যশোরের বেনাপোলে সাদিপুর সীমান্ত দিয়ে কাঁটাতারের বেড়া খুলে পুশইনের উদ্দেশ্যে জড়ো করা ১০ থেকে ১২ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে শূন্যরেখা থেকে সরিয়ে নিয়েছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। বুধবার সকালে তাদের সরিয়ে নেয়া হয় বলে জানিয়েছেন যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম।
এদিকে শূন্যুরেখা থেকে তাদের সরিয়ে নেয়ার পর সীমান্ত থেকে বিজিবির অতিরিক্ত সদস্যও প্রত্যাহার করা হয়েছে। বর্তমানে সীমান্তের ওই এলাকায় স্বাভাবিক টহল চলছে।
বিজিবি ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিএসএফ এসব নারী-পুরুষ ও শিশু বাংলাদেশি নাগরিক দাবি করে কোনো ধরনের দ্বিপক্ষীয় নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করেই বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। এরপর তারা সীমান্তের শূন্যরেখায় আটকে পড়েন। খোলা আকাশের নিচে রোদ-বৃষ্টি মাথায় নিয়ে জঙ্গলের মধ্যে অবস্থান করায় চরম দুর্ভোগে পড়েন তারা।
তবে আটকে থাকা নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশি নাগরিক-এমন কোনো গ্রহণযোগ্য প্রমাণপত্র বা তথ্য না পাওয়ায় তাদের গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানায় বিজিবি। নাগরিকত্ব যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে দেয়া হবে না বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় বিজিবি।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান আজ বুধবার বলেন, ‘গত রোববার থেকে বিভিন্ন গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে আমরা জানতে পারে পারি আমাদের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে পুশইনের সম্ভাবনা রয়েছে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির টহল ও জনবল বৃদ্ধি করা হয়। ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে বিজিবি সদস্যরা সর্তক অবস্থানে থাকেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিএসএফ কাঁটাতারের বেড়া খুলে ১০ থেকে ১২ জনকে বের করে দেয়। তারা শূন্যরেখা থেকে ভারত সীমান্তের ১০০-১৫০ গজ দূরে অবস্থান করেন। তাদেরকে আমরা কোনোভাবেই আমাদের সীমান্তে আসতে দেইনি। আজ বুধবার সকাল থেকে তাদেরকে আর দেখা যাচ্ছে না। হয়তোবা বৈরী আবহাওয়ার কারণে তারা ঝোপঝাড়ের মধ্যে অবস্থান করতে পারেন।’
