ঢাকা প্রিমিয়ার লীগ ক্রিকেটে ঐতিহ্যবাহী ক্লাব মোহামেডান স্পোর্টিং এবং আবাহনী লিমিটেড গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে দাপুটে জয় তুলে নিয়ে শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান আরও সুসংহত করেছে। গতকাল ফতুল্লার খান সাহেব ওসমান আলী স্টেডিয়ামে ও মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দর্শকরা ব্যাটে-বলের দারুণ লড়াই উপভোগ করেন। যেখানে একদিকে ছিল রানের পাহাড়, অন্যদিকে ছিল বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্য এবং অলরাউন্ড পারফরম্যান্সের মহোৎসব। দিনের সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে জয় পেয়েছে গাজী গ্রুপ ক্রিকেটার্স, যারা শেষ বলের রোমাঞ্চে ঢাকা লিওপার্ডসকে পরাজিত করেছে। এছাড়া প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ও অগ্রণী ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব প্রতিপক্ষকে উড়িয়ে দিয়ে পুরো ২ পয়েন্ট নিজেদের পকেটে পুরেছে। তবে বৈরী আবহাওয়া ও মাঠ ভেজা থাকার কারণে বসুন্ধরা স্ট্রাইকার্স এবং রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবের মধ্যকার লড়াইটি গতকাল মাঠে গড়াতে পারেনি।
প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে আবাহনী ৫ উইকেটে ৩১৫ রানের বিশাল স্কোর গড়ে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১০২ রান করেন উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন। এছাড়া সাব্বির হোসেন ৪৫ রান এবং নাজমুল হোসেন শান্ত ৩৭ রান করেন। জবাবে গুলশান ক্রিকেট ক্লাব ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৪২ রানে অলআউট হয়ে যায়। এই ম্যাচটিতে আবাহনী ১৭৩ রানের এক বড় জয় পায়, যেখানে সেরা বোলার রকিবুল হাসান গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেন। আবাহনীর বোলারদের মধ্যে মোসাদ্দেক হোসেন ও মাহফুজুর রহমান দুর্দান্ত বোলিং করে প্রতিপক্ষের ব্যাটসম্যানদের দাঁড়াতে দেননি। গুলশানের পক্ষে জাকারিয়া ইসলাম শান্ত ভালো বোলিং করেন।
অন্যদিকে মোহামেডান টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৫ উইকেটে ৩৩৯ রানের পাহাড় গড়ে। তৌহিদ হৃদয় মাত্র ১০৬ বলে ১০১ রানের অনবদ্য ও অপরাজিত এক ইনিংস খেলেন এবং শেষে ইয়াসির আলী চৌধুরী ও মুশফিকুর রহীম অত্যন্ত দ্রুত রান তোলেন। আফিফ হোসেনও খেলেন ৬৯ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস। মোহামেডানের বোলারদের মধ্যে তানভীর ইসলাম ও আবু হায়দার অসাধারণ বোলিং করেন। জবাবে লিজেন্ডস মাত্র ২৩২ রানে গুটিয়ে গেলে মোহামেডান ১০৭ রানের বড় জয় নিশ্চিত করে। লিজেন্ডসের পক্ষে মেহেদি হাসান মিরাজ ২ উইকেট নেন। লিজেন্ডসের সেরা ব্যাটসম্যান শামীম বশির রাতুল প্রতিরোধ গড়লেও তা যথেষ্ট ছিল না। মোহামেডানের হয়ে বল হাতে ৭ ওভারে ৭১ রানে চার উইকেট নেন পেসার নাহিদ রানা। লিজেন্ডের হয়ে ১৫ বলে ফিফটি হাঁকান হাবিবুর রহমান সোহান। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে এটি দ্রুততম ফিফটি। এমন কীর্তি রয়েছে পারভেজ হোসেন ইমনেরও।
রানার এক ওভারে ২৬ রান নেন সোহান।
গাজীর লড়াকু জয়: দিনের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ম্যাচে লিওপার্ডস প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে মাত্র ১৫৩ রানে অলআউট হয়, যেখানে সৈকত আলী সর্বোচ্চ ৬৭ রান করেন এবং জাকির হাসান করেন ৪৫ রান। গাজী গ্রুপের সেরা বোলার মোহাম্মদ রুবেল দুর্দান্ত বোলিং করে ৬ উইকেট নেন। জবাবে গাজী গ্রুপ ৯ উইকেটে ১৫৪ রান তুলে মাত্র ১ উইকেটের শ্বাসরুদ্ধকর জয় পায়, যেখানে শোভন মোড়ল ৬৩ রান করে ম্যাচ সেরা হন এবং ইমন আলী করেন ৩১ রান। লিওপার্ডসের মঈন খান ৫ উইকেট নিলেও তা দলকে জেতাতে পারেনি।
মামুনের সেঞ্চুরিতে অগ্রণী ব্যাংকের চমক: গতকালের পঞ্চম ম্যাচে অগ্রণী ব্যাংক ৫ উইকেটের এক দুর্দান্ত জয় পেয়েছে। প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে সিটি ৬ উইকেটে ৩২৬ রানের এক বিশাল স্কোর সংগ্রহ করে। দলের পক্ষে সর্বোচ্চ ১৫১ রানের এক অসাধারণ টর্নেডো ইনিংস খেলেন আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া মিজানুর রহমান ৫৮ রান এবং অভিজ্ঞ আনামুল হক আনাম ৪৪ রান করেন। অগ্রণী ব্যাংকের পক্ষে বল হাতে শুভাগত হোম ও রবিউল অত্যন্ত নিয়ন্ত্রিত বোলিং করে প্রতিপক্ষকে বেশ চাপে রাখার চেষ্টা করেছিলেন। জবাবে অগ্রণী ব্যাংক দারুণ ব্যাটিং দৃঢ়তা দেখিয়ে ৪৯.৪ ওভারে ৫ উইকেটে ৩২৭ রান তুলে জয় নিশ্চিত করে। দলের পক্ষে সাদমান ইসলাম অত্যন্ত চমৎকার, মারকুটে ও অপরাজিত ৭৫ রানের এক দায়িত্বশীল ইনিংস খেলেন এবং মাহফিজুল ইসলাম করেন ১৪১ বলে ১৪৭ রান। অগ্রণীর হয়ে রবিউল হক ও সন্দীপ রায় দু’টি উইকেট নেন।
তানজিদ-শাহাদাতের জোড়া সেঞ্চুরিতে জয় প্রাইম ব্যাংকের: দিনের শেষ ম্যাচে প্রাইম ব্যাংক টসে হেরে প্রথমে ব্যাটিং করতে নেমে ৫ উইকেটে ৩৬৯ রানের পাহাড়সম স্কোর দাঁড় করায়। দলের পক্ষে ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম মাত্র ৯৩ বলে ১১৯ রানের মারকুটে সেঞ্চুরি ইনিংস উপহার দেন এবং শাহাদাত হোসেন দিপু খেলেন ১১১ বলে ১০৫ রানের ইনিংস। এছাড়া শামীম হোসেন পাটোয়ারী মাত্র ৩১ বলে ৫১ রানের এক ঝড়ো ইনিংস খেলেন। ব্রাদার্স বোলারদের মধ্যে হোসেন আলী ও গোলাম কিবরিয়া তাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। জবাবে ব্রাদার্স ব্যাটিং করতে নেমে তীব্র রান পাহাড়ের চাপে পড়ে এবং বৃষ্টি হানা দেয়ার আগে ২১ ওভারে ৫ উইকেটে মাত্র ৮৬ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়। ডাকওয়ার্থ-লুইস পদ্ধতিতে প্রাইম ব্যাংক এই ম্যাচে বড় ব্যবধানের জয় পায়। প্রাইম ব্যাংকের সেরা বোলার আলিস আল ইসলাম দুর্দান্ত বোলিং করে মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নেন এবং প্রতিপক্ষকে চেপে ধরেন। এই জয়ের ফলে চলমান ডিপিএল টেবিলের শীর্ষস্থানের লড়াই আরও জমে উঠলো ।
