অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসে নোটিশ প্রদানের ক্ষেত্রে অনিয়ম ও জালিয়াতির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে নতুন নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিসের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. নাসির উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়। আগামী ১৪ই জুন থেকে এসব নির্দেশনা কার্যকর হবে। বিষয়টি সম্পর্কে আইনজীবীদের অবহিত করতে বিজ্ঞপ্তির অনুলিপি বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক বরাবর পাঠানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিদ্যমান পদ্ধতির কিছু ত্রুটি এবং কতিপয় ক্লার্কের সঙ্গে অফিসের কিছু কর্মচারীর যোগসাজশে নোটিশ জালিয়াতির অভিযোগ কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। বিশেষ করে মঙ্গলবার অবকাশকালীন এনেক্স ভবনের ১৪ নম্বর আদালতে তালিকাভুক্ত কয়েকটি মামলার এফিডেভিটকৃত মূল আবেদনের টেন্ডার নম্বরের সঙ্গে নোটিশে উল্লেখিত টেন্ডার নম্বরের গরমিল ধরা পড়ে। পরে অন্যান্য মামলাতেও একই ধরনের অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয়। বিষয়টি আদালতের নজরে আনা হলে আদালত ওই দিনের ২৯, ৩০, ৩২, ৩৯, ৪৩, ৪৪, ৪৯, ৫৩, ৫৮, ৬০, ৬১, ৮৩, ১১১, ১১২, ১৮০ ও ১৮৪ নম্বর আইটেম ডিলিট করেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বিভিন্ন মামলায় সনাক্তকারী আইনজীবী এবং নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবীর মধ্যে বৈপরীত্য দেখা যাচ্ছে। ফলে সংশ্লিষ্ট মামলায় নিয়োজিত প্রকৃত আইনজীবীকে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। এ ধরনের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বিচারপ্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও সুনাম ক্ষুণ্ন করছে বলেও উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় বিচারিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে অ্যাটর্নি-জেনারেল অফিস ছয় দফা নির্দেশনা জারি করেছে।
নির্দেশনাগুলোর মধ্যে রয়েছে— মূল পিটিশনের সনাক্তকারী ও নোটিশে স্বাক্ষরকারী আইনজীবী একই ব্যক্তি হতে হবে, এফিডেভিট সম্পন্নের ৭ দিনের মধ্যে নোটিশ জারি করতে হবে, নোটিশে টেন্ডার নম্বর টাইপকৃত থাকতে হবে এবং এফিডেভিটের পর মূল আবেদনপত্রের (ব্লু কপি) ফটোকপি ও ওকালতনামার উভয় পৃষ্ঠা সংযুক্ত করতে হবে। এছাড়া কোনো মামলা এক আদালত থেকে অন্য আদালতে তালিকাভুক্ত হলে নতুন নোটিশের সঙ্গে পূর্ববর্তী আদালতে দাখিল করা নোটিশের অনুলিপি সংযুক্ত করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
