হঠাৎ করেই ছন্দ পতন নারী ফুটবলে। দারুণ খেলতে থাকা মনিকা-ঋতুপর্ণারা যেন নিজেদের হারিয়ে ফেলেছেন। চলমান সাফে যেন তাদের খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। প্রথম ম্যাচে মালদ্বীপকে ৪-২ গোলে হারালেও চিরায়ত ফুটবল খেলতে পারেনি বাংলাদেশের মেয়েরা। আর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে মেয়েদের খুঁজেই পাওয়া যায়নি। ম্যাচ শেষে কোচ পিটার বাটলার যা বললেন তা আরও ভয়ঙ্কর। এমনিতে গত সাফে কোচের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে বাদ পড়েছেন সাবিনা, কৃষ্ণা, মাসুরার মতো পরীক্ষিতরা। পিটার বাটলার এবার ঋতুপর্ণা, তহুরা, মনিকাদেরও শেষ দেখছেন! এতে করে অভিজ্ঞতাশূন্য হতে যাচ্ছে নারী ফুটবল দল। নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে কোচের এমন মন্তব্যে অসন্তোষ জেগেছে পুরো দলে।
২০২৪ সালে অক্টোবরে নেপাল সাফে ভারত ম্যাচের আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার বাটলার এবং দলের সিনিয়র ফুটবলারদের মধ্যে তীব্র দ্বন্দ্ব ও অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। মানসিক হয়রানি ও অপেশাদার আচরণের অভিযোগ তুলে কোচকে বয়কটের পাশাপাশি গণঅবসরের হুমকি দিয়েছিলেন সাবিনা খাতুনেরা। পরবর্তীতে বাফুফে মধ্যস্থতা করে পরিস্থিতি শান্ত করলেও দ্বন্দ্বের রেশ থেকে যায়। দ্বন্দ্বটা শুরু হয়েছে পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে। ওই ম্যাচে দলের দুই সিনিয়র ফুটবলারকে বাইরে রেখেই একাদশ সাজিয়েছিলেন পিটার বাটলার। তাদের অনুপস্থিতিতে দুর্বল পাকিস্তানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্রয়ের পরে কোচের একাদশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন মিডফিল্ডার মনিকা চাকমা। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে মিডিয়ায় বাটলার মেয়েদের সোশ্যাল মিডিয়ায় সময় বেশি দেওয়া নিয়েও কথা বলতে ছাড়েননি তিনি। এছাড়া সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের বিরুদ্ধে বানোয়াট অভিযোগ তোলেন। এ সবের পরও মেয়েরা চোয়ালভাঙা পণ করে মাঠে নেমে ঠিকই একে একে সব বাধা ডিঙিয়ে দেশকে দ্বিতীয়বারের মতো এনে দেন সাফ শিরোপা। দেশে ফেরার দিনই বাটলার জানিয়েছিলেন তিনি আর মেয়েদের সঙ্গে কাজ করবেন না।
পরে তাকে ফিরিয়ে এনে আবারো দলের দায়িত্ব দেয়া হয়। বাফুফের কর্তাদের কাছে মেয়েদের দাবি ছিল এই কোচকে বিদায় করার। সেই দাবি কানে তোলেননি ফুটবল কর্তারা। বলেছিলেন সমাধান করে দেবেন। সমাধান হয়নি কিছুই। এখনো দলের বাইরে সাবিনা-কৃষ্ণারা। এবারো সাফ চলাকালে দলের মধ্যে বিশৃঙ্খলা চরমে। দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমীর মদকাণ্ডে এমনিতেই ইমেজ সংকটে বাংলাদেশ দল। তারওপর ভারতের কাছে ৩-০ গোলে হারের পর কোচের মন্তব্যে মুখে কুলুপ এটেছেন মারিয়া-আফঈদারা। আগের ম্যাচে নেতৃত্ব হারানো আফঈদাকে ভারত ম্যাচে একাদশেই রাখেননি পিটার বাটলার। বুকের হালকা ব্যথা সেরে ওঠার পরও দুটি সাফ জয়ী অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার শিউলি আজিমকে খেলাননি এই বৃটিশ কোচ। তিনি সুযোগ দিয়েছিলেন সুরমা জান্নাতকে। তার ভুলেই ৭৭তম মিনিটে পেনাল্টি পায় ভারত। সফল স্পট কিকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন লিন্ডা কম ছেত্রো। কার্যত ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
উত্তুঙ্গ প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নেমে এমন হতাশাজনক ফলের পর বাংলাদেশ কোচ বললেন দু’রকম কথা। সেখানে পোড় খাওয়া দলের ঘুরে দাঁড়ানোর আশাবাদ যেমন থাকলো, দলের অন্দরে বোঝাপড়ার সুর-তাল কেটে যাওয়ার বার্তাও স্পষ্ট! তিনি বলেন, ‘যেখানে আশা আছে এবং যেখানে সম্ভাবনা আছে, সেখানে আমাদের সদিচ্ছা দেখাতে হবে। ২০২৪ সালে আমরা একবারে খাদের কিনারে দাঁড়িয়ে ছিলাম (পাকিস্তানের বিপক্ষে হারতে হারতে ড্র করেছিল দল), এবং সেখান থেকে আমরা ঘুরে দাঁড়িয়েছি ও কিছু মানুষকে অবাক করে দিয়েছি। আমাদের আরও ভালো খেলতে হবে। ভালো খেলতেই হবে। আমি মনে করি না, ভারতের বিপক্ষে আমাদের পারফরম্যান্স শারীরিক সক্ষমতার কোনো ঘাটতির কারণে। আমরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি, তবে আমাদের আরও পেশাদার হতে হবে। আমি পেশাদারিত্বের জন্য চেষ্টা করি, কিন্তু কিছু খেলোয়াড় সেই স্তরে পৌঁছানোর আকাঙ্ক্ষা করতে পারে না। আমি তা জানি। আবার কিছু খেলোয়াড়ের সেই স্তরে যাওয়ার ইচ্ছাটুকুও নেই। কিন্তু আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
যেমন, আমি কাউকে ওয়ার্ম-আপ করতে বললাম আর সে হেঁটে হেঁটে ওয়ার্ম-আপ জোনের দিকে গেল। আমি সবাইকে ঢালাওভাবে বলছি না, কিছু খেলোয়াড়কে ওয়ার্ম-আপ করতে বললে তারা দৌড়ে যাবে, তারা দ্রুত সেখানে গিয়ে কাজটি করবে। কারণ, তারা মাঠে ফিরে আসতে চায়।’ কিন্তু এবার প্রশ্ন একটাই দলের ভেতরের কোন্দল, আস্থাহীনতা ও বিভক্তির মধ্যেও কি মেয়েরা নিজেদের একত্রিত করে আবারও ঘুরে দাঁড়াতে পারবে? সেই উত্তর মিলবে সেমিফাইনালের মাঠেই।

MD Khan
১ মাস আগেআমি মনে করি দলে সাফল্য আসছে না এবার পিটার বাটলারের কারণে। আর তাছাড়া খেলাটা নারী ফুটবল দলের। এখানে একজন পুরুষ মানুষ মদ কান্ড কেন ঘটাবে ? এটা কি দৌলতদিয়া ফেরিঘাট নাকি ! তাকে শাস্তির আওতায় আনা হোক এবং দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করা হোক। নাহলে আম ছালা সব যাবে।