যুগান্তর
দৈনিক যুগান্তরের প্রথম পাতার খবর ‘কোন আদর্শে টিকে থাকবে এনসিপি’। প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতীয় নাগরিক পার্টিতে (এনসিপি) অন্য রাজনৈতিক দল থেকে অনেকেই যুক্ত হচ্ছেন। জামায়াত-শিবির, বিএনপি, আবার আওয়ামী ঘরানার সংগঠন থেকেও কেউ কেউ ঢাকঢোল পিটিয়ে যোগ দিচ্ছেন ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান থেকে গড়ে ওঠা দল এনসিপিতে। এদিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনও এগিয়ে আসছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অন্দরেও এর আঁচ পাওয়া যাচ্ছে। বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত এবং নিষ্ক্রিয় কোনো কোনো ‘নেতা’ও যোগ দিচ্ছেন এনসিপিতে।
ইতোমধ্যে ১১ দলীয় জোটে থাকা, সাবেক শিবিরনেতা এবং জামায়াত নেতার সন্তানদের অনেকেই এনসিপিতে সম্পৃক্ত হওয়ার ঘটনায় নানা প্রশ্ন উঠছে-নতুন দলটি কি আদর্শিকভাবে ডানপন্থার দিকে হাঁটছে। বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, এনসিপি শুরুতে যে প্রতিশ্রুতি ও আদর্শ নিয়ে রাজনীতির মাঠে নেমেছিল-বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি আর আদর্শের মধ্যে ফারাক দেখা যাচ্ছে। কেউ কেউ এনসিপিকে ‘জামায়াতের বি-টিম’ হিসাবেও আখ্যা দিচ্ছেন। তাছাড়া বিভিন্ন দলের সাবেক ও বহিষ্কৃত নেতা দলটিতে যুক্ত হওয়ায় আদর্শিকভাবেও এনসিপিকে টানাপোড়েনে ফেলবে-এমন আশঙ্কাও সামনে আসছে।
জানা যায়, সব মিলিয়ে দুই শতাধিক নেতাকর্মী ইতোমধ্যে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেছেন। পদত্যাগকারীদের অধিকাংশের ভাষ্য-মূলত জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে নির্বাচনি জোট গঠন এবং স্থানীয় কমিটি গঠনে অবমূল্যায়ন ও আর্থিক লেনদেন পদত্যাগের অন্যতম কারণ। রাঙামাটিতে দলটির প্রায় ৯০ জন নেতাকর্মী একযোগে পদত্যাগ করেন। চট্টগ্রামে আহ্বায়ক কমিটির বিরুদ্ধে পদ বাণিজ্যের অভিযোগ তুলে পদত্যাগ করেন ২২ নেতাকর্মী। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন থেকে শুরু করে গণ-অভ্যুত্থান, এনসিপি গঠন-সর্বস্থানে সোচ্চার উপস্থিতি ছিল যাদের, তাদের মধ্যে অনেকে পদত্যাগ করেছেন। দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির শীর্ষ নেতা খান মুহাম্মদ মুরসালীন, ডা. তাসনিম জারা, খালেদ সাইফুল্লাহ, তাজনূভা জাবীন, মুশফিক উস সালেহীন, ফারহাদ আলম ভূইয়া, আজাদ খান ভাসানী, আরিফ সোহেল, সর্দার আমিরুল ইসলাম, মীর আরশাদুল হকসহ অনেকেই দলটির সঙ্গে নেই। দল ছাড়ার অনেক কারণের মধ্যে জামায়াত ইস্যু ছিল উল্লেখযোগ্য।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান যুগান্তরকে বলেন, এনসিপি যে প্রতিশ্রুতি আর আদর্শ নিয়ে গঠিত হয়েছিল, বর্তমানে সেই প্রতিশ্রুতি আর আদর্শের মধ্যে খুব একটা নেই। নতুন বাংলাদেশ, নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তসহ নানা স্লোগান ছিল দলটির। এমন শত স্লোগান প্রতিফলিত না হয়ে পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তের কাছেই আত্মসমর্পণ করছে নতুন দলটি। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন থেকে রাজনৈতিক দল গঠন নিশ্চয়ই গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে আগের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুশাসন, দুর্নীতিমুক্ত এবং জনগণের কাছে অঙ্গীকারবদ্ধ রাজনীতি শক্তি হিসাবে বিকশিত হওয়ার কথা থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই দলটি প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। একই সঙ্গে দলটির অর্থের উৎসের অস্বচ্ছতা, দলবাজি, দখলবাজি, চাঁদাবাজিসহ নানা অভিযোগ তো আছেই।
ড. ইফতেখারুজ্জামান আরও বলেন, গণ-অভ্যুত্থানের পর যে গ্রেফতার বাণিজ্য, সেখানে দলটির নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। ৫ আগস্ট-পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় সরাসরি এনসিপিও ছড়িত ছিল। অর্থাৎ গঠনের পর থেকে নানাভাবে আদর্শিক বিচ্যুতির কারণে শীর্ষ নেতাদের কেউ কেউ দলটি ছেড়ে চলেও গেছেন। অনেকে আবার দলের ভেতরে থেকেও প্রতিবাদ করেছেন। বলা যেতে পারে, একটি রাজনৈতিক দল বিকশিত হওয়ার আগেই আদর্শগত আত্মপরিচয় গঠনের আগেই স্বপ্ন ভঙ্গ হয়ে যাচ্ছে।
এনসিপি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আত্মপ্রকাশ করে। তখনই দলটির শীর্ষ নেতারা বলেছিলেন, এনসিপি হবে একটি ‘গণতান্ত্রিক ও মধ্যপন্থি’ রাজনৈতিক দল। কিন্তু জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জামায়াতের সঙ্গে ঐক্যজোট ও বন্ধন দলের ভেতর-বাইরে নানা প্রশ্নের জন্ম দিতে থাকে। এনসিপি ডানপন্থি রাজনীতির দিকে গড়াচ্ছে কিংবা জামায়াতের বি-টিম বনে যাচ্ছে-এমন দৃশ্যপটে একেক করে শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ শুরু করেন। এ পর্যন্ত কেন্দ্রীয়, বিভাগীয় ও জেলা পর্যায়ে শতাধিক নেতা পদত্যাগ করেছেন।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এনসিপির সদস্য সচিব সংসদ-সদস্য আখতার হোসেন যুগান্তরকে সাফ জানিয়ে দিলেন, এনসিপি বামপন্থি কিংবা ডানপন্থি কোনো দল নয়। এনসিপি কখনো ডানপন্থি দল হবে না, এনসিপি আদর্শিক একটি দল। আমরা ডান-বাম এমন বিভাজনে ঢুকতে চাই না। আমরা আমাদের দেশের প্রশ্নে এক আছি, এক থাকতে চাই। আমরা উগ্র ইসলামপন্থি বা যে কোনো উগ্রত্ববাদী রাজনীতির মধ্যে কেউই নেই। এককথায়-এনসিপি তার স্বতন্ত্র রাজনীতিই করবে। ডানপন্থা-বামপন্থা রাজনীতির মধ্যে না গিয়ে এনসিপি জনগণকে ধারণ করে একটি মধ্যপন্থি রাজনীতি করছে এবং করবে। এনসিপির মধ্যে ধর্মীয় ভাবপন্থিও থাকবে, আবার ধর্মীয় উগ্রপন্থার বিরুদ্ধেও দলটি সব সময় সোচ্চার থাকবে।
আখতার হোসেন বলেন, এনসিপিকে ভালোবেসে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের যোগদান অব্যাহত রয়েছে। যারা যোগদান করছেন, তাদের পূর্বপরিচয় আমরা ধর্তব্য (বিবেচ্য) মনে করি না। যারা আমাদের দলে যুক্ত হচ্ছেন বা হবেন, তারা যে কোনো দলের কিংবা ডান-বাম, মধ্যপন্থি হতে পারেন। নিশ্চয় তাদের দলীয়পন্থি বাদ দিয়েই এনসিপিতে যুক্ত হচ্ছেন। আমরা সার্বিকভাবে মধ্যপন্থি রাজনীতিই করব। দেশ ও জনগণের রাজনীতি করব। তবে যারা যুক্ত হচ্ছেন কিংবা দলের মধ্যেই রয়েছেন, তারা যদি কৌশলে দলকে বাম-ডান কিংবা নিজেদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য চেষ্টা করেন, এনসিপি বিন্দুমাত্র ছাড় দেবে না। এক্ষেত্রে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে আছি এবং থাকবও।
এনসিপির নেতৃত্ব যদি দিনদিন আরও শক্তিশালী হয়, তাহলে নিশ্চয় এনসিপি এগিয়ে যাবে, বলছিলেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ড. দিলারা চৌধুরী। তার ভাষ্য-এনসিপি থেকে যেমন শীর্ষ নেতারা পদত্যাগ করেছে, তেমনই অন্যসব দল থেকেও শীর্ষ নেতারা যুক্ত হচ্ছে। তবে নতুন এ দলটির যে আদর্শ ও প্রতিশ্রুতি, তা ধারণ করতে হবে। নতুবা নতুন করে অন্য দল থেকে যুক্ত হওয়া ভারী হলেও কোনো কাজে আসবে না। এনসিপিকে মনে রাখতে হবে, দলটি গণ-অভ্যুত্থান থেকে সৃষ্টি। তরুণ সমাজের আকাঙ্ক্ষাকে অগ্রাধিকার দিয়ে দলকে এগিয়ে নিতে হবে। শীর্ষ নেতাদের কেন পদত্যাগ, কেন দল ছেড়ে চলে যাচ্ছে, তা দলের ভেতর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আলোচনা-সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মনে রাখতে হবে, যারা চলে যাচ্ছে, তারা দলের জন্য বীর ছিল। যারা আসছে, তারা বীর নাও হতে পারে।
এনসিপি ডানপন্থি রাজনীতির দিকে দ্রুত যাচ্ছে-এমন অভিযোগ তুলে ইতোমধ্যে অনেকেই এনসিপি ছেড়েছেন। দলটির ভেতরে আদর্শিক দ্বন্দ্ব এবং অবিশ্বাস থেকে এখনো অনেকে দল ছেড়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনের আগমুহূর্তে জামায়াতসহ ইসলাপন্থি দলগুলোর সঙ্গে জোট ইস্যুতে অনেক শীর্ষ নারী নেতা দলত্যাগ করেন। অনেকে নিষ্ক্রিয় হয়ে যান দলীয় কার্যক্রম থেকে। কয়েক মাস আগে এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব মীর আরশাদুল পদত্যাগ করে বিএনপিতে যোগ দেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তার এনসিপি ছাড়ার পেছনে অন্য অনেক কারণের মধ্যে জামায়াত ইস্যু উল্লেখযোগ্য।
তবে এনসিপির যুগ্ম-আহ্বায়ক মনিরা শারমিন যুগান্তরকে বলেন, এনসিপিকে জামায়াতের সঙ্গে মেলানো একেবারেই ঠিক নয়। এনসিপি শুধু নির্বাচনি ঐক্য করেছে জামায়াতের সঙ্গে। এনসিপি ডানপন্থির দিকে ঝুঁকে যাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। বিএনপিসহ অনেক রাজনৈতিক দল জামায়াতের সঙ্গে বছরের পর বছর জোটে ছিল। তিনি বলেন, এনসিপি একটি মধ্যপন্থি উদার গণতান্ত্রিক দল, যারা জামায়াতের মতো ডানপন্থি দলের সঙ্গে নয়, বরং স্বতন্ত্র শক্তিতে বিশ্বাসী।
প্রথম আলো
‘ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারা বাতিল হবে’-এটি দৈনিক প্রথম আলোর প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, সমস্যাগ্রস্ত পাঁচ ইসলামি ব্যাংকে বিতর্কিত মালিকদের ফেরার সুযোগ রাখবে না সরকার। অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের যে ধারায় এই সুযোগ রাখা হয়েছিল, সেটা বাতিল করার নীতিগত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বিএনপি সরকার গত ১০ এপ্রিল অন্তর্বর্তী সরকারের করা ব্যাংক রেজোল্যুশন অধ্যাদেশ আইনে পরিণত করে। আইনটি সংসদে পাসের আগে ১৮ (ক) নামে একটি নতুন ধারা যুক্ত করা হয়।
