নতুন শুল্ক নীতির প্রস্তাব

যুক্তরাষ্ট্রে উদ্বেগে বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা

ফন্ট সাইজ:

মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি দপ্তরের নতুন শুল্ক নীতি প্রস্তাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে যথেষ্ট পদক্ষেপ না নেয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর নতুন ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকা। এতে যুক্তরাষ্ট্রের দুই শীর্ষ ব্যবসায়ী সংগঠন আমেরিকা-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পক্ষ থেকে সরকারকে দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ নেয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গত ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের আগের অনেক শুল্ক ব্যবস্থা বাতিল করে দেয়ার পর এটি দ্বিতীয়বারের মতো নতুন আমদানি শুল্ক ঘোষণার ঘটনা।

নতুন এই অভিযোগে শুল্ক আরোপের প্রস্তাব নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি ব্যবসায়ীরা। তারা বলছেন, মুক্ত বাজার অর্থনীতিতে বিশ্বাসী দেশ হিসেবে বাংলাদেশ কখনোই জোরপূর্বক শ্রম প্রয়োগ করেনি। ৬০টা দেশের ওপরে যে কর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে তা যদি কার্যকর হয়, তাহলে মার্কিন জনগণকেই সেই ট্যাক্স পে করতে হবে। কারণ এখন যেটা ১০ ডলারে পাওয়া যায় সেটা তখন ১২ ডলার হয়ে যাবে। আমেরিকান বাংলাদেশ চেম্বার অব কর্মাস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ চেয়ারম্যান গিয়াস আহমেদ মানবজমিনকে জানান, ২০০৫ সালেও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে গার্মেন্টসে শিশু শ্রম ব্যবহার করার অভিযোগ আনা হয়েছিল।

কিন্তু ককাসের মাধ্যমে কংগ্রেসে যায় বাংলাদেশ, পরবর্তীতে শুনানি হওয়ার পর বিল পাস হয়নি। তবে ২২শে জুনের মধ্যে বাংলাদেশ যদি সমস্ত কাগজপত্র দিয়ে ডিফেন্ড না করে হেরে যায় এবং এশিয়ান অন‍্য দেশগুলো অভিযোগ থেকে মুক্তি পায় তাহলে বাংলাদেশের জন্য একটি বিপদ সংকেত দেখা দেবে। তাই এখন থেকেই বাংলাদেশ সরকারের প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি । যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট লিটন আহমেদ মানবজমিনকে জানান, বাংলাদেশে শ্রমমান, কর্মপরিবেশ এবং শিল্পখাতে গত এক দশকে ব্যাপক অগ্রগতি হয়েছে। বিশেষ করে পরিবেশবান্ধব বা গ্রিন শিল্প প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের নেতৃত্বের বিষয়টি ইউএসটিআরের কাছে উপস্থাপন করা উচিত বলেও মনে করেন ব‍্যবসায়ী নেতারা।

ব‍্যবসায়ীরা বলছেন, এফবিসিসিআই, বিকেএমইএ এবং বিজিএমইএকে একযোগে কাজ করে আগামী ২২ জুনের মধ্যে ইউএসটিআরের কাছে ইতিবাচক তথ্য ও বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে হবে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বাণিজ্য ও পররাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকেও সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান তারা। মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শুধু বাংলাদেশের জন্য নয় বিশ্ব বাণিজ্যে, বিশেষ করে তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল খাতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে । তবে এ জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে বলে মনে করেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন