দেশের চারটি সীমান্ত জেলায় নারী-শিশুসহ মোট ৮৮ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন করার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)’র কঠোর নজরদারি ও তাৎক্ষণিক অবস্থানের কারণে এসব চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। শুক্রবার ভোর থেকে শুরু হয়ে দিনের বিভিন্ন সময়ে পঞ্চগড়, নওগাঁ, লালমনিরহাট ও চাঁপাইনবাবগঞ্জের সীমান্ত এলাকায় এসব ঘটনা ঘটে। পঞ্চগড় সদর উপজেলার বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া গ্রামের সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশ ইন চেষ্টা করে বিএসএফ। তবে কঠোর নজরদারির কারণে প্রবেশ করতে পারেননি বলে জানিয়েছে বিজিবি। শুক্রবার ভোর থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ওই ১০ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় অবস্থান করছেন।
এ সময় দুই পাশে বিজিবি ও বিএসএফ সদস্যদের অবস্থান করতে দেখা যায়। এ ঘটনায় সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত বড়বাড়ি-প্রধানপাড়া সীমান্তে বিজিবির বড়বাড়ি ও বিএসএফের সাকাতি ক্যাম্পের মধ্যে কোম্পানি কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। পতাকা বৈঠকে ১০ জন বাংলাদেশের নাগরিক বলে বিএসএফ দাবি করেছে। তবে তাঁরা বাংলাদেশি কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। নওগাঁর সাপাহার উপজেলা সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৭ জনকে পুশ ইনের চেষ্টা করে বিএসএএফ। পুশ ইনের চেষ্টা ঠেকিয়ে দেয় বিজিবি। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার হাঁপানিয়া সীমান্ত এলাকায় দিয়ে পুশ ইনের চেষ্টার শিকার ওই ১৭ জন শূন্য রেখায় অবস্থান করে বলে জানিয়েছে বিজিবি। অবৈধভাবে বাংলাদেশে কাউকে অনুপ্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নওগাঁ-১৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম মাসুম।
লালমনিরহাটের আদিতমারী, হাতীবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলার চারটি সীমান্ত দিয়ে নারী, পুরুষ, শিশুসহ অন্তত ৩৩ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে পাঠানোর চেষ্টা করেছে বিএসএফ। গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে আজ শুক্রবার ভোর পর্যন্ত এসব চেষ্টাকে রুখে দেওয়ার দাবি করেছে বিজিবি। বিজিবি জানিয়েছে, সীমান্ত এলাকায় টহল জোরদার করা হলে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহযোগিতায় অনুপ্রবেশের এসব চেষ্টা ব্যর্থ করা হয়। বর্তমানে সংশ্লিষ্ট সীমান্তগুলোতে বিজিবি ও বিএসএফ মুখোমুখি অবস্থানে আছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জের গোমস্তাপুর উপজেলার বাঙ্গাবাড়ি সীমান্ত দিয়ে বিএসএফের ঠেলে পাঠানো ২৮ জন সীমান্তের শূন্যরেখায় (নো ম্যান্স ল্যান্ড) অবস্থান করছেন।
বিএসএফ তাদের ফেরত নেয়নি। বিজিবি ১৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ওই ২৮ জন সীমান্তের নো ম্যান্স ল্যান্ডে অবস্থান করছেন। বর্তমানে তারা সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে নো ম্যান্স ল্যান্ডের ভারতীয় অংশের ৫০ গজ ভেতরে রয়েছেন। এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বিজিবি ও বিএসএফের ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই পতাকা বৈঠকে বিএসএফ ২৮ জনকে ঠেলে পাঠানোর কথা স্বীকার করে। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি সমাধান করা হবে বলেও বিজিবিকে আশ্বস্ত করেন বিএসএফের কর্মকর্তারা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে বিএসএফের পক্ষ থেকে বিজিবিকে আর কোনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।
