কিন্তু জেলা জামায়াতের আমীর ইকবাল হোসাইনসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী সারজিস আলমের সঙ্গে থেকে কৌশলী কার্যক্রম চালাবার জন্য দল ও দল বহির্ভূত এক শ্রেণির ভোটারদের দৃষ্টিভঙ্গি ও চিন্তাধারা পরিবর্তন হয়। এতে বিএনপি প্রার্থী ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছেন। সারজিস আলম মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতায় চলে এসেছেন। তবে আওয়ামী লীগ সমর্থিত ও সনাতন হিন্দু সম্প্রদায়ের বেশির ভাগ ভোট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ নওশাদ জমির পাবেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলোর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।
বর্তমানে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় নওশাদ জমির ও সারজিস আলমের সমানতালে নির্বাচনী লড়াই চলছে। জোরেশোরে প্রচার-প্রচারণার পাশাপাশি সভা সমাবেশগুলোতে নানা প্রতিশ্রুতিসহ করছেন একে অপররের সমালোচনা। নওশাদ জমিরের পক্ষে তার বাবা পঞ্চগড়-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও স্পিকার বিএনপি নেতা ব্যারিস্টার মুহাম্মদ জমির উদ্দিন সরকার চিনিকল মাঠে সোমবার নির্বাচনী জনসভা করবেন। এ আসন থেকে সংসদ সদস্যের পদপ্রার্থীর তালিকায় গণঅধিকার পরিষদ মনোনীত মাহাফুজার রহমান, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টি মনোনীত আব্দুল ওয়াদুদ বাদশা, বাংলাদেশ লেবার পার্টি মনোনীত ফেরদাউস আলম ও বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ফ্রন্ট মনোনীত সিরাজুল ইসলামের নাম থাকলেও প্রচার-প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না। এদিকে প্রতিদ্বন্দ্বী ওই তিনজন প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা দিনরাত নির্বাচনী কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকলেও শহর-গ্রাম কোথাও তেমন একটা নির্বাচনী উৎসব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। সাধারণ ভোটারদের মধ্যে উচ্ছ্বাস ও উদ্দীপনা নেই। ভোটাররা নিজ নিজ কাজের পাশাপাশি প্রার্থীদের ব্যাপারে বিচার-বিশ্লেষণ ও হিসাবনিকাশ কষসেন। অপরদিকে গণভোট নিয়ে বেশির ভাগ মানুষ অন্ধকারে রয়েছেন। প্রার্থী ও তাদের নেতাকর্মীরা শুধু ভোটারদের কাছে ভোট চাচ্ছে। ‘হ্যাঁ-না’ ভোটের ব্যাপারে কোনো আলোচনা নেই। প্রার্থীদের কর্মীরাও জানেন না গণভোট কি।
পঞ্চগড় সদর উপজেলার ফুটকিবাড়ি এলাকার সফিকুল আলম বলেন, হিন্দু ও আওয়ামী লীগ সমর্থিত ভাসা ভোটগুলো বিএনপি পাবে। গরিনাবাড়ি মাটিগাড়া গ্রামের জিয়াউর রহমান বলেন, আমাদের এলাকায় ধানের শীষ ও শাপলা কলির দু’টোরই জনসমর্থন আছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আটোয়ারীর হিন্দু সম্প্রদায়ের এক শীর্ষ নেতা বলেন, আমাদের বেশির ভাগ ভোটার ভোট দিতে যাবে। হিন্দু ভোটাররা ধানের শীষ প্রতীক তথা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের বিএনপিকে ভোট দিবে। আটোয়ারীর জনপ্রিয় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আমার সঙ্গে প্রার্থীরা ভোটের বিষয়ে সরাসরি কথা বলেছে। আমি বর্তমানে ঢাকায় আছি। ফিরে গিয়ে দেখা যাক কি করা যায়। তেঁতুলিয়ার সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পাথর শ্রমিক নেতা মুক্তারুল হক মুকু বলেন, আমাদের উপজেলায় বিএনপি বিপুল ভোটে প্রথম হবে। পৌসভাধীন নীমনগর এলাকার শাপলা কলির কর্মী সুরাইয়া বেগম বলেন, গণভোটের ব্যাপারে আমি নিজেই জানি না। ভোটারদের কীভাবে বুঝাবো। আমরা শুধু ভোট চাচ্ছি।





কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন