নরসিংদীতে রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি

নরসিংদীতে রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি

ফন্ট সাইজ:

নরসিংদীতে রোজার শুরুতেই নিত্যপণ্যের মূল্যের ঊর্ধ্বগতি। এতে নিম্ন্ন আয়ের মানুষেরা দিশাহারা হয়ে পড়েছেন। তবে বাজারগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন তৎপর রয়েছে। সারা দেশে প্রতিবার রমজান এলে নিত্যপণ্যের দাম লাগামহীন হয়ে যায়। ইতিমধ্যে রোজার শুরুতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সেই পুরোনো চিত্র নরসিংদীতে দেখা গেছে। বাজারগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের সমাহার পর্যাপ্ত পরিমাণ থাকলেও অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে দাম। বেগুন, লেবু, কলা, শসা, কাঁচা মরিচ, খেজুর, দুধ, চিনি, ছোলা, ডালসহ বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে অস্বাভাবিক। আর এসব পণ্য নিয়ন্ত্রণ রাখাই এখন চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে জেলা প্রশাসন দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ রাখতে তৎপরতা চালাচ্ছে।

নরসিংদী বাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানে চাহিদার শীর্ষে থাকা ছোলা ও মসুর ডাল দাম কেজিতে ৫-১০ টাকা বেড়েছে। বর্তমানে ছোলা বিক্রি হচ্ছে ৯৫-১০ টাকা এবং মোটা মসুর ডাল ১০০ টাকা। রোজার আগে ৯৫ টাকায় বিক্রি হওয়া চিনি এখন ১০৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। খেজুরকে পুঁজি করে খেজুরের দোকানে রীতিমতো অনেক বেশি দাম। নিম্নমানের বস্তা খেজুর কেজিপ্রতি বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা। এছাড়া মাঝারি মানের জিহাদি খেজুর বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫০-৪০০ টাকা। যা আগে ছিল ২০০-২৫০ টাকা। দুই দিনের ব্যবধানে গরুর দুধ লিটারের ৫০ টাকা বেড়ে ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বেগুনপ্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০-১২০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১৮০, শসা প্রতি কেজি ৫০ টাকা থেকে বেড়ে ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রোজার শুরুতেই বাজারে কলার সরবরাহ ঘাটতি দেখা গেছে। ১ কুড়ি চম্পা কলা (ছোট) ২০০ টাকা। যা ৩ দিন আগে ছিল ৭০-৮০ টাকা কুড়ি। ভালোমানের সাগর কলা কুড়ি ৫০০-৫৫০ টাকা ও সবরি কলা বিক্রি হচ্ছে ৩৫০-৪০০ টাকা। বোতলজাত বিভিন্ন ব্যান্ডের সয়াবিন তেল ৫ লিটার বিক্রি হচ্ছিল ৯৫৫-৯৮০ টাকা। পিয়াজ ২ দিনের ব্যবধানে বেড়ে বর্তমানে প্রতি কেজি ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, রুই ও কাতল মাছ (বড়) প্রতি কেজি ৪০০-৫০০ টাকা, বোয়াল প্রতি কেজি ৮০০-৯০০ টাকা, পাঁচমিশালি ছোট মাছ ৮০০-৯০০ টাকা কেজি, পাঙ্গাস ২০০-২৫০ টাকা এবং চিংড়ি ১৫০০-১৬০০ টাকা কেজি। এছাড়া ব্রয়লার মুরগির দাম চড়া। দুই মাস ধরে যে ব্রয়লার মুরগি ১৫০ টাকার কিছু বেশি ছিল সে ব্রয়লার মুরগি রমজান উপলক্ষে এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার বিক্রি হচ্ছে ১৯০-২০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে। সেই সঙ্গে সব ধরনের সবজিসহ অন্যান্য মসলার দামও বেড়েছে।

বাজার করতে আসা ফাহিম বলেন, রমজান এলেই দোকানিদের শুরু হয় মূল্যবৃদ্ধির প্রতিযোগিতা। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রব্যমূল্যের স্থিতিশীলতার কথা বলা হলেও বাজারে এসে দেখা যায় ভিন্ন। বাজার মনিটরিং করতে ম্যাজিস্ট্রেট আসার খবর শুনে দোকানিরা পণ্যের দামের তালিকা ঝুলান। আবার ম্যাজিস্ট্রেট যখন বাজার থেকে চলে যান তখন তাদের সেই পুনরাবৃত্তি দেখা যায়। তাদের এমন কর্মকাণ্ডে মধ্যবিত্তরা পড়েছে বিপাকে। চাই দ্রুত ও স্থানীয় সমাধান। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, হঠাৎ কেনাকাটা বেড়ে গেলে এটি খুচরা পর্যায়ে প্রভাব ফেলে। আড়তগুলোতে বিভিন্ন পণ্যের ঘাটতি রয়েছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম। তাই খুচরা পর্যায়ে দাম একটু বেশি। কয়েকদিন গেলেই আবার সব ঠিক হয়ে যাবে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সাজ্জাত হোসেন জানান, এ রমজানে নিত্যপণ্যের দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে জেলা প্রশাসন ব্যাপক তৎপর রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা জেলার সবগুলো বাজার নিয়ন্ত্রণ রাখতে তৎপর রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন