হিজবুল্লাহর প্রত্যাখ্যানের কারণে লেবানন যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

হিজবুল্লাহর প্রত্যাখ্যানের কারণে লেবানন যুদ্ধবিরতি অনিশ্চিত

ফন্ট সাইজ:

ইরান সমর্থিত যোদ্ধা গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বৃহস্পতিবার লেবাননে প্রস্তাবিত নতুন যুদ্ধবিরতি প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে ইসরাইল জানিয়েছে, তারা লেবানন থেকে তাদের সেনা প্রত্যাহার করবে না। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যস্থতায় চলমান শান্তি উদ্যোগ বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে।

ইরান জানিয়েছে, ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনো সম্ভাব্য শান্তিচুক্তির ক্ষেত্রে লেবাননে যুদ্ধবিরতি একটি শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি তারা সতর্ক করেছে, ইসরাইল লেবাননে হামলা অব্যাহত রাখলে সরাসরি হস্তক্ষেপ করা হতে পারে। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

হিজবুল্লাহর নেতা নাইম কাসেম যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত ওই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন। ওই প্রস্তাবটি ইসরাইল ও লেবানন সরকারের মধ্যে মধ্যস্থতার মাধ্যমে তৈরি হয়েছিল। আলোচনার অংশ ছিল না হিজবুল্লাহ। ইসরাইল বা লেবাননের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। ওয়াশিংটনে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, লেবাননে অগ্রগতি হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন এবং দেশটির শান্তি প্রাপ্য। তিনি বলেন, এটা অনেক দিন ধরে চলছে।

তবে বাস্তবে পরিস্থিতি ভিন্ন। ইসরাইল দক্ষিণ লেবাননে হামলা অব্যাহত রেখেছে। ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ বলেছেন, ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে অবস্থান অব্যাহত রাখবে এবং অভিযান বন্ধ করবে না। একই সঙ্গে ইরানের রেভ্যুলুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের কমান্ডার বলেছেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ইসরাইল যে অবস্থানে ছিল, অন্তত সেখানে ফিরে না যাওয়া পর্যন্ত কোনো সমাধান সম্ভব নয়।

মধ্যপ্রাচ্যে বিস্তৃত সংঘাত
লেবাননের পাশাপাশি গাজা, উত্তর ইসরাইল এবং কুয়েতেও সাম্প্রতিক সপ্তাহে হামলা ও পাল্টা হামলা চলেছে, যদিও যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত যুদ্ধবিরতির কথা বলা হয়েছিল। ট্রাম্প বুধবার বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি থামার বদলে আরও সীমিত মাত্রায় গুলি চলবে। এ ধরনের একটি পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী উপসাগরীয় অঞ্চলে একে অপরের ওপর হামলা চালিয়েছে, যা চলমান সংঘাতের মধ্যে অন্যতম তীব্র পর্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে। কুয়েতে একটি বিমানবন্দরে হামলায় একজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী হরমুজ প্রণালির কাছে হামলা চালিয়েছে।

ওমানেও একটি ড্রোন হামলার অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে একটি তেল টার্মিনালে কার্যক্রম স্থগিত করা হয়। হরমুজ প্রণালি দিয়ে স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল ও এলএনজি পরিবহন হয়। তবে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এই রুটে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দিয়েছে।

তেল, অর্থনীতি ও কূটনীতি
যুদ্ধের কারণে ইরানের তেল রপ্তানি ছয় বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। তবে লেবাননে যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনার কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রায় ৩ শতাংশ কমেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে কূটনৈতিক সমঝোতার সম্ভাবনার ইঙ্গিত হতে পারে, যদিও বাস্তবে অগ্রগতি খুবই সীমিত। ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর অভ্যন্তরীণ চাপও বাড়ছে। বিশেষ করে জ্বালানি দামের বিষয়টি সামনে রেখে।

অন্যদিকে, মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ বুধবার ট্রাম্পকে ইরানে সামরিক অভিযান চালিয়ে যেতে বাধা দেয়ার একটি প্রতীকী প্রস্তাব পাস করেছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি বলেছেন, ইরানের শত্রুরা ইতিমধ্যে যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজিত হয়েছে এবং এখন তারা অভ্যন্তরীণ বিভাজন তৈরির চেষ্টা করছে। তিনি ৩ মাস আগে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে প্রকাশ্যে দেখা দেননি। ইরান বলছে, তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরিচালনা করছে। তবে জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষক সংস্থা জানিয়েছে, যুদ্ধের তিন মাস পরও ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন