আয়ের একমাত্র সম্বল হারিয়ে দিশাহারা শাকিল

আয়ের একমাত্র সম্বল হারিয়ে দিশাহারা শাকিল

ফন্ট সাইজ:

২১ বছর বয়সী মো. শাকিল। বছরখানেক আগে একটি অটোরিকশা কিনে অভাবের সংসারে হাল ধরে শুরু করেন জীবিকার সংগ্রাম। ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে কিনেন ওই অটোরিকশাটি। যার জন্য নিতে হয়েছে এনজিও থেকে ঋণও। অটোরিকশা কেনার পর থেকে প্রতিদিন গড়ে আটশ’ টাকার মতো উপার্জন করতেন শাকিল। উপার্জনের টাকা তুলে দিতেন বাবা-মায়ের হাতে। শাকিল আর তার বাবার আয়ে ভালোভাবেই চলছিল সংসার। তবে গত সোমবার (১৬ই ফেব্রুয়ারি) যাত্রীসেজে প্রতারণা করে শাকিলের অটোরিকশাটি নিয়ে যায় প্রতারক চক্র। এরপর থেকে বিভিন্নস্থানে ওই অটোরিকশাটি খুঁজে বেড়াচ্ছেন মো. শাকিল। দিনের পর দিন যাচ্ছে, তবুও কোথাও খোঁজ মিলছে না শাকিলের ওই অটোরিকশাটির। এতে করে এখন দিশাহারা হয়ে পড়েছেন তিনি। অটোরিকশাচালক মো. শাকিল ভোলার লালমোহন উপজেলার রমাগঞ্জ ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের তোফালিয়া মাদরাসা এলাকার হাশেম মাওলানা বাড়ির মো. কালু মিয়ার ছেলে।
অটোরিকশাচালক মো. শাকিল বলেন, সংসারে আমার স্ত্রী, মা-বাবা ও ছোট এক ভাই-এক বোন রয়েছেন। অটোরিকশা চালিয়ে বাবা একাই আমাদের সংসার চালাতেন। এতে করে সংসারে অভাব-অনটন লেগে থাকতো। যার জন্য এক বছর আগে ১ লাখ ৯৫ হাজার টাকা দিয়ে আমিও একটি অটোরিকশা কিনি। এই অটোরিকশা কিনতে এনজিও থেকে আমাকে ১ লাখ টাকা ঋণ নিতে হয়েছে। তবুও বাবা আর আমার আয়ে সুন্দরভাবেই চলছিল সংসার। প্রতিদিন আমি অটোরিকশা চালিয়ে আটশ’ টাকার মতো আয় করতাম।
তিনি বলেন, গত সোমবার (১৬ই ফেব্রুয়ারি) রাতে গজারিয়া থেকে এক ব্যক্তি লালমোহন যাওয়ার কথা বলে আমার অটোরিকশায় ওঠেন। লালমোহনে পৌঁছে তিনি কয়েকটি কার্টন নিয়ে আবার গজারিয়া যাবেন বলে মোট আড়াইশ’ টাকা ভাড়া করেন। ওই কার্টন নিতে তিনি আমাকে অটোরিকশাসহ লালমোহন সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের কাছে নিয়ে যান। সেখানে গিয়ে অটোরিকশায় থাকা ওই ব্যক্তি বলেন, সামনের একটি বাসা থেকে কার্টনগুলো গিয়ে আনতে। তখন অন্য আরেক ব্যক্তি এসে আমাকে তালাবদ্ধ একটি বাসার সামনে নিয়ে গিয়ে সময় ক্ষেপণ করতে থাকেন। যে কারণে আমার সন্দেহ হয়। তখন সেখান থেকে দৌড়ে এসে দেখি আমার রেখে যাওয়া অটোরিকশাটি আর নেই। এরপর আবার ওই বাসার সামনে গিয়ে সেখানে থাকা ব্যক্তিকেও আর দেখতে পাইনি। তখন বুঝতে পেরেছি আমার সঙ্গে প্রতারণা করে অটোরিকশাটি নিয়ে গেছে প্রতারক চক্র।
অটোরিকশাচালক শাকিল আরও বলেন, অটোরিকশাটি প্রতারক চক্র নিয়ে যাওয়ার পর থেকে প্রতিদিন সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিভিন্নস্থানে খুঁজে বেড়াচ্ছি। এখনো কোথাও কোনো সন্ধান পাচ্ছি না আমার অটোরিকশার। এ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছি। কারণ আমি এখন কীভাবে এনজিও’র ঋণ পরিশোধ করবো আর বাবাকে সংসার চালাতে সহযোগিতা করবো? তাই আমার অটোরিকশাটি উদ্ধার করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করছি। এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. অলিউল ইসলাম জানান, এ ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। অটোরিকশাটি উদ্ধারের জন্য চেষ্টা চলছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন