নারী ফুটবলারদের নিয়ে কিম জং উনের উদযাপনের ভিডিও ভাইরাল

নারী ফুটবলারদের নিয়ে কিম জং উনের উদযাপনের ভিডিও ভাইরাল

ফন্ট সাইজ:

এএফসি উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স লীগের শিরোপা জিতে ইতিহাস গড়েছে উত্তর কোরিয়ার নারী ফুটবল ক্লাব ‘নেগোহিয়াং উইমেন্স এফসি’। এশিয়ার ক্লাব ফুটবলের এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টে উত্তর কোরিয়ার কোনো ক্লাব হিসেবে এটিই প্রথম শিরোপা জয়ের কীর্তি। ঐতিহাসিক এই সাফল্যের পর দলের ফুটবলারদের সঙ্গে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের উদযাপনের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এখন তুমুল ভাইরাল। ভিডিওতে দেখা যায়, সাধারণত কঠোর ও গম্ভীর হিসেবে পরিচিত কিম জং উন বেশ চওড়া হাসিতে নারী ফুটবলারদের অভিনন্দন জানাচ্ছেন। রাষ্ট্রপ্রধানের কাছ থেকে এমন উষ্ণ অভ্যর্থনা ও ভালোবাসা পেয়ে নেগোহিয়াং ক্লাবের ফুটবলাররা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন, অনেকের চোখেই দেখা যায় আনন্দের অশ্রু।
দক্ষিণ কোরিয়ার সুওন শহরে অনুষ্ঠিত টুর্নামেন্টের ফাইনালে জাপানের শক্তিশালী ক্লাব ‘টোকিও ভেয়ার্ডি বেলেজা’-কে ১-০ গোলের ব্যবধানে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় নেগোহিয়াং। প্রথমার্ধের ঠিক শেষ মুহূর্তে দলের অধিনায়ক কিম কিয়ং ইয়ংয়ের করা একমাত্র গোলটিই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়। টুর্নামেন্টের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কারও পান এই গোলদাতা। এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার সুবাদে নেগোহিয়াং উইমেন্স এফসি আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য ‘ফিফা উইমেন্স চ্যাম্পিয়ন্স কাপ’-এ খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছে। বিশ্বের ছয়টি মহাদেশীয় চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টের শেষ চারটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে। এই জয়ের পর ক্লাবের প্রধান কোচ রি ইউ ইল উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘আমাদের বিশ্বমঞ্চে নিয়ে যাওয়ার পেছনে নেতার আন্তরিক ভালোবাসা, যত্ন ও আস্থার অবদান অনস্বীকার্য। এশিয়ার সেরা দল হিসেবে বিশ্বের বুকে পা রাখার এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে আমরা যে আবেগ ও রোমাঞ্চ অনুভব করছি, তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এবার আমাদের সামনে নতুন সব বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার পালা।’
খেলা শেষ হওয়ার পর মাঠে উত্তর কোরিয়ার জাতীয় পতাকা উড়িয়ে উদযাপন করেন নেগোহিয়াংয়ের ফুটবলাররা। দক্ষিণ কোরিয়ার কঠোর ‘জাতীয় নিরাপত্তা আইন’ অনুযায়ী যা সেখানে দীর্ঘকাল যাবত নিষিদ্ধ ও স্পর্শকাতর বিষয়। তবে মাঠে উপস্থিত দক্ষিণ কোরিয়ার প্রায় ১,২০০ দর্শকের একটি বিশেষ দল করতালি দিয়ে উত্তর কোরিয়ার মেয়েদের এই ঐতিহাসিক জয়কে স্বাগত জানায়। দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে মিউং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ (সাবেক টুইটার) নেগোহিয়াং উইমেন্স এফসি-কে আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়েছেন। তিনি লেখেন, ‘বলটি গোল এবং আমাদের আবারও দেখা হবে। আপনাদের পরবর্তী চ্যালেঞ্জের জন্য আমাদের পক্ষ থেকে জোরালো শুভকামনা।’

অবশ্য ম্যাচ পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কিছুটা রাজনৈতিক বিতর্কও তৈরি হয়। এক দক্ষিণ কোরিয়ান সাংবাদিক উত্তর কোরিয়াকে অফিশিয়াল নাম (ডি বি পি কে) না বলে কেবল ‘উত্তর পক্ষ’ বলে সম্বোধন করায় ক্ষুব্ধ হয়ে সংবাদ সম্মেলন বর্জন করে বেরিয়ে যান কোচ রি ইউ ইল এবং অধিনায়ক কিম কিয়ং ইয়ং। ২০১২ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া এই ক্লাবের কোরিয়ান নাম ‘নেগোহিয়াং’, যার বাংলা অর্থ ‘আমার জন্মভূমি’।

কোন মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যকারী হোন!

মন্তব্য করুন