এই ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যাংক রেজোল্যুশনের আওতায় যাওয়ার আগে যাঁরা এর শেয়ার ধারক ছিলেন, তাঁরা চাইলে পরে আবার সেই ব্যাংকের শেয়ার, সম্পদ ও দায় নেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকে আবেদন করতে পারবেন। বাংলাদেশ ব্যাংক চাইলে অন্য কোনো উপযুক্ত ব্যক্তিকেও এ সুযোগ দিতে পারবে।
অবশ্য এর জন্য আবেদনকারীকে সরকার বা বাংলাদেশ ব্যাংকের দেওয়া সব অর্থ ফেরত দেওয়াসহ বিভিন্ন শর্ত পূরণের অঙ্গীকার করতে হবে।
ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনে নতুন ধারাটি যুক্ত করার পর বিতর্ক তৈরি হয়। সংসদে বিরোধী দলগুলো বলতে থাকে, এস আলমসহ বিতর্কিত ব্যবসায়ীদের হাতে ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণ ফিরিয়ে দিতেই এই ধারা যুক্ত করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের অধ্যাদেশ অনুযায়ী গত বছরের ২ ডিসেম্বর এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী—এই পাঁচ ব্যাংক একীভূত হয়ে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। এর মধ্যে নাসা গ্রুপের মালিকানাধীন এক্সিম ব্যাংক ছাড়া বাকি চারটিই ছিল এস আলম গ্রুপের নিয়ন্ত্রণাধীন।
বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয়ের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ মো. জাহিদ হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ১৮ (ক) ধারা বাতিল হলে তা হবে ভালো সংবাদ। তবে দেখতে হবে পুরোপুরি বাতিল হবে, নাকি বদলে আবার নতুন কিছু যুক্ত হবে।
বাতিল কেন
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিতর্কিত ধারাটি বাতিলের পেছনে কারণ মূলত দুটি। একটি হলো, সরকার সমালোচনার মুখে পড়েছে। অন্যটি বিশ্বব্যাংকের আপত্তি।
অর্থ মন্ত্রণালয় ও বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক সূত্র জানায়, ধারাটি বহাল থাকলে বিশ্বব্যাংক থেকে অন্তত ১৬৫ কোটি মার্কিন ডলারের ঋণসহায়তা পাওয়ার ব্যাপারে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সক্ষমতা বৃদ্ধি, খেলাপি ঋণ কমানোসহ আর্থিক খাত সংস্কার এবং সার ও জ্বালানি তেল আমদানিতে এই অর্থ ব্যয় করতে চায় সরকার।
ঋণসহায়তা দিতে ব্যাংক রেজোল্যুশন আইনের বিষয়ে কোনো শর্ত দেওয়া হয়েছিল কি না, তা জানতে চাওয়া হয়েছিল বিশ্বব্যাংকের কাছে। বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের বিভাগীয় পরিচালক জ্যঁ পেসমে লিখিত বিবৃতিতে গতকাল মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। একটি শক্তিশালী ও পর্যাপ্ত মূলধনসমৃদ্ধ ব্যাংক খাত, আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা, বেসরকারি খাতনির্ভর কর্মসংস্থান সৃষ্টি বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই পরিপ্রেক্ষিতে ব্যাংক রেজোল্যুশন-সংক্রান্ত আইনি কাঠামোকে আন্তর্জাতিক সর্বোত্তম চর্চার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। দুর্বল ও স্বল্প মূলধনসম্পন্ন ব্যাংকগুলোর সমস্যা কার্যকরভাবে মোকাবিলার জন্য এটি অপরিহার্য।
কালের কণ্ঠ
‘ব্যবসা ধসের মাশুল খেলাপি ঋণ’-এটি দৈনিক কালের কণ্ঠের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে ব্যবসা-বাণিজ্য-বিনিয়োগ প্রায় স্থবির ছিল। হামলা, মামলা, জ্বালাও-পোড়াও, মব সন্ত্রাস, অ্যাকাউন্ট জব্দ, হয়রানি, বিদেশযাত্রায় বাধাসহ নানা কারণে ব্যবসায়ী-উদ্যোক্তারা হতাশ-বিক্ষুব্ধ ছিলেন, যার প্রভাব পড়েছে ব্যবসা-বাণিজ্যে।
এর ফলে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যে খাটালেও পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় ব্যবসায় লোকসান বাড়ে। তখন ঋণের কিস্তি বা সুদ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে অনেক উদ্যোক্তার জন্য। এখনো ওই ধারা অব্যাহত রয়েছে। এর ধাক্কা লেগেছে খেলাপি ঋণে।
অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খেলাপিতে পরিণত হচ্ছে। তার প্রমাণ মিলেছে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রকাশিত মার্চভিত্তিক খেলাপি ঋণের প্রতিবেদনে। কারণ মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বেড়েছে খেলাপি ঋণ। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য মতে, গত ডিসেম্বর মাস শেষে ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল পাঁচ লাখ ৫৭ হাজার ২১৭ কোটি টাকা।
তবে ২০২৬ সালের মার্চ শেষে অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে ৩১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা বেড়ে মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে পাঁচ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা, যা মোট ঋণের ৩২.২৬ শতাংশ। বর্তমানে ব্যাংক খাতে মোট ঋণ স্থিতি ১৮ লাখ ২৪ হাজার ৬৬৮ কোটি টাকা।
বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘দীর্ঘদিন থেকে নানা ধরনের সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এর মধ্যে উচ্চ সুদের হার, ডলারের মূল্যবৃদ্ধি, আন্তার্জাতিক পর্যায়ে যুদ্ধ এবং আমাদের দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা অন্যতম। এত দিন কোনো নির্বাচিত সরকার ছিল না।
তাই বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধি তালানিতে নেমেছে। অন্তর্বর্তী সরকার কোনো বিনিয়োগ পরিবেশ তৈর করতে পারেনি। তাই আমরা ব্যবসাও করতে পারিনি। বেসরকারি খাতকে সহায়তা না করে সরকার ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা-বাণিজ্যের আরও ক্ষতি করেছে। তারা ছিল একটি ব্যবসাবিরোধী সরকার। শুধু বাণিজ্য খাত নয়, ওই সরকার ব্যাংকগুলোকে দুর্বল ঘোষণা করার মাধ্যমে পঙ্গু করে দিয়ে গেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এখন নির্বাচিত সরকার এসেছে। আগামী দুই বছরের মধ্যে বিনিয়োগ ঘুরে দাঁড়াবে বলে আমরা আশাবাদী। তবে নীতিগত সহায়তা ও আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও ভালো থাকা জরুরি। যদি যুদ্ধবিগ্রহ না থাকে তাহলে দেশের বিনিয়োগ পরিস্থিতির উন্নতি হবেই। ব্যাংক খাতেও স্বস্তি ফিরবে।’
সমকাল
দৈনিক সমকালের প্রথম পাতার প্রতিবেদন ‘করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা’। খবরে বলা হয়, ব্যক্তি শ্রেণির করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করেছে সরকার। এর অংশ হিসেবে ২০২৮-২৯ এবং ২০২৯-৩০ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা হবে চার লাখ টাকা। ২০৩০-৩১ অর্থবছরে করমুক্ত আয়সীমা বেড়ে হবে সাড়ে চার লাখ টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সময় চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর জন্য ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো প্রস্তাব দেয়। তবে ওই সীমা সাড়ে তিন লাখ টাকা বহাল রাখা হয়। তবে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য তিন লাখ ৭৫ হাজার টাকা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল। এটিই বহাল থাকছে।
আগামী অর্থবছরে কর হারেও পরিবর্তন আসবে। করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও যারা সীমার কিছুটা ওপরে থাকবেন, তাদের করের বোঝা কিছুটা বাড়তে পারে। কারণ, আগামী অর্থবছরে ৫ শতাংশের কর হার তুলে দেওয়া হতে পারে। এর পরিবর্তে যাদের বার্ষিক আয় পৌনে চার লাখ টাকার বেশি, তাদের করমুক্ত আয়সীমা পরবর্তী প্রথম তিন লাখ টাকার ওপর ১০ শতাংশ, চার লাখ টাকার ওপর ১৫
শতাংশ, পাঁচ লাখ টাকার জন্য ২০ শতাংশ, ২০ লাখ টাকার জন্য ২৫ শতাংশ এবং অবশিষ্ট আয়ের জন্য ৩০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা হতে পারে।
চলতি অর্থবছরে সাড়ে তিন লাখ টাকার বেশি প্রথম এক লাখ টাকার ওপর ৫ শতাংশ হারে কর দিতে হচ্ছে। বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা হলে তাকে বর্তমান নিয়মে পাঁচ হাজার টাকা কর দিতে হয়। আগামী বাজেটে যদি সর্বনিম্ন কর হার ৫ শতাংশ তুলে দেওয়া হয় এবং করদাতার বার্ষিক আয় সাড়ে চার লাখ টাকা হলে ৭৫ হাজার টাকার ওপর কর বসবে। আর সেই আয়ের ওপর যদি ১০ শতাংশ হারে কর বসে তাহলে তাকে দিতে হবে সাড়ে সাত হাজার টাকা।
বর্তমানে দেশে এক কোটি ২৮ লাখ কর শনাক্তকরণ নম্বরধারী (টিআইএন) রয়েছেন। তাদের মধ্যে চলতি অর্থবছরের মার্চ পর্যন্ত রিটার্ন দাখিল করেন প্রায় ৪৬ লাখ করদাতা। করদাতাকে রিটার্ন দেওয়ার সময় করমুক্ত আয়সীমা হিসাব করতে হয়।
এনবিআরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগামী অর্থবছরের বাজেটে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য নতুন পে স্কেল ঘোষণা করবে সরকার। পে স্কেল ঘোষণার পর মূল্যস্ফীতি বেড়ে যেতে পারে। সে জন্য কম আয়ের করদাতাদের স্বস্তি দিতে করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো হতে পারে।
অন্তর্বর্তী সরকার ‘জুলাইযোদ্ধা’ করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয় নির্ধারণ করে দিয়েছিল। তাদের ক্ষেত্রে করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করে। বর্তমান সরকার আগামী অর্থবছরের জন্য এটি বহাল রাখার পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়া কৃষি উৎপাদনকে উৎসাহিত করতে যে কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতার ‘কৃষি থেকে আয়’ পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত করমুক্ত রাখা হয়েছিল। এটি বহাল রাখা হতে পারে।
চলতি অর্থবছরের মতো আগামী করবর্ষেও চাকরিজীবী কর্মচারীদের কিডনি, লিভার, ক্যান্সার, হার্টের চিকিৎসার পাশাপাশি মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার ও কৃত্রিম অঙ্গ প্রতিস্থাপন-সংক্রান্ত চিকিৎসা ব্যয় বাবদ প্রাপ্ত অর্থকে সম্পূর্ণ করমুক্ত রাখা হতে পারে। একইভাবে আগামী অর্থবছরেও জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের আয়, জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষের সর্বজনীন পেনশন স্কিম থেকে প্রাপ্ত সুবিধাভোগীর যে কোনো আয় এবং জিরো কুপন ইসলামিক ইনভেস্টমেন্ট সার্টিফিকেট থেকে উদ্ভূত আয়কে করমুক্ত রাখা হতে পারে বলে জানা গেছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশের চেয়ারম্যান এম মাসরুর রিয়াজ সমকালকে বলেন, ২০২২ সাল থেকে মূল্যস্ফীতি বেশি হারে বাড়ছে। এখনও মূল্যস্ফীতি অস্বাভাবিক। অতএব করমুক্ত আয়সীমা এখনই বাড়ানো উচিত। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করে খুব বেশি লাভ হবে না। কারণ মূল্যস্ফীতি কমে এলে তখন করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানোর দরকার হবে না।
ইত্তেফাক
‘বাজেটে গরিব ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার’-এটি দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার প্রতিবেদন। খবরে বলা হয়, আসন্ন জাতীয় বাজেটের মূল দর্শন হচ্ছে অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ এবং দরিদ্র ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের মূলধারায় নিয়ে আসা বলে জানিয়েছেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বাজেটে সবচেয়ে বেশি বঞ্চিত হয়েছে নিম্ন আয়ের মানুষ। তাই আমরা বাজেটে প্রথমেই দরিদ্র, নিম্ন আয়ের জনগোষ্ঠী এবং গৃহিণীদের অগ্রাধিকার দিয়েছি।’ গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর পল্টনস্থ ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) আয়োজিত ‘বাজেট ২০২৬-২৭ :প্রত্যাশা ও বাস্তবতা’বিষয়ক এক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের জন্য স্বল্প সময়ে বাজেট প্রণয়ন একটি কঠিন চ্যালেঞ্জ। বিগত দুটি সরকারের রেখে যাওয়া ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে সরকার কাজ করছে। মন্ত্রী আরো বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতায় সরাসরি উপকারভোগীদের অ্যাকাউন্টে অর্থ স্থানান্তর করা হবে এবং এ প্রক্রিয়ায় কোনো রাজনৈতিক প্রভাব বা মধ্যস্বত্বভোগীর সুযোগ থাকবে না। যে পাইলট কর্মসূচি এবার বাস্তবায়ন হলো, তাতে বিচ্যুতির পরিমাণ এক থেকে দেড় শতাংশ।
তিনি বলেন, কৃষকদের জন্য ‘ফার্মার্স কার্ড’ চালুর মাধ্যমে খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের জীবনমান উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, দেশের মানুষ স্বাস্থ্যসেবায় নিজের পকেট থেকে অতিরিক্ত ব্যয় করছে। বাংলাদেশে ‘আউট অব পকেট এক্সপেন্ডিচার’ আফগানিস্তানের চেয়েও বেশি। এ কারণে সরকার ইউনিভার্সাল ও প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারি প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বেসরকারি খাত ও এনজিওগুলোকেও সম্পৃক্ত করা হবে। অর্থমন্ত্রী বলেন—কামার, কুমার, তাঁতি, ক্ষুদ্র কারুশিল্পী, থিয়েটারকর্মী ও সাংস্কৃতিক কর্মীদের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করতে ‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। তাদের জন্য দক্ষতা উন্নয়ন, ঋণ প্রদান, ডিজাইন সহায়তা, ব্র্যান্ডিং ও বাজারজাতকরণে সহযোগিতা দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, জিডিপি শুধু শিল্পকারখানা থেকে আসে না। সংস্কৃতি, ক্রীড়া, কারুশিল্পসহ সৃজনশীল খাতও অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারে। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, সরকারের লক্ষ্য হচ্ছে ‘ডেমোক্রেটাইজেশন অব ইকোনমি’ বা অর্থনীতির গণতন্ত্রীকরণ যেন দেশের সব মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের সুযোগ পায় এবং উন্নয়নের সুফল ভোগ করতে পারে।
ইআরএফ সভাপতি দৌলত আকতার মালার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ড. ফাহমিদা খাতুন, ইস্ট কোস্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান আজম জে চৌধুরী এবং বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ইআরএফ সাধারণ সম্পাদক আবুল কাসেম।
ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নিয়ন্ত্রণ ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অনুমোদন নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে। বিনিয়োগ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমিয়ে একটি ‘নিয়ন্ত্রণমুক্ত অর্থনীতি’ গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। যত সেবা আছে, নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে দিতে হবে, কোনো কমপ্রমাইজ নেই, ১৮/২০টা পারমিশর লাগে লাগুক, কোনো হ্যারেজমেন্ট চাই না, শুধু ব্যবসায়ী নয়, সব নাগরিকের জন্য করতে হবে।
নয়া দিগন্ত
দৈনিক নয়া দিগন্তের প্রধান শিরোনাম ‘এলডিসি উত্তরণে আরো ৩ বছর সময় পেতে পারে বাংলাদেশ’। খবরে বলা হয়, স্বল্পোন্নত দেশ বা এলডিসি থেকে চূড়ান্তভাবে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশকে আরো তিন বছর বাড়তি সময় দেয়ার সুপারিশ করেছে জাতিসঙ্ঘের কমিটি ফর ডেভেলপমেন্ট পলিসি (সিডিপি)। সুপারিশ অনুমোদন হলে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়তে পারে।
গতকাল মঙ্গলবার অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে সময় বাড়ানোর আবেদন করা হয়। পরে ৬ এপ্রিল জাতিসঙ্ঘ মহাসচিবের কাছে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে সিডিপি এই সুপারিশ করে।
সিডিপি জানিয়েছে, এলডিসি থেকে উত্তরণের জন্য নির্ধারিত তিনটি সূচকেই বাংলাদেশ প্রয়োজনীয় মানদণ্ড বড় ব্যবধানে ধরে রেখেছে। নিকট ও মধ্যমেয়াদে এসব মানদণ্ড থেকে বাংলাদেশের নিচে নেমে যাওয়ার ঝুঁকিও খুব কম।
তবে শক্তিশালী পারফরম্যান্স সত্ত্বেও মধ্যপ্রাচ্য সঙ্কট, বৈশ্বিক জ্বালানি ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘœ এবং পরিবর্তনশীল আন্তর্জাতিক বাণিজ্য পরিস্থিতির মতো বাহ্যিক চ্যালেঞ্জ বাংলাদেশের মসৃণ উত্তরণে প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছে সিডিপি। এ কারণেই প্রস্তুতির জন্য অতিরিক্ত সময় দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখছে কমিটি।
সিডিপির চেয়ারম্যান হোসে অ্যান্তোনিও ওকাম্পো বলেছেন, কমিটির মূল্যায়ন অনুযায়ী জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের মাধ্যমে বাংলাদেশের এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানো যথাযথ হবে। তবে এই বাড়তি সময়কে কাঠামোগত দুর্বলতা মোকাবেলা ও অভ্যন্তরীণ সংস্কার এগিয়ে নেয়ার সুযোগ হিসেবে কাজে লাগাতে হবে।
কমিটির মতে, উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় বাংলাদেশকে আর্থিক খাতের স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা, কর ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ আহরণ বাড়ানো, উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। একই সাথে এলডিসি-পরবর্তী পরিবেশের জন্য বেসরকারি খাতকে প্রস্তুত করার ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।
ইআরডি জানায়, জাতিসঙ্ঘের সাধারণ পরিষদ এই সুপারিশ অনুমোদন করলে বাংলাদেশ তার ‘স্মুথ ট্রানজিশন স্ট্র্যাটেজি’ বা মসৃণ উত্তরণ কৌশল বাস্তবায়নে অতিরিক্ত সময় পাবে। এতে বিশেষ বাণিজ্যিক সুবিধা ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক সহায়তা ব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ার আগে দেশটি নিজেকে মানিয়ে নেয়ার সুযোগ পাবে।
বণিক বার্তা
‘বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা আজ’-এটি দৈনিক বণিক বার্তার প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, দেশে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা হতে যাচ্ছে আজ। এতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনসহ (বিইআরসি) সংশ্লিষ্ট নির্ভরযোগ্য কয়েকটি সূত্র।
বিইআরসি বিদ্যুতের পাইকারি, সঞ্চালন ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ প্রস্তাবের বিষয়ে আজ বেলা ৩টায় তাদের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করবে বলে জানিয়ে গতকাল বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। মূল্যবৃদ্ধি ঘোষণা হলে ১ জুন থেকে তা কার্যকর হবে।
বিষয়টি নিয়ে জানতে যোগাযোগ করা হলে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ গতকাল রাতে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিদ্যুতের পাইকারি ও খুচরা মূল্যহার পুনর্নির্ধারণ প্রস্তাবের বিষয়ে আগামীকাল (আজ) কমিশনের সিদ্ধান্ত ঘোষণা করা হবে।’ তবে পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম কত শতাংশ পর্যন্ত বাড়বে জানতে চাইলে সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম সর্বোচ্চ ১৯ শতাংশ এবং খুচরা পর্যায়ে ১৫-২০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে শতাংশের হিসাবে তা হবে দেড় দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ২১ দশমিক ৪৬ ও খুচরা পর্যায়ে ১৪ দশমিক ১৬ শতাংশ বাড়ানো হয়েছিল, যা এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ বৃদ্ধি।
এর আগে বিদ্যুতের বাল্ক (পাইকারি) মূল্যহার বৃদ্ধির জন্য বিইআরসিতে প্রস্তাব দেয় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি), বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানি পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি ও বিদ্যুৎ বিতরণের ছয়টি কোম্পানি। তাদের প্রস্তাবের ওপর গত ২০ ও ২১ মে দুদিন গণশুনানি করে বিইআরসি।
বিপিডিবি পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ২০ পয়সা (১৭ শতাংশ) থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা (২১ শতাংশ) পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। এটি মূল্যায়ন করে বিইআরসির কারিগরি কমিটি গণশুনানিতে জানায়, বর্তমান দামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে প্রতি ইউনিটে বিপিডিবির ঘাটতি হবে ৫ টাকা ৪৭ পয়সা। এটি মেটাতে হলে ভারিত গড়ে ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ দাম বাড়ানো প্রয়োজন। তবে আগের ধারাবাহিকতায় সরকারের ভর্তুকি বিবেচনায় নিয়ে মূল্যহার নির্ধারণ করা যেতে পারে। বর্তমান দামে বিপিডিবির ঘাটতি হতে পারে প্রায় ৬০ হাজার ৩৯৯ কোটি টাকা।
বিপিডিবি তাদের প্রস্তাবে জানায়, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বিদ্যুতের সম্ভাব্য উৎপাদন ব্যয় পড়বে প্রায় ১ লাখ ৪৩ হাজার ১০৮ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের দাম পড়বে ১২ টাকা ৯১ পয়সার মতো। বিদ্যমান পাইকারি দামে বিদ্যুৎ বিক্রিতে আয় হবে ৭৭ হাজার ৫৫৩ কোটি টাকা। প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা বাড়ানো হলে ঘাটতি কমবে ১ হাজার ৩২৯ কোটি আর ১ টাকা ৫০ পয়সা (২১ শতাংশ) হারে দাম বাড়লে ঘাটতি কমবে ১ হাজার ৬৬৬ কোটি টাকা।
বিইআরসির নির্ভরযোগ্য একটি সূত্র জানিয়েছে, বিদ্যুতের পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি ২০ শতাংশের মধ্যেই থাকবে। তবে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছু বলতে চাননি সংস্থাটির কর্মকর্তারা।
সর্বশেষ ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে নির্বাহী আদেশে পাইকারি বিদ্যুতের গড় দাম ইউনিটপ্রতি ৬ টাকা ৭০ থেকে বাড়িয়ে ৭ টাকা ৪ পয়সা করা হয়েছিল।
আজকের পত্রিকা
দৈনিকব আজকের পত্রিকার প্রধান শিরোনাম ‘সন্ত্রাসী চক্রের দাপটে আতঙ্কে চিকিৎসকেরা’। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী চক্রের হামলা, হুমকিতে আতঙ্কে রয়েছেন চিকিৎসক-কর্মচারীরা। এসব প্রতিষ্ঠানে আউটসোর্সিং নিয়োগ, দরপত্র, চাঁদাবাজি, কর্মচারী সমিতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সন্ত্রাসী চক্রগুলোর আধিপত্য বিস্তারের বিরোধে লক্ষ্যবস্তু হচ্ছেন হাসপাতালের চিকিৎসক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে হাসপাতালগুলোর কিছু কর্মচারীর আঁতাত রয়েছে। কর্মচারী সমিতির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে সন্ত্রাসীদের গুলিতে বক্ষব্যাধি হাসপাতালের এক কর্মচারী নেতা খুন হয়েছেন। দুই হাসপাতালের উপপরিচালককে কোপানো হয়েছে। হামলার শিকার হয়েছেন কয়েকজন কর্মকর্তা। প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে কয়েকজনকে। হামলার পর কেউ বদলি হয়েছেন, কেউ কর্মস্থলে ফেরেননি।
এ পরিস্থিতিতে সরকার মহাখালীর হাসপাতালপাড়ায় পুলিশ ক্যাম্প স্থাপনের পরিকল্পনা করেছে। পাশাপাশি সব হাসপাতালে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হচ্ছে।
মহাখালীর বিভিন্ন হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মকর্তাদের সূত্র বলেছে, বাইরের সন্ত্রাসী চক্রের সঙ্গে হাসপাতালের কিছু কর্মচারীর যোগাযোগ থাকায় তাঁরা কর্মচারীদের নির্দেশ দিতে এবং কথা না শুনলে অভিযোগ করতে ভয় পান। মুহূর্তে তথ্য বাইরে চলে যাচ্ছে। এরপর বিদেশি নম্বর থেকে ফোন করে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মহাখালীর জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী জামাল হোসেন হত্যার নেপথ্যেও রয়েছে বাইরের সন্ত্রাসী চক্র ও হাসপাতালের কর্মচারীদের আঁতাত। জামালকে গত বছরের ১ আগস্ট রাতে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৫ আগস্ট তিনি মারা যান। তিনি হাসপাতালের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তাঁকে সমিতির অফিসের সামনেই গুলি করা হয়েছিল। পুলিশ বলছে, কর্মচারী সমিতির নিয়ন্ত্রণকে কেন্দ্র করে এই হত্যাকাণ্ড।
পুলিশ বলেছে, তদন্তে জামাল হত্যার নেপথ্যের ব্যক্তি হিসেবে নাম এসেছে মহাখালীর হাসপাতালপাড়ার দরপত্র নিয়ন্ত্রণকারী সন্ত্রাসী আজিজুল ওরফে রুবেলের।
এ ঘটনায় বনানী থানায় নিহত জামালের বোন দিলারা আক্তার শেপুর করা হত্যা মামলায় আজিজুল ওরফে রুবেলসহ আটজনকে আসামি করা হয়। এ ঘটনায় রতন মোল্লা, আফজালসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তবে তাঁরা দুই মাসের মধ্যে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। প্রধান আসামি আজিজুল ওরফে রুবেল পলাতক। অন্য আসামিরা আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন নিয়েছেন।
মামলাটি প্রথমে বনানী থানার পুলিশ এবং পরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগ তদন্ত করে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিহত জামাল হোসেন দীর্ঘদিন বক্ষব্যাধি হাসপাতালের কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। সেখানে দুটি পক্ষ রয়েছে। জামালকে আর নির্বাচন না করতে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তিনি নির্বাচনে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছিলেন। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যে ধারণা করা হচ্ছে, এ কারণেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে। মামলায় হাসপাতালের কয়েকজন কর্মচারীও আসামি। তাঁরা জামিনে আছেন। তবে হত্যাকাণ্ডে সরাসরি অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের এখনো শনাক্ত করা যায়নি।
দেশ রূপান্তর
‘৭ হাজার কোটির বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে এ কেমন ছেলেখেলা!’-এটি দৈনিক দেশ রূপান্তরের প্রধান শিরোনাম। খবরে বলা হয়, প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার এক রাষ্ট্রীয় বিদ্যুৎকেন্দ্র নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকার। ওই সরকারের প্রভাবশালী এক উপদেষ্টার কারণে গ্যাঁড়াকলে পড়েছে রূপসা ৮০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্র। দৈনিক মাত্র ৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস না দেওয়ায় কেন্দ্রটির টেস্টিং এবং কমিশনিং করা সম্ভব হয়নি। দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় কেন্দ্রটিতে এখন যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে।
খুলনায় সরকারি এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করেছে রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানি (এনডব্লিউপিজিসিএল)। বন্ধ নিউজপ্রিন্ট মিলের জমি থেকে ৫০ একর জমি নিয়ে কেন্দ্রটি গড়ে উঠেছে।
মন্ত্রণালয়, পেট্রোবাংলা এবং নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক আওয়ামী লীগ সরকারের নেওয়া কিছু প্রকল্প ব্যর্থ প্রমাণের প্রয়াস ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের।
রূপসা কেন্দ্রটি এজন্য বেছে নেওয়া হয়েছিল। রাষ্ট্রের ৬ হাজার ৭০০ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি বিবেচনায় নেয়নি তারা। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বেঁধে দেওয়া সময়ের বাইরে আর গ্যাস দিতে চাননি। যদিও এই অভিযোগ অস্বীকার করে উল্টো তিনি বলেছেন ‘আমিইতো গ্যাস দিতে বলেছিলাম’। অনুসন্ধান বলছে তিনি যেমন দিতে বলেছিলেন, আবার কাজ শেষ হওয়ার আগে বন্ধও করে দেওয়ার নির্দেশও দিয়েছিলেন। এতে কেন্দ্রটি এক বছর পড়ে থাকায় যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়েছে। এ প্রসঙ্গে ফাওজুল কবির খান বলেন, ‘আমি গ্যাস দিতে দিইনি কে বলছে? আমিইতো বলেছি, ওখানে গ্যাস সরবরাহ করে কেন্দ্রটি চালু করতে। এখন চলে এসেছি, এখন অনেকে অনেক কিছু বলবেন।’
সব প্রকল্পের ব্যয় বাড়লেও রূপসা ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করেছে : কেন্দ্র নির্মাণে মোট ব্যয় নির্ধারণ করা হয় ৮ হাজার ৪৯৮ কোটি টাকা। বাড়তি সময়সহ নানা কারণে যেখানে সব প্রকল্পের ব্যয় বৃদ্ধি পায়, সেখানে রূপসা বিদ্যুৎকেন্দ্র ২০ শতাংশ অর্থ সাশ্রয় করেছে। প্রকল্পটি শেষ করতে ব্যয় হয়েছে ৬ হাজার ৭৬২ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হয়েছে ১ হাজার ৭৯২ কোটি টাকা। এর সঙ্গে এনডব্লিউপিজিসিএল দিয়েছে ৭০ কোটি টাকা। বাকি ৪ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) কাছ থেকে সরকার ঋণ নিয়েছে। সরকারের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) এডিবির সঙ্গে ঋণ চুক্তি স্বাক্ষর করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কেন্দ্রটি পড়ে থেকে নষ্ট হলেও সরকারকে এডিবির ঋণ শোধ করতেই হবে। কেন্দ্রটি বিকল্প কী উপায়ে চালু রাখা যায়, সেই দিকটি সবার আগে বিবেচনা করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সহযোগীদের খবর
কোন আদর্শে টিকে থাকবে এনসিপি
অনলাইন ডেস্ক
অনলাইন
১ মাস আগে
৩ জুন (বুধবার), ২০২৬, ৯ঃ০৭ (পূর্বাহ্ণ)
লিংক কপি হয়েছে!
ফন্ট সাইজ:
100%
