ঈদুল আজহার দীর্ঘ বিরতি শেষে আজ থেকে আবারো মাঠে গড়াচ্ছে ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লীগ (ডিপিএল)। মিরপুর শেরোবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামসহ নির্ধারিত ৬টি ভেন্যুতে একযোগে ম্যাচ মাঠে গড়াবে। এবারের আসরে প্রথম ৭ রাউন্ড শেষে ১২ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। সমান ১০ পয়েন্ট নিয়ে রান রেটের ব্যবধানে যথাক্রমে দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ স্থানে রয়েছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আবাহনী লিমিটেড, লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ এবং প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব। ঈদের ছুটির পর এই লীগ আরও জমজমাট হতে যাচ্ছে কারণ জাতীয় দলের তারকা ক্রিকেটাররা এবার যোগ দিচ্ছেন নিজ নিজ ক্লাবে।
গতকাল মিরপুরের শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে দলের প্রতিনিধি হয়ে মোহামেডানের প্রধান কোচ মিজানুর রহমান বাবুল দলের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন। লীগের এই রোমাঞ্চকর ক্ষণে তারকাদের ভেন্যুতে ফেরা নিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের দীর্ঘ ছুটিতে সবাই বেশ ফুরফুরে মেজাজে আছি। আমরা গতকাল অনুশীলনে সবাই একত্রিত হয়ে প্রস্তুতিতে প্রায় দেড় ঘণ্টা ঘাম ঝরিয়েছি। মাশাআল্লাহ সবাই ভালো ও পুরোপুরি ফিট আছে এবং তাসকিন আহমেদের পাশাপাশি জাতীয় দলের গতি তারকা নাহিদ রানা যুক্ত হওয়ায় আমাদের এই দল অনেক বেশি শক্তিশালী ও খুবই ভারসাম্যপূর্ণ।’
লীগ লিডার মোহামেডানের ড্রেসিংরুমে এখন দেশসেরা তারকাদের মেলা। এত বেশি তারকা নিয়ে চ্যাম্পিয়নশিপের চূড়ান্ত লড়াইয়ে একাদশের নিখুঁত ভারসাম্য কিংবা সেরা কম্বিনেশন খুঁজে নেয়া যেকোনো কোচের জন্যই এক মধুর সমস্যা ও বড় চ্যালেঞ্জ। তবে মাঠের বাইরের সমস্ত চাপ দূরে ঠেলে দলের এই দারুণ ভারসাম্য এবং ম্যাচ জেতানোর মতো একাধিক পারফর্মার থাকার বিষয়টিকে সবসময় ইতিবাচক ও স্বস্তিদায়ক হিসেবেই দেখছেন সফল কোচ বাবুল। তারকাদের সামলে সেরা একাদশ সাজানোর এই মধুর সমস্যা ও ম্যাচ জয়ের রণকৌশল নিয়ে এই মাস্টারমাইন্ড বলেন, ‘সমকক্ষ অনেক তারকা থাকলে কিছুটা সমস্যা হয় বৈকি। তবে দলের ছেলেরা সবাই অনেক ম্যাচিউরড এবং প্রত্যেকে জানে দলের জন্য কোন কম্বিনেশনটা দরকার। আমার কাছে দল সবসময় সবার আগে থাকে। জেতার জন্য যে সমন্বয় সবচেয়ে ভালো, আমি সেটাই বেছে নেই। চ্যাম্পিয়ন হতে রিজার্ভ বেঞ্চের শক্তি অনেক বড় ভূমিকা রাখে।’
লীগে এক ম্যাচ খেলেই জাতীয় দলের বিশেষ ক্যাম্পে ফিরতে পারেন নাহিদ রানা। দলের এই তরুণ পেসারের ম্যাচ খেলার সুযোগ এবং আসন্ন ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা প্রসঙ্গে মোহামেডান কোচ বাবুল বলেন, ‘নাহিদ আপাতত আগামীকালের ম্যাচটা খেলুক, তারপরে বোঝা যাবে সামনে কয়টি ম্যাচে খেলতে পারবে। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা আগামী ৫ তারিখ পর্যন্ত লীগের ম্যাচ খেলতে পারবে। আপাতত আমরা শুধু পরবর্তী ম্যাচটি নিয়েই পূর্ণ মনোযোগ দিচ্ছি এবং এই ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়ে মাঠে নামবো।’ লীগের শিরোপা লড়াইয়ে প্রতিটি ম্যাচই এখন অলিখিত ফাইনালে পরিণত হয়েছে। চার দলের পয়েন্টের ব্যবধান খুব বেশি না হওয়ায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান ধরে রাখা ঐতিহ্যবাহী মোহামেডানের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলেও দলের অভিজ্ঞ পারফর্মাররা এই তীব্র মানসিক চাপ সামলে লড়াই করতে পুরোপুরি প্রস্তুত।
মাঠের তীব্র লড়াইয়ের বাইরে বৈরী আবহাওয়া ও উইকেটের ভিন্নতা দলগুলোর জন্য বড় বাধা। তবে এই বৈরী কন্ডিশনের মাঝেও ক্রিকেটারদের জন্য দারুণ এক স্বস্তির খবর নিয়ে এসেছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা- বিসিবি। পূর্বে প্রতিটি ক্লাব নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খেলোয়াড়দের দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করলেও এবার ক্রিকেট বোর্ড নিজ দায়িত্বে লাঞ্চ সরবরাহ করছে। ডিপিএলের এই রুদ্ধশ্বাস চ্যাম্পিয়নশিপ ও আবাহনীর সঙ্গে হেড টু হেড পয়েন্টের সমীকরণ নিয়ে বাবুল বলেন, ‘চ্যাম্পিয়ন হতে আমাদের প্রতি ম্যাচ জিততে হবে। ছোট মাঠ, বৃষ্টি ও টস এ সময় বড় ফ্যাক্টর। কিন্তু রান রেটে এগিয়ে থাকতে আমরা চেষ্টা করেছি। আর আমরা আবাহনীর সাথে যদি না হারি, তবে হেড টু হেডের কোনো সমীকরণ আসবে না।’ মাঠের এই কঠিন হিসাব-নিকাশের বাইরে বিসিবির নতুন দুপুরের খাবার সরবরাহ নিয়ে তিনি বলেন, ‘এবার বিসিবির লাঞ্চ সরবরাহ করা দারুণ উদ্যোগ। আগে ক্লাবগুলোকে খাবার নিয়ে অনেক ভাবতে হতো, কিন্তু এবার খেলোয়াড়রা দুশ্চিন্তামুক্ত হয়ে খেলায় পূর্ণ মনোযোগ দিতে পারছে।’
