রায়পুরে ২৩৯ প্রতিষ্ঠানের নেই ভাষা শহীদদের স্মৃতিস্তম্ভ

ফন্ট সাইজ:

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনে রায়পুর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকার চিত্র ফুটে উঠেছে। সরকারি ও বেসরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও কলেজ পর্যায়ের মোট ২৭১টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২৩৯টিতেই নির্মিত হয়নি শহীদ মিনার। ফলে ভাষা শহীদদের প্রতি যথাযথ শ্রদ্ধা জানাতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। পুরো উপজেলায় মাত্র ৩২টি প্রতিষ্ঠানে রয়েছে শহীদ মিনার। উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় ১২১টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র পাঁচটিতে শহীদ মিনার রয়েছে। ৬৪টি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় (কিন্ডারগার্টেন) চালু থাকলেও একটিতেও নেই শহীদ মিনার। ৫৫টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২৩টিতে শহীদ মিনার থাকলেও বাকি ৩২টিতে নেই। মাধ্যমিক সমমানের ২১টি দাখিল মাদ্রাসার কোনোটিতেই শহীদ মিনার নির্মাণ হয়নি। ‎কলেজ পর্যায়েও দেখা গেছে একই চিত্র। রায়পুর সরকারি কলেজে শহীদ মিনার থাকলেও উপজেলার চারটি বেসরকারি কলেজের মধ্যে তিনটিতে রয়েছে, তবে রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজে নেই। এছাড়া রায়পুর কামিল মাদ্রাসা (আলিয়া) ও হায়দরগঞ্জ টিআরএম কামিল (আলিয়া) মাদ্রাসাসহ পাঁচটি ফাজিল মাদ্রাসায়ও শহীদ মিনার নির্মিত হয়নি। রায়পুর পাইলট বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন-জমি ও প্রয়োজনীয় অর্থের অভাবে আমরা শহীদ মিনার নির্মাণ করতে পারিনি। এজন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে গিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে হয়। রুস্তম আলী ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. সাইফ উদ্দিন বলেন- সম্প্রতি দায়িত্ব নিয়েছি। বিভিন্ন কারণে এতদিন শহীদ মিনার স্থাপন সম্ভব হয়নি। দ্রুত একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হবে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঈনুল হোসেন বলেন- সরকারি বরাদ্দের অভাবে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মাণের চেষ্টা চলছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান কাউছার বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকাটা দুঃখজনক। উপজেলার সব প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে শহীদ মিনার নির্মাণে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেয়া হবে। ভাষা শহীদদের স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।



কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন