মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার

কমপক্ষে ৩০ জনের অভিযোগ

মেডিকেলের ছাত্রীরা বছরের পর বছর যৌন হয়রানির শিকার

ফন্ট সাইজ:

চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার সময় বারবার যৌন হয়রানি ও হুমকির শিকার হতে হয়েছে একজন স্নাতকের ছাত্রীকে। একই ধরনের নির্যাতনের অভিযোগ আরও ৩০ জন ছাত্রী তুলেছেন। ২৪ বছর বয়সী শার্লট জানান, ফোনে বারবার অজ্ঞাত পরিচয়ের ব্যক্তিরা তাকে টার্গেট করেছে। অন্য শিক্ষার্থীদেরও ভোরবেলায় পুরুষরা ফোন করে ‘যৌনতার অনুরোধ’ করে বা লিঙ্গভিত্তিক অপমানসূচক ভাষায় চিৎকার করে হয়রানি করেছে। এসব অভিযোগ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে একটি উন্মুক্ত চিঠি লিখেছেন শার্লট। সেখানে মেডিকেল সায়েন্সেস স্কুলে বিদ্যমান লিঙ্গবৈষম্য নিয়ে আনুষ্ঠানিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, অভিযোগগুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং একটি আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু হয়েছে। এ খবর দিয়েছে অনলাইন বিবিসি।

শার্লট ছয় বছর ধরে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং তার চিঠিতে ইতিমধ্যে ১০০০-এর বেশি স্বাক্ষর রয়েছে। তিনি বলেন, নারীরা অজ্ঞাত নম্বর থেকে ফোন পেয়ে ভয়ভীতি ও যৌন হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তিনি তার চিঠিতে লিখেছেন, এ ধরনের ঘটনা ভোরবেলায় ঘটে। এ সময়টা তারা সবচেয়ে বেশি দুর্বল অবস্থায় থাকে। তখন তাদের বলা হয় তারা নজরদারিতে আছে, অথবা যৌন অনুরোধ করা হয়, কিংবা লিঙ্গভিত্তিক গালি দেয়া হয়। তার মতে, আমাদের মেডিকেল স্কুলে এই ঘটনা অন্তত ২০২৩ সাল থেকে ঘটছে। তিনি জানান, অভিযোগগুলো নিয়ে পুলিশের কাছে যে রিপোর্ট করা হয়েছিল, সেখানে ১৫ জন নারী শিক্ষার্থী যুক্ত ছিলেন এবং পরে আরও ১৫ জন সামনে আসেন।

শার্লট বলেন, “আমি নিজেও ফোনে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছি এবং এটি বহু বছর ধরে নারীদের সঙ্গে ঘটছে। তিনি নিজের পরিচয় প্রকাশ করে কথা বলেছেন। জানান, কিছু নারী শিক্ষার্থী পরে হাসপাতালের ক্লিনিকাল প্লেসমেন্টের সময় সরাসরি হয়রানির শিকার হয়েছেন। শার্লট বলেন, আমরা যত বেশি এগোচ্ছি, অভিযোগগুলো ততই আরও ভয়াবহ হয়ে উঠছে। তার অভিযোগ, পুরুষরা বলছে তারা হাসপাতালের সিস্টেম থেকে আমাদের তথ্য পেয়েছে, বা ক্যাম্পাসে আমাদের দেখেছে। অন্য এক সাবেক ছাত্রী জানান, প্লেসমেন্ট চলাকালে একজন কনসালট্যান্ট সার্জন তারও ওপর যৌন নির্যাতন চালায়। কিন্তু অভিযোগ জানাতে গেলে তাকে বলা হয় চুপ থাকতে। কারণ একজন ছাত্রীর কথা বনাম একজন বিশ্বখ্যাত বিশেষজ্ঞের কথার মধ্যে প্রমাণ হিসেবে তার অবস্থান দুর্বল হবে।

শার্লট বলেন, প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়েই আমার মতো একজন নারী আছেন এবং অনেক দশক ধরেই এমনটা চলছে। পরিবর্তন দরকার। তিনি বলেন, এটা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। এখনও তাই আছে।

এটি এমন সময় সামনে এলো যখন ইংল্যান্ডের বিশ্ববিদ্যালয় খাতে প্রথমবারের মতো করা একটি জরিপে হাজার হাজার শিক্ষার্থী যৌন সহিংসতা ও হয়রানির শিকার হওয়ার কথা জানিয়েছে। অফিস ফর স্টুডেন্টস জানায়, জরিপে অংশ নেয়া প্রতি চারজনের মধ্যে একজন যৌন হয়রানির অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। বৃটিশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) জানায়, তারা ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের এই উদ্বেগজনক অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হয়েছে। তাদের মতে, এ ঘটনা ভয়াবহ এবং মেডিকেল স্কুল বা শিক্ষার কোনো জায়গায় এর স্থান নেই। বিএমএ আরও জানায়, এই ঘৃণ্য আচরণ হাজার হাজার মেডিকেল শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা ও মর্যাদার অধিকার লঙ্ঘন করছে।

একটি সাম্প্রতিক বিএমএ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ৮৪ শতাংশ অংশগ্রহণকারী মনে করেন মেডিকেল শিক্ষায় লিঙ্গবৈষম্য একটি বড় সমস্যা। ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জীববিজ্ঞান, মেডিসিন ও স্বাস্থ্য অনুষদের ডিন প্রফেসর অ্যাশলি ব্লম বলেন, উত্থাপিত বিষয়গুলো অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং আমরা এগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তিনি বলেন, আমাদের কোনো সদস্যই এমন আচরণের শিকার হওয়া উচিত নয় যা তাদের অনিরাপদ, ভীত বা হয়রানির মধ্যে ফেলে। তিনি আরও বলেন, আমাদের অগ্রাধিকার হলো ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। আমরা ইতিমধ্যে নির্দিষ্ট অভিযোগগুলোর ওপর আনুষ্ঠানিক তদন্ত শুরু করেছি এবং পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও কাঠামোগত সমস্যাগুলোর ওপরও একটি বিস্তৃত পর্যালোচনা চালাচ্ছি।

ট্যাগসমূহ:

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন