গ্রামে তখন মোটে একটা টেলিভিশন। ডিয়েগো ম্যারাডোনা কিংবা লোথার ম্যাথিউসদের পায়ের জাদু দেখতে পুরো গ্রামের মানুষ হুমড়ি খেয়ে পড়তো সেই একটি টিভির সামনে। বোয়া ভিস্তা দ্বীপের পোভোয়াসাও ভেলহা নামের ছোট্ট সেই গ্রামে বসে শৈশবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বুনেছিলেন এক শিশু। নাম পেদ্রো লেইতাও ব্রিতো। ফুটবল ছেড়েছেন বহু আগে, বয়স এখন ৫৬ বছর। অবশেষে সেই সোনালী স্বপ্ন সত্যি হতে যাচ্ছে তার। তবে খেলোয়াড় হিসেবে নয়, কোচ হিসেবে! ফুটবলবিশ্ব তাকে চেনে ‘বুবিস্তা’ নামে। টানা ১১ বছর কেপ ভার্দে জাতীয় দলের অধিনায়কত্ব করা এই সাবেক ডিফেন্ডারের হাত ধরেই ২০২৬ বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবার খেলার টিকিট পেয়েছে আফ্রিকান দেশ কেপ ভার্দে। মাত্র ৫ লাখ জনসংখ্যার ছোট দেশটি এবার বিশ্বমঞ্চে বিশ্বজয়ের স্বপ্নে বিভোর।
ফিফাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে বুবিস্তা বলেন, ‘আমি যখন খুব ছোট ছিলাম, মা মোজা দিয়ে বল বানিয়ে দিতেন। সেই থেকে ফুটবল আমার জীবনের অংশ। বিশ্বকাপ আমাদের মতো ছোট দেশের মানুষের জন্য এক অবিশ্বাস্য সুযোগ। আমরা প্রমাণ করেছি, আপনি যতই ছোট হোন না কেন, সততা আর চেষ্টা থাকলে বিশ্বকাপ কাঁপানো সম্ভব।’ এবারের বিশ্বকাপে ‘এইচ’ গ্রুপে পড়েছে কেপ ভার্দে। যেখানে তাদের প্রতিপক্ষ পরাশক্তি স্পেন, দুবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং এশিয়ার শক্তিশালী দল সৌদি আরব।
১৫ই জুন স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের ঐতিহাসিক বিশ্বকাপ অভিযান। গ্রুপটি কঠিন হলেও মোটেও ভিত নন কেপ ভার্দের মাস্টারমাইন্ড। ক্যামেরুনের মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করে বিশ্বকাপে আসা বুবিস্তা বেশ আত্মবিশ্বাসী। তিনি বলেন, ‘আমরা বাছাইপর্ব পার হওয়ার সময়ই বলেছিলাম, বিশ্বের সেরা দলগুলোর মুখোমুখি হতে চাই। আমরা কোনো ভয় না পেয়ে নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটাই খেলবো। আমাদের হারানোর কিছু নেই।’
