‘গ্রামের মেয়ে মন্ত্রী হয়েছেন। আমাদের এলাকাবাসীর জন্য আনন্দ ও গর্বের সীমা নেই। সবার কাছে গর্ব করে বলতে পারুম আমরা মন্ত্রীর গ্রামের মানুষ।’ কথাগুলো মানিকগঞ্জ-৩ আসনে ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করে জয় পাওয়া নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খান রিতার নিজের গ্রাম গিলন্ড বাজারের চায়ের দোকানদার আব্দুল কাদেরের। মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার নবগ্রাম ইউনিয়নের গিলন্ড গ্রামের মানুষের হৃদয়ের স্পন্দন আফরোজা খান রিতা। তারেক রহমানের মন্ত্রিপরিষদের বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার খবরের পর থেকেই তার গ্রামে বইছে উৎসবের আমেজ। সরজমিন জেলা শহর থেকে পাঁচ কিলোমিটার অদূরে সবুজ প্রকৃতি ঘেরা গিলন্ড গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, চায়ের দোকান থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লা, এমনকি বাড়ির গৃহিণীদের মধ্যেও আলোচনা রিতাকে নিয়ে। গ্রামের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা হলে তাদের সবার চোখে-মুখে আনন্দের ছাপ। গিলন্ড বাজারে ইসলামী ব্যাংকের বুথের গার্ড জয়নাল মোল্লা বলেন, ‘রিতা আপা মন্ত্রী হওয়ার কারণে আমাদের গ্রাম আরও বেশি আলোকিত হয়ে উঠেছে। বিগত দিনে ভোট দিতে পারি নাই। আমরা সৌভাগ্যবান, ১৮ বছর পর ভোট দিয়েই আমাদের গ্রামে মন্ত্রী পেলাম। এলাকার সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুর রশিদ বলেন, আমাদের গ্রামের একসময় বটবৃক্ষ ছিলেন রিতা আপার পিতা মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নু। তার অবর্তমানে আপাই হচ্ছেন আমাদের একমাত্র অভিভাবক। প্রথম নির্বাচনেই রেকর্ড সংখ্যক ভোট পেয়ে আপা বিজয়ী হয়ে মন্ত্রিত্ব পেয়েছেন। সাবেক ইউপি সদস্য বলেন, বিগত ১৭ বছরে আমাদের এই গিলন্ড গ্রামে কোনো উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের ক্ষোভ ছিল এই গ্রাম হারুণার রশিদ খান মুন্নুর এবং রিতার। যার কারণে কোনো উন্নয়ন তারা করেনি। এলাকার গৃহিণী রিনা বেগম বলেন, রিতা আপা হচ্ছেন একজন মানবিক মানুষ। গরিব দুঃখী মানুষের বিপদে-আপদে সব সময় তিনি পাশে থাকেন। আমি ক্যান্সার আক্রান্ত হওয়ার খবর শোনার পর তিনি আমাকে সহযোগিতা করেছেন। তার ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না। আজ তিনি মন্ত্রী হয়েছেন, আমার চেয়ে বেশি খুশি আর কে হবে। রিতা সম্পর্কে তার বড় ছেলে রাশীদ মামুনুল ইসলাম বলেন, রাজনীতি করতে গিয়ে আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে অনেক ক্ষতি হলেও মা কখনোই নিরাশ হননি। দলের প্রতি তিনি দায়িত্ব-কর্তব্যে কখনোই অবহেলা করেননি। আমাদের পরিবারের সঙ্গে যতটুকু না সময় দিয়েছেন তার চেয়ে বেশি সময় দিয়েছেন মানিকগঞ্জের মানুষের সঙ্গে। তার সবকিছুই মানিকগঞ্জের মানুষকে ঘিরে। মা মন্ত্রিত্ব পাওয়ায় সবচাইতে বেশি খুশি হয়েছেন মানিকগঞ্জবাসী। রিতার পুত্র আরও বলেন, মায়ের নির্বাচনী এলাকার প্রত্যেকটি জায়গায় গিয়ে দেখেছি আমার মায়ের জনপ্রিয়তা। প্রত্যেকটা মানুষ আমার মাকে ভালোবাসেন। যার কারণে ভোটের রেকর্ড সৃষ্টি করে আমার মা বিজয়ী হয়েছেন এবং দলের চেয়ারম্যান মহোদয় মন্ত্রিত্ব দিয়ে যোগ্যতার মূল্যায়ন করেছেন। এ জন্য মুন্নু পরিবার জিয়া পরিবার ও দলের কাছে কৃতজ্ঞ। ইনশাআল্লাহ সবার সহযোগিতায় আমার মা মানিকগঞ্জের মানুষের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে যাবেন।
গিলন্ড গ্রাম যার কারণে আলোকিত: মানিকগঞ্জ জেলা শহর থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমের জনপদ গিলন্ড গ্রাম। একসময় এই গ্রামটি ছিল নিভৃত পল্লী অঞ্চল। যেখানে কোনো ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিল্পকারখানা, হাসপাতাল ও স্কুল-কলেজ ছিল না। তবে এই গ্রামকে আলোকিত করার মূল কারিগর হচ্ছেন দেশের সফল শিল্পোদ্যোক্তা ও সাবেক মন্ত্রী মরহুম হারুণার রশিদ খান মুন্নু। এই গ্রামে পা দিয়েই মুন্নু মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মুন্নু নার্সিং কলেজ, মুন্নু ফেব্রিক্স লিমিটেড, মুন্নু অ্যাটায়ারের মতো সুনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলো তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন। শুধু তাই নয়, হারুণার রশিদ খান মুন্নু রাজধানী ঢাকা শহরের ঝলমলে জগৎ ছেড়ে এই নিভৃত পল্লী গ্রামেই পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। ২০১৭ সালের ১লা আগস্ট তিনি না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন এবং এই গ্রামের মাটিতেই সমাহিত আছেন।
গিলন্ড গ্রামের মেয়ে রিতা মন্ত্রী হওয়ায় গর্বের অন্ত নেই এলাকাবাসীর
স্টাফ রিপোর্টার, মানিকগঞ্জ থেকে
২১ ফেব্রুয়ারি (শনিবার), ২০২৬
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%

এস এম সুজন
৩ মাস আগেআমাদের মানিকগঞ্জ বাসীর গর্ব,,জনবা তারেক রহমান স্যার কে অসংখ্য ধন্যবাদ,, আপাকে বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রী করার জন্য