অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ অপরিহার্য

পীর সাহেব মশুরীখোলা দরবার শরীফ

অসাধু ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ অপরিহার্য

ফন্ট সাইজ:

সারা বিশ্বের ব্যবসায়ীদের কাছে রমজান আল্লাহ্ পাকের নৈকট্য লাভের মাহেন্দ্রক্ষণ। তাই তারা দ্রব্যমূল্য কমিয়ে, মুনাফা কম করে রোজাদারদের জন্য। আর বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা রোজাদারদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রে দাম কয়েকগুণ বাড়িয়ে দেয়। মাহে রমজান যেন ব্যবসায়ীদের জন্য অতি মুনাফা লাভের মাস হয়ে ওঠে। সরকারও ব্যবসায়ীদের খুশি রাখতে কেবল সতর্কবার্তা দিয়ে দায় সারেন। কারণ বাংলাদেশের রাজনীতি এখন ব্যবসায়ী নির্ভর। ব্যবসায়ীরা বাংলাদেশের দলীয় রাজনীতির বড় অংশীজন। নতুন সরকারের জন্য বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সিন্ডিকেট ভেঙে দেয়া এককভাবে কঠিন। তবুও জনগণের কষ্ট লাঘবে এ বিষয়ে সরকারের উদ্যোগ অপরিহার্য। সরকার জনগণ হতেই নির্বাচিত, তাই জনণগকেও সরকারকে সহযোগিতা করতে হবে। আর ব্যবসায়ীদেরও ইনসাফের সঙ্গে হালালপন্থায় ব্যবসায় মনোনিবেশ করতে হবে। হযরত কেবলা নিজেও একজন ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি নীতি ও ইনসাফের মানদণ্ডে ব্যবসা পরিচালনা করতেন। অন্যের প্রতি জুলুমের টাকায় দ্বীনি খেদমতের চেয়ে বড় প্রতারণা আর কিছু নেই। প্রত্যেক মসজিদ হতে এই বয়ান সমাজ বদলের দর্পণ হতে পারে। গতকাল ঢাকার ২০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী মশুরীখোলা দরবার শরীফের প্রতিষ্ঠাতা বাংলা ত্রয়োদশ শতাব্দীর মহান সংস্কারক হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.)’র প্রতিষ্ঠিত ১৫৬তম বাৎসরিক ওরশ মোবারকে সভাপতির বক্তব্যে বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি সাইফুজ্জামান (মাদ্দা জিল্লুহুল আলী) এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, মশুরীখোলার হযরত কেবলা শাহ মুহাম্মদ আহসানুল্লাহ (রহ.) শরিয়তের অনুসরণ, তরিকতের দীক্ষাকে কাজে লাগিয়ে আত্মশুদ্ধি অর্জন ও মানবতার খেদমতের মধ্যদিয়ে মানবিক এবং ইনসাফপূর্ণ সমাজ গঠনে আজীবন কাজ করে গেছেন। তার দেখানো পথে দুই শাহজাদার পর প্রজন্মের যোগ্য উত্তরসূরি হিসেবে হযরত কেবলার নাতি হযরত শাহ মুহাম্মদ আহসানুজ্জামান (রহ.) নিরলস খেদমত চলমান রেখে গেছেন। দীর্ঘ চার প্রজন্মের খেদমতের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আমরাও কাজ করে যাবো। ইনশাআল্লাহ্। বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব কেবলা বাংলাদেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের স্বার্থকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দিয়ে কাজ করার জন্য নতুন সরকারের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা নিয়ামুল ইসলাম ও মশুরীখোলা শাহসাহেব বাড়ি জামে মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা গোলাম মোস্তফার সঞ্চালনায় হযরত শাহ আহসানুল্লাহ (রহ.) কমপ্লেক্সের সভাপতি হযরত শাহ মুহাম্মদ মোহসেনুজ্জামান, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদ্রাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ড. সৈয়দ শাহ এমরান, চট্টগ্রাম বেতাগী আস্তানা শরীফের পীর সাহেব মাওলানা গোলামুর রহমান আশরাফ শাহ, দারুল উলুম আহসানিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মুফতি আবু জাফর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, উপাধ্যক্ষ মাওলানা আবদুল কুদ্দুস, মাওলানা আবুল বাশার, প্রফেসর আব্দুর রাজ্জাক, শাহ মুহাম্মদ মোজাম্মেলসহ হযরত কেবলার খলিফাগণের দরবারের প্রতিনিধি, কমপ্লেক্সের অধিভুক্ত প্রতিষ্ঠানের প্রধান, মশুরীখোলা আঞ্জুমানে আহসানিয়া বাংলাদেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার দায়িত্বশীলগণ উপস্থিত ছিলেন।
ওরশ মোবারক উপলক্ষে দিনব্যাপী খতমে কোরআন, জিকির আজকার, কোরআন-হাদিসের আলোকে বিষয়ভিত্তিক বয়ান, মিলাদ ও মোনাজাতের মধ্যদিয়ে শেষ হয় ১৫৬তম এ আয়োজন। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে আখেরি মোনাজাত পরিবেশন করেন বর্তমান গদ্দিনেসীন পীর সাহেব হাফেজ মাওলানা মুফতি সাইফুজ্জামান (মাদ্দা জিল্লুহুল আলী)।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন